২৮/৪. অধ্যায়ঃ
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) -এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি’তে রয়েছে, হে নবী (সা.) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে। তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব।রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা’আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৫৫৭৮-[১৩]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৫৫৭৮-[১৩]
وَعَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ أَنَّ أُنَاسًا قَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلْ نَرَى رَبَّنَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ هَلْ تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ الْقَمَرِ لَيْلَةَ الْبَدْرِ صَحْوًا لَيْسَ فِيهَا سَحَابٌ؟» قَالُوا: لَا يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: مَا تَضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ اللَّهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ إِلَّا كَمَا تُضَارُّونَ فِي رُؤْيَةِ أَحَدِهِمَا إِذَا كَانَ يَوْمُ الْقِيَامَةِ أَذَّنَ مُؤَذِّنٌ لِيَتَّبِعْ كُلُّ أُمَّةٍ مَا كَانَتْ تَعْبُدُ فَلَا يَبْقَى أَحَدٌ كَانَ يعبد غيرالله مِنَ الْأَصْنَامِ وَالْأَنْصَابِ إِلَّا يَتَسَاقَطُونَ فِي النَّارِ حَتَّى إِذَا لَمْ يَبْقَ إِلَّا مَنْ كَانَ يَعْبُدُ اللَّهَ مِنْ بَرٍّ وَفَاجِرٍ أَتَاهُمْ رَبُّ الْعَالَمِينَ قَالَ: فَمَاذَا تَنْظُرُونَ؟ يَتْبَعُ كُلُّ أُمَّةٍ مَا كَانَت تعبد. قَالُوا: ياربنا فَارَقْنَا النَّاسَ فِي الدُّنْيَا أَفْقَرَ مَا كُنَّا إِلَيْهِم وَلم نصاحبهم متفق علیہ ، رواہ البخاری (806) و مسلم (229 / 182)، (451) ۔ (متفّق عَلَيْهِ)
আবূ সা'ঈদ আল খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন কতিপয় লোক প্রশ্ন করল, হে আল্লাহর রাসূল! ক্বিয়ামাতের দিন কি আমরা আমাদের প্রভুকে দেখতে পাব? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ, মেঘমুক্ত দ্বিপ্রহরের আকাশে তোমরা সূর্য দেখতে কি কষ্ট পাও? এবং মেঘমুক্ত আকাশে পূর্ণিমার চাঁদ দেখতে কি তোমাদের কোন সমস্যা হয়? তারা বলল, না, হে আল্লাহর রাসূল। তিনি (ﷺ) বললেন, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহকে দেখতে তোমাদের এর চেয়ে বেশি কোন সমস্যা হবে না যা এ দু'টিকে দেখতে তোমাদের হয়ে থাকে।যখন ক্বিয়ামাত সংঘটিত হবে, তখন একজন ঘোষক ঘোষণা দেবে, প্রত্যেক উম্মাত, যে যার ‘ইবাদাত করত সে যেন তার অনুসরণ করে। তখন যারা আল্লাহকে ছাড়া মূর্তি-প্রতিমা ইত্যাদির ‘ইবাদাত করত, তাদের একজনও অবশিষ্ট থাকবে না, বরং সকলেই জাহান্নামের মধ্যে গিয়ে পড়বে। শেষ পর্যন্ত এক আল্লাহর ‘ইবাদাতকারী ভালো ও গুনাহগার ছাড়া সেখানে আর কেউই বাকি থাকবে না।এরপর রব্বুল 'আলামীন তাদের নিকট এসে বললেন, তোমরা কার অপেক্ষায় আছ? প্রত্যেক উম্মাত, যে যার ‘ইবাদাত করত, সে তো তারই অনুসরণ করেছে। তারা বলবে, হে আমাদের প্রভু! আমরা তো সেই সকল লোকেদেরকে দুনিয়াতেই বর্জন করেছিলাম যখন আজকের তুলনায় তাদের কাছে আমাদের বেশি প্রয়োজন ছিল। আমরা কক্ষনো তাদের সঙ্গে চলিনি।
সহীহ: বুখারী ৫৭৩, মুসলিম ২৯৯-(১৮২), আবূ দাউদ ৪৭৩০, ইবনু মাজাহ ১৭৮, তিরমিযী ২৫৩৫, সহীহুল জামি' ৬২৯৭, আত্ তারগীব ওয়াত তারহীব ৩৬১০, সহীহ আবূ দাউদ ১২৪৬, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ১৪৮৪, মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ২০৮৬৬, মুসান্নাফ ইবনু আবী শায়বাহ ৩৪০১৭, মুসনাদে আবদ ইবনু হুমায়দ ৪৫০, ১১৪৩, মুসনাদে বাযযার ৭৭৯৫, মুসনাদে আহমাদ ১১১৩৫, আবূ ইয়া'লা ১০০৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪৬৪২, শু’’আবূল ঈমান ৩৬৬, আস সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১১৪৮৮, দারিমী ২৮০১, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৯৭২৫, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৯১৫, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪০৮৭, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১৭৫১।
