২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৬৯-[৪] - হাওযে কাওসারের সোনা-রূপার পাত্র
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
হাওযে কাওসারের পাত্র: তারকার মতো অসংখ্য
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৬৯-[৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৬৯-[৪]
وَفِي رِوَايَةٍ لَهُ عَنْ أَنَسٍ قَالَ: «تَرَى فِيهِ أَبَارِيقَ الذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ كَعَدَدِ نُجُومِ السَّمَاءِ» رواہ مسلم (43 / 2303)، (6000) ۔ (صَحِيح)
অপর এক বর্ণনায় আছে, আনাস (রাঃ) বলেন, উক্ত হাওযে সোনা ও রূপার এত অধিক পানপাত্র থাকবে, যার সংখ্যা হবে আকাশের তারকারাজির মতো (অগণিত)।
সহীহ: মুসলিম ৪৩-(২৩০৩), ইবনু মাজাহ ৪৩০৫, সহীহুল জামি ৫৫৯২, আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬১৮, মুসনাদে বাযযার ৭০৩৪, মুসনাদে আহমাদ ১৩৫২১, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৪৫৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৬৯-[৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় হাওযে কাওসারের পানপাত্রের কথা এসেছে। আনাস (রাঃ) বলেন, সেই হাওযে সোনা ও রূপার এত বেশি পাত্র থাকবে যে, তার সংখ্যা আকাশের তারকারাজির মতো। এই সংক্ষিপ্ত হাদিস হাওযে কাওসারের সৌন্দর্য ও প্রশস্ত নেয়ামতের একটি অংশ তুলে ধরে। আগের বর্ণনাগুলোতে হাওযের পানি, ঘ্রাণ, স্বাদ এবং প্রশস্ততার কথা এসেছে; এখানে পাত্রের বর্ণনা আলাদা করে এসেছে। এতে বোঝা যায়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য এমন নেয়ামত রাখবেন, যা দুনিয়ার সাধারণ ধারণার বাইরে। তবে হাদিসের মূল কথা খুব সীমিত—পাত্রের সংখ্যা ও ধরন। তাই ব্যাখ্যায় এর বাইরে অতিরিক্ত দাবি না করাই সঠিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাওযে কাওসারের নেয়ামত প্রশস্ত ও সুন্দর।
- পাত্রের সংখ্যা তারকার মতো বলা হয়েছে।
- আখিরাতের নেয়ামত স্মরণ করলে ঈমান সতেজ হয়।
- সংক্ষিপ্ত হাদিস থেকেও নির্দিষ্ট শিক্ষা নেওয়া যায়।
