২৮/৪. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৬৮-[৩] - ওযুর নূর ও হাওযে কাওসারে পরিচয়

হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ

কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

ওযুর নূর: হাওযে কাওসারে উম্মতের পরিচয়

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৬৮-[৩]

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّ حَوْضِي أَبْعَدُ مِنْ أَيْلَةَ مِنْ عَدَنٍ لَهُوَ أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ الثَّلْجِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ بِاللَّبَنِ وَلَآنِيَتُهُ أَكْثَرُ مِنْ عَدَدِ النُّجُومِ وَإِنِّي لَأَصُدُّ النَّاسَ عَنْهُ كَمَا يَصُدُّ الرَّجُلُ إِبِلَ النَّاسِ عَنْ حَوْضِهِ». قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَتَعْرِفُنَا يَوْمَئِذٍ؟ قَالَ: «نَعَمْ لَكُمْ سِيمَاءُ لَيْسَتْ لِأَحَدٍ مِنَ الْأُمَم تردون عليّ غرّاً من أثر الْوضُوء».رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (36 / 247)، (581) ۔ (صَحِيح)

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমার হাওযের (উভয় পার্শ্বের) দূরত্ব আয়লাহ্ ও ‘আদন-এর মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও অধিক। তার পানি বরফের চেয়ে অধিক সাদা এবং দুধমিশ্রিত মধুর তুলনায় অনেক মিষ্ট। তার পানপাত্রসমূহ নক্ষত্রের সংখ্যা অপেক্ষা অধিক। আর আমি আমার হাওযের কাওসারে আগমন করা থেকে লোকেদেরকে (অন্যান্য উম্মাতদেরকে) তেমনিভাবে বাধা দেব, যেমনিভাবে কোন লোক তার নিজের হাওয থেকে অন্যের উটকে পানি পানে বাধা দিয়ে থাকে।সাহাবীগণ প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! সেদিন কি আপনি আমাদেরকে চিনতে পারবেন? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, সেদিন তোমাদের বিশেষ চিহ্ন থাকবে যা অন্যান্য উম্মাতের কারো জন্য হবে না। তোমরা আমার কাছে এমন অবস্থায় আসবে যে, তোমাদের মুখমণ্ডল এবং হাত-পা ওজুর কারণে উজ্জ্বল থাকবে।

সহীহ: মুসলিম ৩৬-(২৪৭), সহীহুল জামি ৩৮২১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ১১৪৬, সিলসিলাতুস সহীহাহ্ ২৬১৮, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ১৪১৪৬, মুসনাদে বাযযার ৫০৫৬, মুসনাদে আহমাদ ২৭৯৬, সহীহ ইবনু খুযায়মা ২৭৩৩, শু’আবূল ঈমান ৪০৩৪, দারিমী ২৮৩৭, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৪২০।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৬৮-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হাওযে কাওসারের বর্ণনার সঙ্গে ওযুর নূরের কথাও এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তাঁর হাওযের দূরত্ব আয়লা ও আদনের মধ্যবর্তী দূরত্ব থেকেও বেশি। তার পানি বরফের চেয়ে সাদা এবং দুধমিশ্রিত মধুর চেয়ে মিষ্ট। তার পাত্র নক্ষত্রের সংখ্যার চেয়েও বেশি। এরপর সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, কিয়ামতের দিন তিনি কি তাঁদের চিনবেন? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বললেন, হ্যাঁ; উম্মতের এমন চিহ্ন থাকবে যা অন্য উম্মতের থাকবে না। তারা ওযুর কারণে মুখমণ্ডল, হাত ও পা উজ্জ্বল অবস্থায় আসবে। এই হাদিস ওযুর গুরুত্ব, পরিচ্ছন্নতা এবং কিয়ামতের দিনে উম্মতের পরিচয়—সব একসঙ্গে শেখায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ওযু কিয়ামতের দিনে উম্মতের বিশেষ চিহ্ন হবে।
  • হাওযে কাওসার রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের জন্য বড় আশা।
  • পবিত্রতা শুধু দুনিয়ার আমল নয়, আখিরাতের পরিচয়ের সঙ্গেও যুক্ত।
  • নিয়মিত ওযু ও সালাত মুমিনের জীবনে গভীর অর্থ রাখে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন