২৭/৭. অধ্যায়ঃ
নিকৃষ্ট লোকেদের ওপরেই কেয়ামত সংঘটিত হবে - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৫২০-[৫]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫৫২০-[৫]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَخْرُجُ الدَّجَّالُ فَيَمْكُثُ أَرْبَعِينَ» لَا أَدْرِي أَرْبَعِينَ يَوْمًا أَوْ شَهْرًا أَوْ عَامًا «فَيَبْعَثُ اللَّهُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ كَأَنَّهُ عُرْوَةُ بْنُ مَسْعُودٍ فَيَطْلُبُهُ فَيُهْلِكُهُ ثُمَّ يَمْكُثُ فِي النَّاسِ سَبْعَ سِنِينَ لَيْسَ بَيْنَ اثْنَيْنِ عَدَاوَةٌ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ رِيحًا بَارِدَةً مِنْ قِبَلِ الشَّامِ فَلَا يَبْقَى عَلَى وَجْهِ الْأَرْضِ أَحَدٌ فِي قَلْبِهِ مِثْقَالُ ذَرَّةٍ مِنْ خَيْرٍ أَوْ إِيمَانٍ إِلَّا قَبَضَتْهُ حَتَّى لَوْ أَنَّ أَحَدَكُمْ دَخَلَ فِي كَبِدِ جَبَلٍ لَدَخَلَتْهُ عَلَيْهِ حَتَّى تَقْبِضَهُ» قَالَ: فَيَبْقَى شِرَارُ النَّاسِ فِي خِفَّةِ الطَّيْرِ وَأَحْلَامِ السِّبَاعِ لَا يَعْرِفُونَ مَعْرُوفًا وَلَا يُنْكِرُونَ مُنْكَرًا فَيَتَمَثَّلُ لَهُمُ الشَّيْطَانُ فَيَقُولُ أَلَا تَسْتَجِيبُونَ؟ فَيَقُولُونَ: فَمَا تَأْمُرُنَا؟ فَيَأْمُرُهُمْ بِعِبَادَةِ الْأَوْثَانِ وَهُمْ فِي ذَلِكَ دَارٌّ رِزْقُهُمْ حَسَنٌ عَيْشُهُمْ ثُمَّ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ فَلَا يَسْمَعُهُ أَحَدٌ إِلَّا أَصْغَى لِيتًا وَرَفَعَ لِيتًا قَالَ: وَأَوَّلُ مَنْ يَسْمَعُهُ رَجُلٌ يَلُوطُ حَوْضَ إِبِلِهِ فَيَصْعَقُ وَيَصْعَقُ النَّاسُ ثُمَّ يُرْسِلُ اللَّهُ مَطَرًا كَأَنَّهُ الطَّلُّ فَيَنْبُتُ مِنْهُ أَجْسَادُ النَّاسِ ثُمَّ يُنْفَخُ فِيهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ ثُمَّ يُقَالُ: يَا أَيُّهَا الناسُ هَلُمَّ إِلى ربِّكم وقفوهُم إِنَّهم مسؤولونَ. فَيُقَالُ: أَخْرِجُوا بَعْثَ النَّارِ. فَيُقَالُ: مِنْ كَمْ؟ كَمْ؟ فَيُقَالُ: مِنْ كُلِّ أَلْفٍ تِسْعَمِائَةٍ وَتِسْعَةً وَتِسْعِينَ قَالَ: «فَذَلِكَ يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا وَذَلِكَ يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَذُكِرَ حَدِيثُ مُعَاوِيَةَ: «لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ» فِي «بَاب التَّوْبَة» رواہ مسلم (116 / 2940)، (7381) 0 حدیث معاویۃ : لا تنقطع الھجرۃ ، تقدم (2346) ۔ (صَحِيح)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : দাজ্জাল বের হবে এবং সে চল্লিশ পর্যন্ত অবস্থান করবে। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি জানি না তিনি (ﷺ) চল্লিশ দিন অথবা মাস অথবা বছর এটার কোনটি বলেছেন? অতঃপর আল্লাহ তা'আলা ‘ঈসা ইবনু মারইয়াম (আঃ) -কে পাঠাবেন। দেখতে তিনি ‘উরওয়া ইবনু মাস্‘উদ-এর মতো। তিনি দাজ্জালের খোঁজ করবেন এবং তিনি তাকে হত্যা করবেন। তিনি (‘ঈসা ) সাত বছর এ জমিনে অবস্থান করবেন, সেই যুগে দু'জন লোকের মধ্যেও শত্রুতা থাকবে না। