২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৬৭-[২] - হাওযে কাওসারের পানি ও প্রশস্ততা
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
হাওযে কাওসার: পানি, পাত্র ও প্রশস্ততার বর্ণনা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৬৭-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৬৭-[২]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «حَوْضِي مَسِيرَةُ شَهْرٍ وَزَوَايَاهُ سَوَاءٌ مَاؤُهُ أَبْيَضُ مِنَ اللَّبَنِ وَرِيحُهُ أَطْيَبُ مِنَ الْمِسْكِ وَكِيزَانُهُ كَنُجُومِ السَّمَاءِ مَنْ يَشْرَبُ مِنْهَا فَلَا يظمأ أبدا». مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ، رواہ البخاری (6579) و مسلم (27 / 2292)، (5971) ۔ (مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমার হাওযের প্রশস্ততা এক মাসের পথের সমপরিমাণ এবং তার চতুর্দিকও সমপরিমাণ আর তার পানি দুধ অপেক্ষাও অধিক সাদা এবং তার ঘ্রাণ মৃগনাভি অপেক্ষাও অধিক সুগন্ধিময়, আর তার পানপাত্রসমূহ আকাশের তারকার মতো। যে তা থেকে একবার পান করবে সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না।
সহীহ: বুখারী ৬৫৭৯, মুসলিম ২৭-(২২৯২), সহীহুল জামি ৩১৬১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬১৩, মুসনাদে বাযযার ২৪৬০, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৪৫২, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ৮৮৯. আল মু'জামুল আওসাত্ব ৯০২৯।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৬৭-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর হাওযের বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেছেন, তাঁর হাওযের প্রশস্ততা এক মাসের পথের সমান এবং তার চতুর্দিকও সমান। তার পানি দুধের চেয়েও বেশি সাদা, আর তার ঘ্রাণ মিশকের চেয়েও বেশি সুগন্ধময়। তার পানপাত্র আকাশের তারকার মতো। যে ব্যক্তি সেই হাওয থেকে একবার পান করবে, সে আর কখনো তৃষ্ণার্ত হবে না। এই হাদিসে হাওযে কাওসারের নেয়ামত খুব সহজ ভাষায় সামনে আসে। কিয়ামতের কঠিন দিনের মধ্যে এই হাওয মুমিনদের জন্য বড় আশা। হাদিসটি একই সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মর্যাদা এবং তাঁর উম্মতের জন্য আল্লাহর দানের কথা মনে করিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাওযে কাওসার রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ মর্যাদার নিদর্শন।
- কিয়ামতের দিনে আল্লাহ মুমিনদের জন্য নেয়ামতের ব্যবস্থা করবেন।
- হাওযের পানি ও পাত্রের বর্ণনা জান্নাতী সৌন্দর্যের দিকে ইঙ্গিত করে।
- রাসূল (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মত হওয়ার দায়িত্ব ও আশা দুটোই মনে রাখা দরকার।
