২৭/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৭৬-[১৩] - দাজ্জালের সামনে মুমিনের দৃঢ়তা
কেয়ামতের পূর্বলক্ষণসমূহ এবং দাজ্জালের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
দাজ্জালের সামনে মুমিনের সাহস
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৪৭৬-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৪৭৬-[১৩]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَتَوَّجُهُ قِبَلَهُ رَجُلٌ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ فَيَلْقَاهُ الْمَسَالِحُ مَسَالِحُ الدَّجَّالِ. فَيَقُولُونَ لَهُ: أَيْنَ تَعْمِدُ؟ فَيَقُولُ: أَعْمِدُ إِلَى هَذَا الَّذِي خَرَجَ. قَالَ: فَيَقُولُونَ لَهُ: أَو مَا تبَارك وَتَعَالَى ؤمن بِرَبِّنَا؟ فَيَقُولُ: مَا بِرَبِّنَا خَفَاءٌ. فَيَقُولُونَ: اقْتُلُوهُ. فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ: أَلَيْسَ قَدْ نَهَاكُمْ رَبُّكُمْ أَنْ تَقْتُلُوا أَحَدًا دُونَهُ. قَالَ: فَيَنْطَلِقُونَ بِهِ إِلَى الدَّجَّالِ فَإِذَا رَآهُ الْمُؤْمِنُ قَالَ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ هَذَا الدَّجَّالُ الَّذِي ذَكَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. قَالَ: فَيَأْمُرُ الدَّجَّال بِهِ فَيُشَبَّحُ. فَيَقُولُ: خُذُوهُ وَشُجُّوهُ فَيُوسَعُ ظَهْرُهُ وَبَطْنُهُ ضَرْبًا. قَالَ: فَيَقُول: أَوَ مَا تُؤْمِنُ بِي؟ قَالَ: فَيَقُولُ: أَنْتَ الْمَسِيحُ الْكَذَّابُ .قَالَ: «فيؤْمر بِهِ فَيْؤشَرُ بالمنشارِ مِنْ مَفْرِقِهِ حَتَى يُفَرَّقَ بَيْنَ رِجْلَيْهِ». قَالَ: ثُمَّ يَمْشِي الدَّجَّالُ بَيْنَ الْقِطْعَتَيْنِ ثُمَّ يَقُولُ لَهُ: أتؤمنُ بِي؟ فَيَقُول: مَا ازْدَدْتُ إِلَّا بَصِيرَةً. قَالَ: ثُمَّ يَقُولُ: يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ لَا يَفْعَلُ بَعْدِي بِأَحَدٍ مِنَ النَّاسِ . قَالَ: «فَيَأْخُذُهُ الدَّجَّالُ لِيَذْبَحَهُ فَيُجْعَلُ مَا بَيْنَ رَقَبَتِهِ إِلَى تَرْقُوَتِهِ نُحَاسًا فَلَا يَسْتَطِيع إِليه سَبِيلا» قَالَ: «فَيَأْخذهُ بِيَدَيْهِ وَرِجْلَيْهِ فَيَقْذِفُ بِهِ فَيَحْسِبُ النَّاسُ أَنَّمَا قَذَفَهُ إِلَى النَّارِ وَإِنَّمَا أُلْقِيَ فِي الْجَنَّةُ» فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هَذَا أَعْظَمُ النَّاسِ شَهَادَةً عِنْدَ رَبِّ الْعَالَمِينَ».رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (113 / 2938)، (7377) ۔ (صَحِيح)
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : এমন সময় দাজ্জালের আগমন ঘটবে এবং একজন মর্দে মুসলিম তার সামনে যাওয়ার জন্য রওয়ানা হবে। তখন অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক অর্থাৎ দাজ্জালের বাহিনীর সাথে তার সাক্ষাৎ ঘটবে। তারা প্রশ্ন করবে, তুমি কোথায় যেতে ইচ্ছা করছ? সে বলবে, ঐ ব্যক্তির নিকট যেতে চাই যে বের হয়েছে।তিনি (ﷺ) বলেন, তখন তারা লোকটিকে বলবে, তুমি কি আমাদের রবের (দাজ্জালের) প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করনি? সে বলবে, আমাদের প্রকৃত রব তো অজানা নন। তখন তারা বলবে, এ লোকটিকে হত্যা করে ফেল। তখন তারা পরস্পরে বলবে, তোমাদের রব্ (দাজ্জালের) কি এই বলে নিষেধ করেনি যে, তার সামনে উপস্থিত না করা ছাড়া যেন কাউকে তোমরা হত্যা না কর? তখন তারা লোকটিকে দাজ্জালের কাছে নিয়ে আসবে।