২৮/৪. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭০-[৫] - কাওসারের পানীয় ও জান্নাতের জলধারা

হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ

কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)

কাওসারের পানীয়: সাদা, মিষ্ট ও জান্নাতী ধারা

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৭০-[৫]

وَفِي أُخْرَى لَهُ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: سُئِلَ عَنْ شَرَابِهِ. فَقَالَ: أَشَدُّ بَيَاضًا مِنَ اللَّبَنِ وَأَحْلَى مِنَ الْعَسَلِ يَغُتُّ فِيهِ مِيزَابَانِ يَمُدَّانِهِ مِنَ الْجَنَّةِ: أَحَدُهُمَا مِنْ ذَهَبٍ وَالْآخَرُ مِنْ ورق رواہ مسلم (37 / 2301)، (5990) ۔ (صَحِيح)

অন্য এক বর্ণনায় আছে, সাওবান (রাঃ) বলেন, (রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কে জিজ্ঞেস করা হলো) তার পানীয় কেমন হবে? তিনি (ﷺ) বললেন, দুধের চেয়ে অধিক সাদা এবং মধু অপেক্ষা অধিক সুমিষ্ট। তাতে জান্নাত হতে আগত দুটি জলধারা প্রবাহিত হতে থাকবে। এটার একটি সোনার অপরটি চাঁদির।

সহীহ: মুসলিম ৩৬-(২৩০০), তিরমিযী ৮৭৭, ইবনু মাজাহ ৪৩০২, সহীহুল জামি' ২০৫৯, আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ১১৪৬, সিলসিলাতুস সহীহাহ ২৫১৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৮৬১৪, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩১৬৭২, মুসনাদে বাযযার ২৪৬২, মুসনাদে আহমাদ ২৫৫, আবূ ইয়া'লা ৪০৯৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৪৫৫, শু’আবূল ঈমান ১০৪৮৫, আল মুজামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ৭৫৭১, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৩৩৮৪, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ২৫৫।

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭০-[৫]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে হাওযে কাওসারের পানীয়ের বর্ণনা এসেছে। সাওবান (রাঃ)-এর বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, তার পানীয় কেমন হবে? তিনি বললেন, তা দুধের চেয়ে বেশি সাদা এবং মধুর চেয়ে বেশি মিষ্ট। তাতে জান্নাত থেকে আসা দুটি জলধারা প্রবাহিত হবে। একটি সোনার, আরেকটি রূপার। এই বর্ণনা কাওসারের নেয়ামতকে আরও পরিষ্কার করে। আগের হাদিসগুলোতে হাওযের প্রশস্ততা, পাত্র এবং সুগন্ধের কথা এসেছে; এখানে পানীয়ের স্বাদ ও উৎসের কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়, আখিরাতের নেয়ামত আল্লাহর দান। তাই হাওযে কাওসারের আশা রাখার সঙ্গে সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পথ ধরে চলাও জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • কাওসারের পানীয় জান্নাতী নেয়ামতের অংশ।
  • তার শুভ্রতা ও মিষ্টতার কথা হাদিসে এসেছে।
  • জান্নাত থেকে দুটি ধারা কাওসারে প্রবাহিত হবে।
  • আখিরাতের নেয়ামত আল্লাহর দয়া ও দানের কথা মনে করায়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন