২৭/৩. অধ্যায়ঃ
কেয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৪৭৫-[১২]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫৪৭৫-[১২]
وَعَن النوَّاس بن سمْعَان قَالَ: ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الدَّجَّالَ فَقَالَ: «إِنْ يَخْرُجْ وَأَنَا فِيكُمْ فَأَنَا حَجِيجُهُ دُونَكُمْ وَإِنْ يَخْرُجْ وَلَسْتُ فِيكُمْ فَامْرُؤٌ حَجِيجُ نَفْسِهِ وَاللَّهُ خَلِيفَتِي عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ إِنَّهُ شَابٌّ قَطَطٌ عَيْنُهُ طَافِيَةٌ كَأَنِّي أُشَبِّهُهُ بِعَبْدِ الْعُزَّى بْنِ قَطَنٍ فَمَنْ أَدْرَكَهُ مِنْكُمْ فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ فَوَاتِحَ سُورَةِ الْكَهْفِ» . وَفِي رِوَايَةٍ «فَلْيَقْرَأْ عَلَيْهِ بِفَوَاتِحِ سُورَةِ الْكَهْفِ فَإِنَّهَا جوارُكم من فتنته إِنَّه خَارج خلة بِي الشَّامِ وَالْعِرَاقِ فَعَاثَ يَمِينًا وَعَاثَ شِمَالًا يَا عِبَادَ اللَّهِ فَاثْبُتُوا» . قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ وَمَا لَبْثُهُ فِي الْأَرْضِ؟ قَالَ: «أَرْبَعُونَ يَوْمًا يَوْمٌ كَسَنَةٍ وَيَوْمٌ كَشَهْرٍ وَيَوْمٌ كَجُمُعَةٍ وَسَائِرُ أَيَّامِهِ كَأَيَّامِكُمْ» . قُلْنَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ فَذَلِكَ الْيَوْمُ الَّذِي كَسَنَةٍ أَتَكْفِينَا فِيهِ صَلَاةُ يَوْمٍ. قَالَ: «لَا اقْدُرُوا لَهُ قَدَرَه» . قُلْنَا: يَا رسولَ اللَّهِ وَمَا إِسْرَاعُهُ فِي الْأَرْضِ؟ قَالَ: كَالْغَيْثِ اسْتَدْبَرَتْهُ الرِّيحُ فَيَأْتِي عَلَى الْقَوْمِ فَيَدْعُوهُمْ فَيُؤْمِنُونَ بِهِ فَيَأْمُرُ السَّمَاءَ فَتُمْطِرُ وَالْأَرْضَ فَتُنْبِتُ فَتَرُوحُ عَلَيْهِمْ سَارِحَتُهُمْ أَطْوَلَ مَا كَانَتْ ذُرًى وَأَسْبَغَهُ ضُرُوعًا وَأَمَدَّهُ خَوَاصِرَ ثُمَّ يَأْتِي الْقَوْمَ فَيَدْعُوهُمْ فَيَرُدُّونَ عَلَيْهِ قَوْله فَيَنْصَرِف عَنْهُم فيصبحون مملحين لَيْسَ بِأَيْدِيهِمْ شَيْءٌ مِنْ أَمْوَالِهِمْ وَيَمُرُّ بِالْخَرِبَةِ فَيَقُولُ لَهَا: أَخْرِجِي كُنُوزَكِ فَتَتْبَعُهُ كُنُوزُهَا كَيَعَاسِيبِ النَّحْلِ ثُمَّ يَدْعُو رَجُلًا مُمْتَلِئًا شَبَابًا فَيَضْرِبُهُ بِالسَّيْفِ فَيَقْطَعُهُ جَزْلَتَيْنِ رَمْيَةَ الْغَرَضِ ثُمَّ يَدْعُوهُ فَيُقْبِلُ وَيَتَهَلَّلُ وَجْهُهُ يَضْحَكُ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ الْمَسِيحَ بْنَ مَرْيَمَ فَيَنْزِلُ عِنْد المنارة الْبَيْضَاء شرقيّ دمشق بَين مهروذتين وَاضِعًا كَفَّيْهِ عَلَى أَجْنِحَةِ مَلَكَيْنِ إِذَا طَأْطَأَ رَأسه قطر وَإِذا رَفعه تحدرمنه مثل جُمان كَاللُّؤْلُؤِ فَلَا يحل لكافرٍ يَجِدَ مِنْ رِيحِ نَفَسِهِ إِلَّا مَاتَ وَنَفَسُهُ يَنْتَهِي حَيْثُ يَنْتَهِي طَرْفُهُ فَيَطْلُبُهُ حَتَّى يُدْرِكَهُ بِبَاب لُدٍّ فيقتُلُه ثمَّ يَأْتِي عِيسَى إِلى قَوْمٌ قَدْ عَصَمَهُمُ اللَّهُ مِنْهُ فَيَمْسَحُ عَنْ وُجُوهِهِمْ وَيُحَدِّثُهُمْ بِدَرَجَاتِهِمْ فِي الْجَنَّةِ فَبَيْنَمَا هُوَ كَذَلِكَ إِذْ أَوْحَى اللَّهُ إِلَى عِيسَى: أَنِّي قَدْ أَخْرَجْتُ عِبَادًا لِي لَا يَدَانِ لِأَحَدٍ بِقِتَالِهِمْ فَحَرِّزْ عِبَادِيَ إِلَى الطُّورِ وَيَبْعَثُ اللَّهُ يَأْجُوجَ وَمَأْجُوجَ (وَهُمْ مِنْ كُلِّ حَدَبٍ يَنْسِلُونَ) فَيَمُرُّ أَوَائِلُهُمْ عَلَى بُحَيْرَةِ طَبَرِيَّةَ فَيَشْرَبُونَ مَا فِيهَا ويمر آخِرهم وَيَقُول: لَقَدْ كَانَ بِهَذِهِ مَرَّةً مَاءٌ ثُمَّ يَسِيرُونَ حَتَّى يَنْتَهُوا إِلَى جَبَلِ الْخَمَرِ وَهُوَ جَبَلُ بَيْتِ الْمَقْدِسِ فَيَقُولُونَ لَقَدْ قَتَلْنَا مَنْ فِي الْأَرْضِ هَلُمَّ فَلْنَقْتُلْ مَنْ فِي السَّمَاءِ فَيَرْمُونَ بِنُشَّابِهِمْ إِلَى السَّمَاءِ فَيَرُدُّ اللَّهُ عَلَيْهِمْ نُشَّابَهُمْ مَخْضُوبَةً دَمًا وَيُحْصَرُ نَبِيُّ اللَّهِ وَأَصْحَابُهُ حَتَّى يَكُونَ رَأْسُ الثَّوْرِ لِأَحَدِهِمْ خَيْرًا مِنْ مِائَةِ دِينَارٍ لِأَحَدِكُمُ الْيَوْمَ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ فَيُرْسِلُ اللَّهُ عَلَيْهِمُ النَّغَفَ فِي رِقَابِهِمْ فَيُصْبِحُونَ فَرْسَى كَمَوْتِ نَفْسٍ وَاحِدَةٍ ثُمَّ يَهْبِطُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى الْأَرْضِ فَلَا يَجِدُونَ فِي الْأَرْضِ مَوْضِعَ شِبْرٍ إِلَّا مَلَأَهُ زَهَمُهُمْ وَنَتْنُهُمْ فَيَرْغَبُ نَبِيُّ اللَّهِ عِيسَى وَأَصْحَابُهُ إِلَى اللَّهِ فَيُرْسِلُ اللَّهُ طَيْرًا كَأَعْنَاقِ الْبُخْتِ فَتَحْمِلُهُمْ فَتَطْرَحُهُمْ حَيْثُ شَاءَ اللَّهُ «. وَفِي رِوَايَةٍ» تَطْرَحُهُمْ بِالنَّهْبَلِ وَيَسْتَوْقِدُ الْمُسْلِمُونَ مِنْ قِسِيِّهِمْ وَنُشَّابِهِمْ وَجِعَابِهِمْ سَبْعَ سِنِينَ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا لَا يَكُنُّ مِنْهُ بَيْتُ مَدَرٍ وَلَا وَبَرٍ فَيَغْسِلُ الْأَرْضَ حَتَّى يَتْرُكَهَا كَالزَّلَفَةِ ثُمَّ يُقَالُ لِلْأَرْضِ: أَنْبِتِي ثَمَرَتَكِ وَرُدِّي بَرَكَتَكِ فَيَوْمَئِذٍ تَأْكُلُ الْعِصَابَةُ مِنَ الرُّمَّانَةِ وَيَسْتَظِلُّونَ بِقِحْفِهَا وَيُبَارَكُ فِي الرِّسْلِ حَتَّى إِنَّ اللِّقْحَةَ مِنَ الْإِبِلِ لَتَكْفِي الْفِئَامَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْبَقَرِ لَتَكْفِي الْقَبِيلَةَ مِنَ النَّاسِ وَاللِّقْحَةَ مِنَ الْغَنَمِ لَتَكْفِي الْفَخْذَ مِنَ النَّاسِ فَبَيْنَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ بَعَثَ اللَّهُ رِيحًا طَيِّبَةً فَتَأْخُذُهُمْ تَحْتَ آبَاطِهِمْ فَتَقْبِضُ رُوحَ كُلِّ مؤمنٍ وكلِّ مسلمٍ وَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ يَتَهَارَجُونَ فِيهَا تَهَارُجَ الْحُمُرِ فَعَلَيْهِمْ تَقُومُ السَّاعَةُ رَوَاهُ مُسْلِمٌ إِلَّا الرِّوَايَةَ الثَّانِيَةَ وَهِيَ قَوْلُهُ: تَطْرَحُهُمْ بِالنَّهْبَلِ إِلَى قَوْلِهِ: سبع سِنِين . رَوَاهَا التِّرْمِذِيّ رواہ مسلم (111 ، 110 / 2937)، (7373 و 7374) و الترمذی (2240 وقال : غریب حسن صحیح) ۔ (صَحِيح)
নাওয়াস ইবনু সাম্'আন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দাজ্জালের আলোচনাকালে বললেন, যদি তার আগমন ঘটে আর আমি তোমাদের মাঝে বিদ্যমান থাকি, তখন তোমাদের মধ্যে আমিই তার সাথে দলীল-প্রমাণে বিজয়ী হব। আর আমি যদি বিদ্যমান না থাকি এবং তার আগমন ঘটে, তখন তোমাদের প্রত্যেক লোকই সরাসরি দলীল-প্রমাণে তার মোকাবিলা করবে। তখন প্রত্যেক মুসলিমের জন্য আমার পরিবর্তে আল্লাহ তা'আলাই হবেন সাহায্যকারী।সে হবে, একজন জোয়ান, মাথার চুল কোঁকড়ানো, ফোলা চক্ষুবিশিষ্ট। আমি তাকে (ইয়াহুদী) ‘আবদুল ‘উযযা ইবনু ক্বত্বান-এর সাথে তুলনা করতে পারি। অতএব কেউ তাকে পাবে, সে যেন তার সামনে সূরা আল কাহ্-এর শুরুর আয়াতগুলো পাঠ করে৷ অপর এক বর্ণনা আছে যে, সে যেন তার সামনে সূরা কাহ্ফ-এর প্রথমাংশ হতে পাঠ করে। কেননা এ আয়াতগুলো তোমাদেরকে দাজ্জালের ফিতনাহ্ হতে নিরাপদে রাখবে। সে সিরিয়া ও ‘ইরাক্বের মধ্যবর্তী পথ দিয়ে বের হবে এবং চলার পথে ডানে ও বামে ('র অঞ্চলসমূহ) ক্ষতিকর ফাসাদ সৃষ্টি করবে। হে আল্লাহর বান্দাগণ! তোমরা (ঈমান ও ‘আক্বীদায) দীনের উপর দৃঢ় থাকবে।আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! সে কতদিন জমিনে অবস্থান করবে? তিনি (ﷺ) বললেন, চল্লিশ দিন। তবে তখনকার একদিন হবে এক বছরের সমান এবং একদিন হবে এক মাসের সমান আর একদিন হবে এক সপ্তাহের সমান। আর অন্যান্য দিনগুলো হবে তোমাদের স্বাভাবিক দিনগুলোর মতো।আমরা প্রশ্ন করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! জমিনে তার চলার গতি কি পরিমাণ দ্রুত হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, সে মেঘের মতো যার পিছনে প্রবল বাতাস রয়েছে। অতঃপর সে কোন এক সম্প্রদায়ের কাছে আসবে এবং তাদেরকে (তার অনুসরণে) আহ্বান করবে। অতএব লোকেরা তার প্রতি ঈমান আনবে। তখন সে আকাশকে নির্দেশ করবে, ফলে জমিন (ঘাস- ফসলাাদি) উৎপাদন করবে। লোকেদের গবাদিপশু সন্ধ্যায় যখন ফিরবে, তখন উচ্চ কুঁজবিশিষ্ট এবং দুধে ওলান ভর্তি (অবস্থায়) কোমর টেনে ফিরবে।অতঃপর সে (দাজ্জাল) অপরদিকে আহ্বান করবে, কিন্তু তারা তার দাবি অস্বীকার করবে। তখন সে তাদের নিকট থেকে ফিরে আসবে। অতএব সে ক্বওমের লোকেরা মহাদুর্ভিক্ষে নিপতিত হবে। ফলে তাদের হাতে ধন-সম্পদ কিছুই থাকবে না। অতঃপর সে (দাজ্জাল) একটি অনাবাদ পতিত জায়গা অতিক্রম করবে এবং তাকে লক্ষ্য করে বলবে, তোমার ভিতরে যে সমস্ত গুপ্ত সম্পদ রয়েছে তা বের করে দাও। অতঃপর উক্ত ধন-সম্পদ এমনিভাবে তাদের পেছনে ছুটতে থাকবে, যেমনিভাবে মৌমাছির দল তাদের সরদার মৌমাছির পিছনে ছুটে চলে।অতঃপর দাজ্জাল যৌবনে পূর্ণাঙ্গ এক যুবককে তার প্রতি আহ্বান করবে, (কিন্তু তার প্রতি অস্বীকারের দরুন) দাজ্জাল তাকে তরবারির আঘাতে দ্বি-খণ্ডিত করে ফেলবে এবং উভয় খণ্ডকে এত দূরে দূরে নিক্ষেপ করবে যে, একটি নিক্ষিপ্ত তীরের দূরত্ব পরিমাণ তাদের মধ্যে ব্যবধান হবে। অতঃপর সে উভয় খণ্ডকে নিজের কাছে ডাকবে, ফলে ঐ যুবক জীবিত হয়ে তার সামনে উপস্থিত হবে, তখন তার মুখমণ্ডল হাস্যেজ্জ্বোল হয়ে উঠবে।যখন সে এ সকল কাণ্ডে লিপ্ত, ঠিক এমনি সময়ে আল্লাহ তা'আলা হঠাৎ ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ)- কে (আকাশ হতে) পাঠাবেন এবং তিনি দামিকের পূর্ব প্রান্তের শ্বেত মিনারা হতে হলুদ রঙের দু'টি কাপড় পরিহিত অবস্থায় দু'জন মালাকের (ফেরেশতার) পাখায় হাত রেখে অবতরণ করবেন। তিনি যখন মাথা নিচু করবেন তখন ফোঁটা ফোঁটা ঘর্ম ঝরবে, আর যখন মাথা উঁচু করবেন তখন তা স্বচ্ছ মুক্তার মতো ঝরতে থাকবে। যে কোন কাফির তার শ্বাস-বায়ু তাঁর দৃষ্টির প্রান্তসীমা পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। এ অবস্থায় তিনি দাজ্জালকে অনুসন্ধান করতে থাকবেন। অবশেষে তিনি তাকে (বায়তুল মাক্বদিসের) ‘লুদ্দ' নামক দরজার কাছে পেয়ে তাকে হত্যা করবেন।