৪/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮২-[২] - দুই দিনের সালাতের সময় শিক্ষা
(সালাতের) সময়সমূহ - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে সালাতের সময় সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সময় বলতে যে সময়কে আল্লাহ তা‘আলা সালাত আদায়ের জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন সেই সময়কেই বুঝানো হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ’‘নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে সালাত আদায় করা মু‘মিনদের ওপর ফরয।’’ (সূরাহ্ আন্ নিসা ৪: ১০৩)সালাতের সময় সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় ইঙ্গিত দিয়েছেন। আর জিবরীল (আঃ) নবী (ﷺ)-কে সরাসরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সালাতের সময় সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
দুই দিনে শেখানো সালাতের ওয়াক্তের সীমা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৮২-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮২-[২]
وَعَنْ بُرَيْدَةَ قَالَ اِنَّ رَجُلًا سَأَلَ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ لَه صَلِّ مَعَنَا هَذَيْنِ يَعْنِي الْيَوْمَيْنِ فَلَمَّا زَالَتِ الشَّمْسُ أَمَرَ بِلَالًا فَأَذَّنَ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الظُّهْرَ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ بَيْضَاءُ نَقِيَّةٌ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْمَغْرِبَ حِينَ غَابَتِ الشَّمْسُ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْعِشَاءَ حِينَ غَابَ الشَّفَقُ ثُمَّ أَمَرَه فَأَقَامَ الْفَجْرَ حِينَ طَلَعَ الْفَجْرُ فَلَمَّا أَنْ كَانَ الْيَوْمُ الثَّانِي أَمَرَه فَأَبْرِدْ بِالظُّهْرِ فَأَبْرَدَ بِهَا فَأَنْعَمَ أَنْ يُبْرِدَ بِهَا وَصَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ أَخَّرَهَا فَوْقَ الَّذِي كَانَ وَصَلَّى الْمَغْرِبَ قَبْلَ أَنْ يَغِيبَ الشَّفَقُ وَصَلَّى الْعِشَاءَ بَعْدَمَا ذَهَبَ ثُلُثُ اللَّيْلِ وَصَلَّى الْفَجْرَ فَأَسْفَرَ بِهَا ثُمَّ قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ فَقَالَ الرَّجُلُ أَنَا يَا رَسُولَ اللهِ قَالَ وَقْتُ صَلَاتِكُمْ بَيْنَ مَا رَأَيْتُمْ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
বুরাইদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল। তিনি বললেন, আমাদের সাথে এ দুই দিন সালাত আদায় কর। প্রথমদিন সূর্য ঢলে পড়লে তিনি বিলাল (রাঃ)-কে হুকুম দিলেন আযান দিতে। বিলাল (রাঃ) আযান দিলেন। এরপর তিনি নির্দেশ দিলে বিলাল (রাঃ) যুহরের সালাতের ইক্বামাত দিলেন। অতঃপর (আসরের সময়) তিনি বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি আসরের সালাতের ইক্বামাত দিলেন। তখনও সূর্য বেশ উঁচুতে ও পরিষ্কার সাদা।অতঃপর তিনি (ﷺ) বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি মাগরিবের ইক্বামাত দিলেন। তখন সূর্য দেখা যাচ্ছে না। এরপর বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি ইশার সালাতের ইক্বামাত দিলেন, যখন মাত্র লালিমা অদৃশ্য হল। তারপর তিনি (ﷺ) বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলে তিনি ফজরের সালাতের ইক্বামাত দিলেন। তখন ঊষা (সুবহে সাদিক) দেখা দিয়েছে।যখন দ্বিতীয় দিন এলো তিনি (ﷺ) বিলাল (রাঃ)-কে নির্দেশ দিলেন, যুহরের সালাত ঠান্ডা পড়া পর্যন্ত দেরী করতে। বিলাল (রাঃ) দেরী করলেন। রোদের তাপ ঠান্ডা হওয়া পর্যন্ত দেরী করলেন। তারপর আসরের সালাত আদায় করলেন। সূর্য তখন উঁচুতে অবস্থিত, কিন্তু সালাতে পূর্বের দিনের চেয়ে বেশী দেরী করলেন। মাগরিবের সালাত আদায় করলেন লালিমা অদৃশ্য হবার কিছুক্ষণ আগে। আর এ দিন ইশার সালাত আদায় করলেন রাতের এক তৃতীয়াংশ শেষ হবার পর। অতঃপর ফজরের সালাত আদায় করলেন বেশ পরিষ্কার হওয়ার পর।সবশেষে তিনি (ﷺ) বললেন, সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞাসাকারী ব্যক্তি কোথায়? সে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! এই যে আমি। তিনি বললেন, তোমাদের জন্য সালাত আদায় করার ওয়াক্ত হল, তোমরা যা (দুই সীমা) দেখলে তার মধ্যস্থলে। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৬১৩, ইবনু মাজাহ্ ৬৬৭, তিরমিযী ১৫২, সহীহ ইবনু খুযাইমাহ্ ৩২৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৪৯২, আহমাদ ২২৯৫৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮২-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একজন ব্যক্তি সালাতের ওয়াক্ত জানতে চাইলে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم তাকে শুধু কথায় উত্তর দেননি, বরং দুই দিন তাঁর সাথে সালাত আদায় করতে বলেছেন। প্রথম দিন তিনি সালাতগুলো শুরু সময়ের কাছাকাছি আদায় করলেন। যুহর সূর্য ঢলার পর, আসর সূর্য উঁচু ও সাদা থাকতেই, মাগরিব সূর্য অস্ত গেলে, ইশা লালিমা মিলিয়ে গেলে এবং ফাজর সুবহে সাদিক প্রকাশ হলে আদায় করলেন। দ্বিতীয় দিন তিনি কিছু সালাত দেরি করে আদায় করলেন, যাতে সময়ের শেষ দিক বোঝা যায়। শেষে বললেন, তোমাদের সালাতের ওয়াক্ত এই দুই সীমার মাঝখানে। এই হাদিস সালাতের সময়সীমা বোঝার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতের ওয়াক্ত শুরু ও শেষের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময় থাকে।
- রাসূল صلى الله عليه وسلم বাস্তবভাবে সালাতের সময় শিক্ষা দিয়েছেন।
- যুহর, আসর, মাগরিব, ইশা ও ফাজরের আলাদা সময়সীমা আছে।
- ওয়াক্ত বুঝে সালাত আদায় করা মুসলিম জীবনের প্রয়োজনীয় অংশ।
