৩০/১. অধ্যায়ঃ
কুরাইশ ও অন্যান্য গোত্রসমূহের গুণাবলি - তৃতীয় অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬০০৩-[২৫]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৬০০৩-[২৫]
وَعَنْ أَبِي نَوْفَلٍ مُعَاوِيَةَ بْنِ مُسْلِمٍ قَالَ: رَأَيْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ الزُّبَيْرِ عَلَى عَقَبَةِ الْمَدِينَةِ قَالَ فَجَعَلَتْ قُرَيْشٌ تَمُرُّ عَلَيْهِ وَالنَّاسُ حَتَّى مَرَّ عَلَيْهِ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَوقف عَلَيْهِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ السَّلَامُ عَلَيْكَ أَبَا خُبَيْبٍ أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ لَقَدْ كُنْتُ أَنْهَاكَ عَنْ هَذَا أَمَا وَاللَّهِ إِنْ كُنْتَ مَا عَلِمْتُ صَوَّامًا قَوَّامًا وَصُولًا لِلرَّحِمِ أَمَا وَاللَّهِ لَأُمَّةٌ أَنْتَ شَرُّهَا لَأُمَّةُ سَوْءٍ - وَفِي رِوَايَةٍ لَأُمَّةُ خَيْرٍ - ثُمَّ نَفَذَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ فَبَلَغَ الْحَجَّاجَ مَوْقِفُ عَبْدِ اللَّهِ وَقَوْلُهُ فَأَرْسَلَ إِلَيْهِ فَأُنْزِلَ عَنْ جِذْعِهِ فَأُلْقِيَ فِي قُبُورِ الْيَهُودِ ثُمَّ أَرْسَلَ إِلَى أُمِّهِ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ فَأَبَتْ أَنْ تَأْتِيَهُ فَأَعَادَ عَلَيْهَا الرَّسُولَ لَتَأْتِيَنِّي أَوْ لَأَبْعَثَنَّ إِلَيْكِ مَنْ يَسْحَبُكِ بِقُرُونِكِ. قَالَ: فَأَبَتْ وَقَالَتْ: وَاللَّهِ لَا آتِيكَ حَتَّى تَبْعَثَ إِلَيَّ من يسحبُني بقروني. قَالَ: فَقَالَ: أَرُونِي سِبْتِيَّ فَأَخَذَ نَعْلَيْهِ ثُمَّ انْطَلَقَ يَتَوَذَّفُ حَتَّى دَخَلَ عَلَيْهَا فَقَالَ: كَيْفَ رَأَيْتِنِي صَنَعْتُ بِعَدُوِّ اللَّهِ؟ قَالَتْ: رَأَيْتُكَ أَفْسَدْتَ عَلَيْهِ دُنْيَاهُ وَأَفْسَدَ عَلَيْكَ آخِرَتَكَ بَلَغَنِي أَنَّكَ تَقُولُ لَهُ: يَا ابْنَ ذَاتِ النِّطَاقَيْنِ أَنَا وَاللَّهِ ذَاتُ النِّطَاقَيْنِ أَمَّا أَحَدُهُمَا فَكُنْتُ أَرْفَعُ بِهِ طَعَامَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَطَعَامَ أَبِي بَكْرٍ مِنَ الدَّوَابِّ وَأَمَّا الْآخَرُ فنطاق المرأةِ الَّتِي لَا تَسْتَغْنِي عَنهُ أما أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدثنَا: «أَن فِي ثَقِيف كذابا ومبيرا» . فَأَما الْكَذَّابُ فَرَأَيْنَاهُ وَأَمَّا الْمُبِيرُ فَلَا إِخَالُكَ إِلَّا إِيَّاه. قَالَ فَقَامَ عَنْهَا وَلم يُرَاجِعهَا. رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (229 / 2545)، (6496) ۔ (صَحِيح)
আবূ নাওফাল মু'আবিয়াহ্ ইবনু মুসলিম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মাদীনামুখী মাক্কার গিরিপথে আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ) -কে (অর্থাৎ তাঁর মৃত লাশ) দেখতে পাই। তিনি বলেন, তাঁর কাছ দিয়ে কুরায়শ ও অন্যান্য বহু লোকই অতিক্রম করে যাচ্ছিল, অবশেষে ‘আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রাঃ) তাঁর পার্শ্ব দিয়ে যাওয়ার বেলায দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আস্সালামু 'আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব, আস্সালা-মু ‘আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব, আস্সালা-মু 'আলাইকা ইয়া আবা খুবায়ব।' অতঃপর বললেন, জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা হয়েছে, জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা ঘটেছে। জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! নিশ্চয় আমি তোমাকে এমন কাজ হতে নিষেধ করেছিলাম যার ফলে এটা ঘটেছে। জেনে রাখ! আল্লাহর কসম! আমার জানা মতে তুমি ছিলে অধিক সিয়ামদার, খুব বেশি ‘ইবাদাত ও তাহাজ্জুদগুযার এবং আত্মীয়-স্বজনদের প্রতি সদ্ব্যবহারকারী। জেনে রাখ! আল্লাহর শপথ! যে দলের ‘আক্বীদাহ্ ও ধারণা মন্দ তাদের নিকট প্রকৃতপক্ষে তুমি মন্দ নও। তিনি এটা বলেছিলেন উপহাসস্বরূপ।অপর এক বর্ণনাতে আছে, হ্যাঁ, তারা খুব চমৎকার একটি গোষ্ঠী। (বর্ণনাকারী বলেন,) এরপর 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমার (রাঃ) তথা হতে চলে গেলেন।অতঃপর 'আবদুল্লাহ-এর উক্ত স্থানে দাঁড়ানো এবং উল্লিখিত কথাগুলো বলার সংবাদটি হাজ্জাজ-এর কাছে পৌঁছল। অতঃপর সে ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ)-এর লাশের কাছে লোক পাঠালেন এবং শূলির কাষ্ঠ হতে লাশটি নামিয়ে ইয়াহুদীদের কবরস্থানে ফেলে দিলো। এরপর হাজ্জাজ তাঁর মাতা আসমা' বিনতু আবূ বাক্ (রাঃ)-কে তার কাছে ডেকে পাঠাল; কিন্তু আসমা' (রাঃ) তার কাছে আসতে অস্বীকার করলেন। অতঃপর হাজ্জাজ এ কথা বলে আবার লোক পাঠাল যে, তাকে গিয়ে বল! হয়তো তুমি স্বেচ্ছায় আমার কাছে আসবে অথবা আমি তোমার কাছে এমন লোককে পাঠাব, যে তোমার চুলের বেণি চেপে ধরে তোমাকে হেঁচড়িয়ে টেনে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা' (রাঃ) এবারও আসতে অস্বীকার জানিয়ে বললেন, আল্লাহর শপথ! আমি তোমার কাছে ততক্ষণ অবধি আসব না, যে পর্যন্ত না তুমি এমন লোককে আমার কাছে পাঠাবে, যে আমার চুলের বেণি ধরে আমাকে হেঁচড়িয়ে নিয়ে আসবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ কথা শুনে হাজ্জাজ বলল, তোমরা আমার জুতা দাও। অতঃপর সে তার জুতা পরিধান করল এবং দ্রুত রওয়ানা হলো এবং আসমা' (রাঃ)-এর কাছে এসে বলল, আল্লাহর দুশমন আবদুল্লাহ ইবনুয্ যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে আমি যে আচরণ করেছি- এ ব্যাপারে তুমি আমাকে কেমন পেলে? উত্তরে তিনি বললেন, ‘আমি দেখেছি, তুমি তার দুনিয়াকে ধ্বংস করেছ, আর সে তোমার আখিরাতকে ধ্বংস করে দিয়েছে।' আমার কাছে এ খবরও পৌঁছেছে, তুমি নাকি তাকে (উপহাসস্বরূপ) বলছ, হে দুই ফিতাওয়ালী সন্তান! আল্লাহর শপথ! আমিই সেই দুই ফিতাওয়ালী মহিলা। জেনে রাখ, তার (আমার কোমরে বাঁধবার দো-পাট্টার) একখণ্ড দ্বারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবূ বাক্ব (রাঃ)-এর সফরের খাদ্য বেঁধে উপরে ঝুলিয়ে রাখতাম এ আশঙ্কায় যাতে ইঁদুর বা অন্য কোন জীবজন্তু কোন ক্ষতি করতে না পারে এবং অপর খণ্ড ঐ কাজে ব্যবহার করতাম যা হতে কোন নারী অমুখাপেক্ষী থাকতে পারে না। জেনে রাখ, একদিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদেরকে বর্ণনা করেছেন, সাক্বীফ গোত্রে এক চরম মিথ্যাবাদী ও এক মহা অত্যাচারী জন্মগ্রহণ করবে। অতএব সে চরম মিথ্যুক (মুখতার)-কে আমরা এর আগে দেখেছি। আর আমার দৃঢ় বিশ্বাস তুমিই সেই মহা অত্যাচারী যালিম। বর্ণনাকারী বলেন, আসমা' (রাঃ)-এর মুখে উপরিউক্ত কথাগুলো শুনে হাজ্জাজ কোন প্রত্যুত্তর না করে চলে গেল।
সহীহ: মুসলিম ২২৯-(২৫৪৫)।
