২৮/৪. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭৭-[১২] - উম্মতের জন্য নবী صلى الله عليه وسلم-এর কান্না ও দোয়া
হাউজে কাওসার ও শাফায়াতের বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কুরতুবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দুটি হাওয থাকবে। একটি পুলসিরাতের পূর্বে অবস্থানের জায়গায়, অন্যটি থাকবে জান্নাতে। উভয় হাওযের নাম কাওসার। তাদের ভাষায় কাওসার অর্থ অধিক কল্যাণ। সঠিক কথা হলো হাওযের ব্যবস্থা হবে মীযানের পূর্বে। কারণ মানুষেরা কবর থেকে পিপাসার্ত হয়ে বের হবে। অতঃপর তারা নবীদের অবস্থানস্থলে হাওয থাকবে। আমি বলি, জামি‘তে রয়েছে, হে নবী (ﷺ) আপনার জন্য হাওযে কাওসার রয়েছে।তারা গর্ব করে বলবে যে, কারা বেশি আগমন করেছে? আমি আশা করি যে, আমি তাদের মাঝে সর্বাধিক সংখ্যা নিয়ে আগমনকারী হব। রাগিব (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, (الشَّفْعُ) বলা হয় কোন জিনিসকে অনুরূপ জিনিসের সাথে যুক্ত করা এখান থেকে (الشَّفَاعَةُ) নির্গত হয়েছে। আর তা বলা হয় অন্যকে সাহায্য করার জন্য তার সাথে যোগদান করা তার থেকে গোপন হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে সাধারণের তুলনায় বেশি মর্যাদাবান ব্যক্তির যুক্ত হওয়া তার চাইতে কম মর্যাদার লোকের সাথে শাফা‘আত সংঘটিত হবে কিয়ামতে। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
উম্মতের জন্য নবী صلى الله عليه وسلم-এর দোয়া ও দরদ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৫৭৭-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৫৭৭-[১২]
وَعَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَلَا قَوْلَ اللَّهِ تَعَالَى فِي إِبْرَاهِيمَ: [رَبِّ إِنَّهُنَّ أَضْلَلْنَ كَثِيرًا مِنَ النَّاسِ فَمَنْ تَبِعَنِي فَإِنَّهُ مني﴿ وَقَالَ عِيسَى: ﴾إِن تُعَذبهُمْ فَإِنَّهُم عِبَادك﴿ فَرَفَعَ يَدَيْهِ فَقَالَ «اللَّهُمَّ أُمَّتِي أُمَّتِي» .وَبَكَى فَقَالَ اللَّهُ تَعَالَى: «يَا جِبْرِيلُ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ وَرَبُّكَ أَعْلَمُ فَسَلْهُ مَا يُبْكِيهِ؟» . فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَسَأَلَهُ فَأَخْبَرَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِمَا قَالَ فَقَالَ اللَّهُ لِجِبْرِيلَ اذْهَبْ إِلَى مُحَمَّدٍ فَقُلْ: إِنَّا سَنُرْضِيكَ فِي أمَّتك وَلَا نسوؤك .رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (346 / 202)، (499) ۔ (صَحِيح)
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন নবী (ﷺ) ইবরাহীম (আঃ)-এর উক্তি সংবলিত এ আয়াতটি তিলাওয়াত করলেন, (অর্থাৎ) “হে প্রভু! এ সকল মূর্তিগুলো বহু মানুষকে বিভ্রান্ত ও গোমরাহ করেছে, অতএব যে আমার অনুকরণ করবে সে-ই আমার দলভুক্ত, কিন্তু কেউ আমার অবাধ্য হলে তুমি তো ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু”- (সূরা ইব্রা-হীম ১৪ : ৩৬)। আর ‘ঈসা (আঃ)-এর উক্তিও পাঠ করলেন, অর্থাৎ “যদি তুমি তাদেরকে শাস্তি দাও, তারা তো তোমারই বান্দা”- (সূরা আল মায়িদাহ ৫ : ১১৮)।অতঃপর নবী (ﷺ) নিজের হস্তদ্বয় উঠিয়ে এ ফরিয়াদ করতে লাগলেন, হে আল্লাহ! আমার উম্মাত, আমার উম্মাত! (তুমি তাদেরকে ক্ষমা কর) এই বলে তিনি কাঁদতে লাগলেন। তখন আল্লাহ তা'আলা জিবরীল (আঃ)-কে বললেন, তুমি মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কাছে যাও এবং তাঁকে প্রশ্ন কর তিনি (ﷺ) কেন কাঁদছেন? অবশ্য আল্লাহ তা'আলা ভালোভাবেই জানেন, তাঁর কান্নার কারণ কী? তখন জিবরীল (আঃ) এসে তাঁকে প্রশ্ন করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে তাই অবগত করলেন যা তিনি বলেছিলেন, অতঃপর আল্লাহ তা'আলা জিবরীল (আঃ)-কে পুনরায় বললেন, মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর কাছে যাও এবং তাঁকে বল, আমি আপনাকে আপনার উম্মাতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করে দেব এবং আপনাকে কষ্ট দেব না।
সহীহ: মুসলিম ৩৪৬-(২০২), শু’আবূল ঈমান ৩০৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ৭২৩৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১১২৬৯, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ১৫১৫, আল মু'জামুল আওসাত্ব ৮৮৯৪।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৫৭৭-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর উম্মতের প্রতি গভীর মমতা প্রকাশ পেয়েছে। তিনি ইবরাহীম (আঃ)-এর দোয়ার আয়াত তিলাওয়াত করেন, যেখানে অনুসরণকারীদের কথা এবং অবাধ্যদের ব্যাপারে আল্লাহর ক্ষমা ও দয়ার কথা আছে। এরপর ঈসা (আঃ)-এর কথাও পড়েন, যেখানে বলা হয়েছে, যদি তুমি তাদের শাস্তি দাও, তারা তোমার বান্দা। এরপর রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দুই হাত তুলে বললেন, ‘হে আল্লাহ! আমার উম্মত, আমার উম্মত!’ এবং কাঁদলেন। আল্লাহ জিবরীল (আঃ)-কে পাঠালেন, যদিও তিনি কান্নার কারণ জানতেন। শেষে আল্লাহ জানালেন, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে তাঁর উম্মতের ব্যাপারে সন্তুষ্ট করবেন এবং তাঁকে কষ্ট দেবেন না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উম্মতের জন্য গভীর দরদ রাখতেন।
- উম্মতের জন্য দোয়া করা নববী আদর্শের অংশ।
- আল্লাহ তাঁর নবীকে উম্মতের ব্যাপারে সান্ত্বনা দিয়েছেন।
- কুরআনের আয়াত তিলাওয়াত মানুষকে দোয়া ও কান্নার দিকে নিতে পারে।
