২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭৮-[১৩] - কিয়ামতে আল্লাহকে দেখার বর্ণনা
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখা: ঈমানের বড় শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৭৮-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৭৮-[১৩]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أُنَاسًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ صَحْوًا لَيْسَ فِيهَا سَحَابٌ؟» قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: مَا تَضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا كَمَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ أَحَدِهِمَا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ لِيَتَّبِعْ كُلُّ أُمَّةٍ مَا كَانَتْ تَعْبُدُ فَلَا يَبْقَى أَحَدٌ كَانَ يعبد غيرالله مِنَ الْأَصْنَامِ وَالْأَنْصَابِ إِلَّا يَتَسَاقَطُونَ فِي النَّارِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَبْقَ إِلَّا مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ مِنْ بَرٍّ وَفَاجِرٍ أَتَاهُمْ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ: فَمَاذَا تَنْظُرُونَ؟ يَتْبَعُ كُلُّ أُمَّةٍ مَا كَانَت تعبد. قَالُوا: ياربنا فَارَقْنَا النَّاسَ فِي الدُّنْيَا أَفْقَرَ مَا كُنَّا إِلَيْهِم وَلم نصاحبهممتفق علیہ ، رواہ البخاری (806) و مسلم (229 / 182)، (451) ۔ (متفّق عَلَيْهِ)
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন কতিপয় লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! কিয়ামতের দিন কি আমরা আমাদের প্রভুকে দেখতে পাব? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, মেঘমুক্ত দ্বিপ্রহরের আকাশে তোমরা সূর্য দেখতে কি কষ্ট পাও? এবং মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন সমস্যা হয়? তারা বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি (ﷺ) বললেন, কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখতে তোমাদের এর চেয়ে বেশি কোন সমস্যা হবে না যা এ দু'টিকে দেখতে তোমাদের হয়ে থাকে।যখন কিয়ামত সংঘটিত হবে, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে, প্রত্যেক উম্মাত, যে যার ইবাদত করত সে যেন তার অনুসরণ করে। তখন যারা আল্লাহকে ছাড়া মূর্তি-প্রতিমা ইত্যাদির ইবাদত করত, তাদের একজনও অবশিষ্ট থাকবে না, বরং সকলেই জাহান্নামের মধ্যে গিয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত এক আল্লাহর ইবাদতকারী ভালো ও গুনাহগার ছাড়া সেখানে আর কেউই বাকি থাকবে না।এরপর রব্বুল 'আলামীন তাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কার অপেক্ষায় আছ? প্রত্যেক উম্মাত, যে যার ইবাদত করত, সে তো তারই অনুসরণ করেছে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আমরা তো সেই সকল লোকেদেরকে দুনিয়াতেই বর্জন করেছিলাম যখন আজকের তুলনায় তাদের কাছে আমাদের বেশি প্রয়োজন ছিল। আমরা কক্ষনো তাদের সঙ্গে চলিনি।
সহীহ: বুখারী ৫৭৩, মুসলিম ২৯৯-(১৮২), আবূ দাউদ ৪৭৩০, ইবনু মাজাহ ১৭৮, তিরমিযী ২৫৩৫, সহীহুল জামি' ৬২৯৭, আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬১০, সহীহ আবূ দাউদ ১২৪৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৪৮৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৮৬৬, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৩৪০১৭, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ৪৫০, ১১৪৩, মুসনাদে বাযযার ৭৭৯৫, মুসনাদে আহমাদ ১১১৩৫, আবূ ইয়া'লা ১০০৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৬৪২, শু’’আবূল ঈমান ৩৬৬, আস সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১১৪৮৮, দারিমী ২৮০১, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৯৭২৫, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৯১৫, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪০৮৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১৭৫১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭৮-[১৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কিয়ামতের দিনে আল্লাহকে দেখার বিষয় এসেছে। কিছু লোক রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জিজ্ঞেস করল, আমরা কি কিয়ামতের দিন আমাদের রবকে দেখতে পাব? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তারপর উদাহরণ দিলেন—মেঘমুক্ত দুপুরে সূর্য দেখা বা মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি কষ্ট হয়? তারা বলল, না। তিনি বললেন, আল্লাহকে দেখতেও এর চেয়ে বেশি সমস্যা হবে না। এরপর বলা হয়েছে, কিয়ামতের দিন ঘোষক ডাকবে, প্রত্যেক উম্মত সে যার ইবাদত করত তার অনুসরণ করুক। যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুর ইবাদত করত, তারা জাহান্নামে পড়ে যাবে। শেষে এক আল্লাহর ইবাদতকারী ভালো ও গুনাহগার মানুষ বাকি থাকবে। এই হাদিস তাওহীদ, আখিরাত ও সত্য ইবাদতের গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুমিনরা কিয়ামতের দিন আল্লাহকে দেখবে—হাদিসে এ কথা এসেছে।
- তাওহীদ ছাড়া অন্য উপাসনার পরিণতি ভয়াবহ।
- কিয়ামতের দিন প্রত্যেক দল তার ইবাদতের বাস্তবতা দেখবে।
- আল্লাহর ইবাদতে অটল থাকা মুমিনের মূল পরিচয়।
