২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭৫-[১০] - কিয়ামতের দিন নবী صلى الله عليه وسلم-এর নেতৃত্ব
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
কিয়ামতের দিন নবী صلى الله عليه وسلم হবেন মানুষের সরদার
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৭৫-[১০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৭৫-[১০]
وَعَنْهُ قَالَ أَتَى النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِلَحْمٍ فَرُفِعَ إِلَيْهِ الذِّرَاعُ وَكَانَتْ تُعْجِبُهُ فَنَهَسَ مِنْهَا نَهْسَةً ثُمَّ قَالَ: «أَنَا سَيِّدُ النَّاسِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَوْمَ يَقُومَ النَّاسُ لِرَبِّ الْعَالمين وتدنو الشَّمْس فَيبلغ مِنَ الْغَمِّ وَالْكَرْبِ مَا لَا يُطِيقُونَ فَيَقُولُ النَّاس أَلا تنْظرُون من يشفع لكم إِلَى ربكُم؟ فَيَأْتُونَ آدَمَ» . وَذَكَرَ حَدِيثَ الشَّفَاعَةِ وَقَالَ: «فَأَنْطَلِقُ فَآتِي تَحْتَ الْعَرْشِ فَأَقَعُ سَاجِدًا لِرَبِّي ثُمَّ يَفْتَحُ اللَّهُ عَلَيَّ مِنْ مَحَامِدِهِ وَحُسْنِ الثَّنَاءِ عَلَيْهِ شَيْئًا لَمْ يَفْتَحْهُ عَلَى أَحَدٍ قَبْلِي ثُمَّ قَالَ يَا مُحَمَّدُ ارْفَعْ رَأْسَكَ وَسَلْ تُعْطَهْ وَاشْفَعْ تُشَفَّعْ فَأَرْفَعُ رَأْسِي فَأَقُولُ أُمَّتِي يارب أمتِي يارب فَيُقَالُ يَا مُحَمَّدُ أَدْخِلْ مِنْ أُمَّتِكَ مَنْ لَا حِسَابَ عَلَيْهِمْ مِنَ الْبَابِ الْأَيْمَنِ مِنْ أَبْوَابِ الْجَنَّةِ وَهُمْ شُرَكَاءُ النَّاسِ فِيمَا سِوَى ذَلِكَ مِنَ الْأَبْوَابِ» . ثُمَّ قَالَ: «وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنَّ مَا بَيْنَ الْمِصْرَاعَيْنِ مِنْ مَصَارِيعِ الْجَنَّةِ كَمَا بَيْنَ مَكَّةَ وَهَجَرَ» . مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (4712) و مسلم (327 / 194)، (480) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ) এর কাছে কিছু গোশত আনা হলো এবং তাঁর জন্য বাজুর গোটিই পেশ করা হলো। মূলত তিনি (ﷺ) এ গোশত (খেতে) খুব পছন্দ করতেন। কাজেই তিনি তা থেকে দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেন। তারপর বললেন, কিয়ামতের দিন আমি হব সকল মানুষের সরদার, যেদিন মানবমণ্ডলী রব্বুল 'আলামীনের সামনে দণ্ডায়মান হবে এবং সূর্য থাকবে (মাথার) খুব কাছে। হতাশা ও দুশ্চিন্তায় মানুষ এমন এক করুণ অবস্থায় পৌঁছবে, যা সহ্য করার শক্তি তাদের থাকবে না। তখন তারা (পরস্পরে) বলাবলি করবে, তোমরা কি এমন কোন ব্যক্তিকে খোঁজ করে পাও না, যিনি তোমাদের প্রভুর কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশ করবেন? তখন তারা আদাম (আঃ)-এর কাছে আসবে।এরপর বর্ণনাকারী আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ)-এর শাফা'আত সম্পর্কীয় হাদীসটি (পূর্বে বর্ণিত হয়েছে) বর্ণনা করেন। তিনি (ﷺ) বলেন, তখন আমি আরশের নিচে যাব এবং আমার প্রভুর উদ্দেশে সিজদায় লুটিয়ে পড়ব। তখন আল্লাহ তা'আলা তাঁর হাম্দ ও সানার এমন কিছু উত্তম বাক্য আমার হৃদয়ে ঢেলে দেবেন যা আমার পূর্বে কারো জন্য উন্মুক্ত করেননি। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলবেন, হে মুহাম্মাদ! আপনার মাথা উঠান। আপনি প্রার্থনা করুন, যা চাবেন তা দেয়া হবে। সুপারিশ করুন, আপনার সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।নবী (ﷺ) বলেন, তখন আমি মাথা উঠাব এবং বলব, হে আমার প্রভু! আমার উম্মাত, হে আমার প্রভু! আমার উম্মাত, হে আমার প্রভু! আমার উম্মাত। তখন আমাকে বলা হবে, হে মুহাম্মাদ। আপনার উম্মাতের যাদের কাছ থেকে কোন বিচার নেয়া হবে না তাদেরকে আপনি জান্নাতের দরজাসমূহের ডানদিকের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন এবং তারা সে সকল দরজা ছাড়াও অন্যান্য দরজা দিয়ে অপরাপর লোকেদের সাথে প্রবেশ করারও অধিকার রাখে। অতঃপর নবী (ﷺ) বলেন, সেই সত্তার শপথ! যাঁর হাতে আমার প্রাণ! জান্নাতের দরজাসমূহের উভয় পাটের দূরত্ব, যেমন মাক্কাহ্ ও হাজার নামক স্থানের মাঝের দূরত্ব পরিমাণ।
সহীহ: বুখারী ৪৭১২, মুসলিম ৩২৭-(১৯৪), তিরমিযী ২৪৩৪, সহীহুল জামি ১৪৬৬, মুসনাদে আহমাদ ৯৬২১, সহীহ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৩৬৪৪, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ ১৫৭১, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ্ ৩১৬৭৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৪৬৫, শু’আবূল ঈমান ১৪৮৯, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১১২৮৬, আল মু'জামুল আওসাত্ব ১০৫৮, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৮২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭৫-[১০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মর্যাদা ও কিয়ামতের দিনের শাফা‘আতের বর্ণনা এসেছে। গোশত খাওয়ার সময় তিনি বলেন, কিয়ামতের দিন তিনি সকল মানুষের সরদার হবেন। সে দিন মানুষ রব্বুল আলামীনের সামনে দাঁড়াবে, সূর্য কাছে থাকবে এবং দুশ্চিন্তা এমন পর্যায়ে পৌঁছবে যা তারা সহ্য করতে পারবে না। তখন মানুষ এমন কাউকে খুঁজবে, যিনি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করবেন। এরপর শাফা‘আতের দীর্ঘ ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আরশের নিচে সিজদা করবেন, আল্লাহ তাঁকে প্রশংসার বাক্য দান করবেন এবং শাফা‘আত গ্রহণ করবেন। তাঁর উম্মতের যাদের হিসাব নেই, তাদের জান্নাতের ডান দিকের দরজা দিয়ে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কিয়ামতের দিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর বিশেষ মর্যাদা প্রকাশ পাবে।
- শাফা‘আত আল্লাহর অনুমতির মাধ্যমে হবে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর উম্মতের জন্য গভীর দরদ রাখেন।
- বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ আল্লাহর বড় দান।