যখন সে মর্দে মুমিন দাজ্জালকে দেখবে, তখনই সে লোকেদেরকে উদ্দেশ্য করে বলবে, হে লোকসকল! এই তো সেই দাজ্জাল,। যার সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছিলেন। তিনি (ﷺ) বলেন, এ কথা শুনে দাজ্জাল ঐ লোকটিকে মারাত্মক সাজা দেয়ার নির্দেশ করে বলবে, এটাকে শক্ত করে ধর এবং তার মাথায় জোরে আঘাত কর। তখন লোকটিকে এমনভাবে প্রহার করা হবে যে, তার পিঠ ও পেট চেপটা হয়ে যাবে। তিনি (ﷺ) বলেন, তখন দাজ্জাল বলবে, তুমি কি এখনো আমার প্রতি ঈমান আনবে না? উত্তরে লোকটি বলবে, ‘তুমিই তো মিথ্যুক মাসীহ!' এবার দাজ্জাল লোকটিকে করাত দ্বারা কর্তনের নির্দেশ দিবে। তখন সে মর্দে মুমিনের মাথা হতে কর্তিত হবে, এমনকি তার পদদ্বয় পর্যন্ত দ্বিখণ্ডিত করা হবে।অতঃপর দাজ্জাল সে খণ্ডিত দুই টুকরার মাঝখান দিয়ে হেঁটে যাবে তারপর সে উক্ত খণ্ডকে লক্ষ্য করে বলবে, ‘তুমি দাঁড়িয়ে যাও'। এবার লোকটি জীবিত হয়ে সোজাভাবে দাঁড়িয়ে যাবে। অতঃপর দাজ্জাল তাকে বলবে, এখন কি তুমি আমার প্রতি ঈমান আনবে? উত্তরে সেই মর্দে মুমিন বলবে, এখন তো আমার বিশ্বাসের দৃঢ়তাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি (ﷺ) বলেন, অতঃপর সে মর্দে মুমিন লোকেদেরকে আহ্বান করে বলবে, হে লোক সকল! তোমরা জেনে রাখ। এ দাজ্জাল এ যাবৎ আমার সাথে যা কিছু করেছে, আমার পরে আর কোন মানুষের সাথে তা করতে সক্ষম হবে না।তিনি (ﷺ) বলেন, এবার দাজ্জাল তাকে আবার যাবাহ করতে উদ্যত হবে। কিন্তু লোকটির গর্দান ও বুকের মধ্যবর্তী স্থান তামায় পরিণত করে দেয়া হবে, ফলে সে তাকে হত্যা করতে সক্ষম হবে না। তিনি (ﷺ) বলেন, এবার দাজ্জাল তার হাত পা বেঁধে ফেলবে এবং তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করবে। উপস্থিত লোকেরা ধারণা করবে, দাজ্জাল তাকে আগুনের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে, অথচ প্রকৃতপক্ষে তাকে জান্নাতের মধ্যে নিক্ষেপ করা হয়েছে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এ মর্দে মুমিনই হবে রব্বুল 'আলামীনের কাছে সবচেয়ে বড় শহীদ ব্যক্তি।
সহীহ মুসলিম ১১৩-(২৯৩৮), আবূ ইয়া'লা ১৪১০, সহীহুল জামি ৮০৪৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৪৭৬-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই সহীহ হাদিসে দাজ্জালের সময়ের একজন মুমিনের দৃঢ় ঈমানের ঘটনা এসেছে। লোকটি দাজ্জালের দিকে যাবে। দাজ্জালের বাহিনী তাকে আটকাবে এবং দাজ্জালের কাছে নিয়ে যাবে। দাজ্জালকে দেখেই সে বলবে, এ সেই দাজ্জাল যার কথা রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন। দাজ্জাল তাকে কঠোর শাস্তি দেবে, দ্বিখণ্ডিত করবে, আবার জীবিত করবে; তবু লোকটি বলবে, তার বিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়েছে। এরপর দাজ্জাল তাকে আবার হত্যা করতে চাইবে, কিন্তু সে পারবে না। শেষে তাকে আগুনে নিক্ষেপ করা হবে, অথচ বাস্তবে তাকে জান্নাতে নিক্ষেপ করা হবে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, এই ব্যক্তি রব্বুল আলামীনের কাছে সবচেয়ে বড় শাহীদের একজন হবে। এই হাদিস ঈমানের দৃঢ়তা ও সত্য বলার সাহস শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাজ্জালের সামনে সত্য বলা বড় সাহসের কাজ হবে।
- কঠিন পরীক্ষা মুমিনের ঈমান আরও দৃঢ় করতে পারে।
- দাজ্জালের আগুনও বাস্তবে জান্নাত হতে পারে বলে বর্ণনায় এসেছে।
- সত্যের পক্ষে স্থির থাকা আল্লাহর কাছে বড় মর্যাদার কারণ।