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা সিরিয়ার দিক থেকে একটি ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত করবেন, উক্ত বায়ু ভূপৃষ্ঠে এমন একজন লোককেও জীবিত রাখবে না, যার অন্তরে অণু-কণা পরিমাণ পুণ্য বা ঈমান থাকবে। যদি সে সময় তোমাদের কেউ পাহাড়ের ভিতরেও আত্মগোপন করে, উক্ত বাতাস সেখানে প্রবেশ করেও তার রূহ কবয করবে।তিনি (ﷺ) বলেছেন, অতঃপর কেবলমাত্র নিকৃষ্ট ফাসিক্ব ও খারাপ লোকগুলোই অবশিষ্ট থাকবে। তারা নিষ্ঠুর পাখিদের মতো দ্রুতগামী এবং খুন-খারাবিতে হিংস্র জন্তুর ন্যায় নিষ্ঠুর হবে। ভালো-মন্দ তারতম্য করার কোন যোগ্যতা তাদের মধ্যে বিদ্যমান থাকবে না। তখন শায়ত্বন একটি আকৃতি ধারণ করে তাদের কাছে এসে বলবে, তোমাদের ডাকে কী সাড়া দিব না? তখন লোকেরা বলবে, আচ্ছা তুমিই বল আমাদের কি করা উচিত। অতঃপর শায়ত্বন তাদেরকে মূর্তিপূজায় আদেশ করবে। এ অবস্থায় তারা অতি সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে ও ভোগ-বিলাসে জীবনযাপন করতে থাকবে। অতঃপর শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে এবং যে লোকই উক্ত আওয়াজ শুনবে, সে ভীত-সন্ত্রস্ত অবস্থায় এদিক-সেদিক মাথা ঘুরাতে থাকবে। তিনি (ﷺ) বললেন, সর্বপ্রথম উক্ত আওয়াজ সেই লোকই শুনতে পাবে, যে তার উটের জন্য পানির হাওয মেরামত কার্যে রত। সে তখন ভীত হয়ে সেখানেই মৃত্যুবরণ করবে এবং তার সাথে সাথে অন্যান্য লোকও মারা যাবে।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা কুয়াশার মতো খুব হালকা ধরনের বৃষ্টি বর্ষণ করবেন। তাতে ঐ সকল দেহগুলো সজীব হয়ে উঠবে, যেগুলো ক্ববরের মধ্যে নিশ্চিহ্ন হয়ে রয়েছিল। অতঃপর দ্বিতীয়বার শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হবে, তখন সমস্ত লোক উঠে দাঁড়াবে।অতঃপর ঘোষণা দেয়া হবে, হে লোকসকল! তোমরা দ্রুত তোমাদের প্রভুর দিকে ছুটে আসো। (ফেরেশতাদেরকে নির্দেশ দেয়া হবে) ঐখানে তাদেরকে থামিয়ে রাখ, তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে। অতঃপর মালায়িকাহ্- (কেফেরেশতাদেরকে) বলা হবে, ঐ সকল লোকেদেরকে বের কর যারা জাহান্নামের উপযোগী হয়েছে। তখন মালায়িকাহ্ বলবেন, কতজন থেকে কতজন বের করব? বলা হয়, প্রত্যেক হাজার থেকে নয়শত নিরানব্বইজনকে জাহান্নামের জন্য বের কর। এ পর্যন্ত বলার পর তিনি (ﷺ) বললেন, এটা সেদিন যেদিন সম্পর্কে কুরআনে বলা হয়েছে- يَوْمَ يَجْعَلُ الْوِلْدَانَ شِيبًا) ‘সেদিন শিশুদেরকে বৃদ্ধ করে ফেলবে।' (অর্থাৎ সেদিনের বিভীষিকায় শিশুও বৃদ্ধ হয়ে যাবে) يَوْمَ يُكْشَفُ عَنْ سَاقٍ) ‘সেদিন বিরাট সংকটময় অবস্থায় প্রকাশ পাবে।' মু'আবিয়াহ্ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত হাদীস لَا تَنْقَطِعُ الْهِجْرَةُ) পূর্বে ‘তাওবার’ অধ্যায়ে বর্ণিত হয়েছে।
সহীহঃ মুসলিম ১১৬-(১৯৪০), মুসনাদে আহমাদ ৬৫৫৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭৩৫৩, দারিমী ১৪১৭।