অতঃপর এমন একটি সম্প্রদায় ‘ঈসা (আঃ)-এর কাছে আসবে যাদেরকে আল্লাহ তা'আলা দাজ্জালের ফিতনাহ্ হতে নিরাপদে রেখেছিলেন। তখন তিনি তাদের মুখমণ্ডল থেকে নিরাপদে রেখেছিলেন। তখন তিনি তাদের মুখমণ্ডলে হাত ফিরাবেন এবং জান্নাতে তাদের জন্য কি পরিমাণ সুউচ্চ মর্যাদা রয়েছে সে সুসংবাদও প্রদান করবেন। এদিকে তিনি এ সমস্ত কাজে লিপ্ত থাকতেই আল্লাহ তা'আলা ‘ঈসা (আঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পাঠাবেন যে, আমি আমার এমন কিছু সংখ্যক বান্দা সৃষ্টি করে রেখেছি, যাদের মোকাবিলা করার ক্ষমতা কারো নেই। অতএব তুমি আমার বান্দাদেরকে ‘তূর পর্বতে নিয়ে সংরক্ষণ (একত্রিত) কর।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ইয়াজুজ ও মা'জুজকে পাঠাবেন। তারা প্রত্যেক উঁচু জায়গা থেকে নিচে জমিনে নেমে দ্রুত বিচরণ করতে থাকবে এবং তাদের প্রথম দল ‘ত্ববারিয়্যাহ্’ নদী (সিরিয়ার একটি নদী) অতিক্রম করবে এবং তারা এটার সবটুকু পানি পান করে ফেলবে। ফলে তাদের সর্বশেষ দল সে স্থান অতিক্রম করার সময় বলবে, হয়তো কোন সময় এখানে পানি ছিল। অতঃপর তার সামনে অগ্রসর হয়ে ‘খমার' নামক পাহাড় পর্যন্ত পৌঁছবে। এটা বায়তুল মাক্বদিসের নিকটে অবস্থিত পাহাড়। এখানে পৌঁছে তারা বলবে, জামিনে যারা বসবাস করত, ইতোমধ্যে আমরা নিশ্চিত সকলকে হত্যা করে ফেলি! এই বলে তারা আকাশের দিকে তীর নিক্ষেপ করবে। আর আল্লাহ তা'আলা তাদের তীরগুলোকে রুক্তমাখা অবস্থায় তাদের দিকে ফিরিয়ে দেবেন।এ সময় আল্লাহর নবী ('ঈসা (আঃ)) ও তাঁর সঙ্গীগণকে তূর পর্বতে মারাত্মক দুরাবস্থায় অবরোধ করা হবে। অর্থাৎ তাঁরা ভীষণ খাদ্য সংকটের সম্মুখীন হবেন। এমনকি তাঁদের কারো জন্য একটি গরুর মাথা এ যুগের একশত দীনার (স্বর্ণমুদ্রা) অপেক্ষা বেশি মূল্যবান হবে। এই চরম অবস্থায় আল্লাহ নবী ‘ঈসা (আঃ) এবং তাঁর সঙ্গীগণ আল্লাহর দিকে রুজু' হবেন (এবং ইয়া'জূজ ও মা'জূজ-এর ধ্বংসের জন্য দোয়া করবেন) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদের ঘাড়ের উপর বিষাক্ত কীটের ‘আযাব অবতীর্ণ করবেন। (এটা উট, বকরির নাকের মধ্যে জন্মে) ফলে তারা মুহূর্তের মধ্যে সমূলে ধ্বংস হয়ে যাবে।অতঃপর আল্লাহর নবী ‘ঈসা (আঃ) ও তাঁর সঙ্গীগণ পর্বত থেকে নিচে জমিনে অবতরণ করবেন। কিন্তু ইয়া'জুজ ও মা'জূজ-এর মরদেহের চর্বি ও দুর্গন্ধ হতে মুক্ত, এমন একবিঘত জমিনও খালি পাবেন না। তখন আল্লাহ তা'আলার কাছে ফরিয়াদ করবেন। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বখতী উটের ঘাড়ের মতো লম্বা লম্বা ঘাড়বিশিষ্ট পাখির ঝাঁক পাঠাবেন। পাখির দল তাদের মরদেহসমূহকে তুলে নেবে এবং যেখানে আল্লাহ ইচ্ছা সেখানে নিয়ে নিক্ষেপ করবে।অবশ্য অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে, তাদেরকে 'নহবল' নামক স্থানে নিয়ে ফেলে দিবে এবং মুসলিমগণ তাদের ধনুক, তীর এবং তীর রাখার কোষসমূহ সাত বছর পর্যন্ত লাকড়িস্বরূপ জ্বালাতে থাকবে। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ব্যাপক বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। যার কারণে জনবসতির কোন একটি অংশ, চাই তা মাটির ঘর হোক কিংবা পশমের হোক বাদ থাকবে না, ধৌত করে পরিষ্কার করে দিবে। অবশেষে তা আয়নার মতো পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন হয়ে যাবে।তারপর জমিনকে বলা হবে, তোমার ফল-ফলাদি বের করে দাও এবং তোমার কল্যাণ ও বারাকাত ফিরিয়ে আনো। ফলে সে সময় এক দল লোক একটি ডালিম পরিতৃপ্ত হয়ে খাবে এবং তার খোসা দ্বারা লোকেরা ছায়া লাভ করবে। আর দুগ্ধের মধ্যে বারাকাত দান করা হবে। এমনকি একটি উষ্ট্রীর দুধ একদল লোকের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি গাভীর দুধ এক সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য যথেষ্ট হবে এবং একটি বকরির দুধ একটি পরিবারের লোকের জন্য যথেষ্ট হবে।ঠিক এমনি সময়ে হঠাৎ একদিন আল্লাহ তা'আলা একটি স্নিগ্ধ বাতাস প্রবাহিত করবেন। তা তাদের বগল স্পর্শ করবে এবং উক্ত বায়ু প্রতিটি মুমিন মুসলিমের আত্মা কবয করবে, অতঃপর কেবলমাত্র পাপী ও মন্দ লোকেরাই অবশিষ্ট থাকবে, আর তারা গাধার মতো পরস্পর দ্বন্দ্ব-কলহে লিপ্ত হয়ে পড়বে, তখন তাদের ওপরেই ক্বিয়ামাত প্রতিষ্ঠিত হবে।(মুসলিম; তবে রিওয়ায়াতের দ্বিতীয়াংশ অর্থাৎ (تَطْرَ بِاْلنَّهْبَلِ) হতে (سَبْعَ سِبِيْن) পর্যন্ত তিরমিযী বর্ণনা করেছেন)
সহীহ: মুসলিম ১১০-(২৯৩৭), তিরমিযী ২২৪০, আবূ দাউদ ৪৩২১, ইবনু মাজাহ ৪০৭৫, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ৩৬৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১০৭৮৩, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৯৮৮৪।
