৩০/১০. অধ্যায়ঃ
নবী-এর পরিবার-পরিজনদের মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬১৩৮-[৪]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৬১৩৮-[৪]
وَعَنْ عَائِشَةَ: قَالَتْ: كُنَّا - أَزْوَاجَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ - عِنْدَهُ. فَأَقْبَلَتْ فَاطِمَةُ مَا تَخْفَى مِشْيَتُهَا مِنْ مِشْيَةِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَلَمَّا رَآهَا قَالَ: «مَرْحَبًا بِابْنَتِي» ثُمَّ أَجْلَسَهَا ثُمَّ سَارَّهَا فَبَكَتْ بُكَاءً شَدِيدًا فَلَمَّا رَأَى حُزْنَهَا سَارَّهَا الثَّانِيَةَ فَإِذَا هِيَ تَضْحَكُ فَلَمَّا قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَأَلْتُهَا عَمَّا سَارَّكِ؟ قَالَتْ: مَا كُنْتُ لِأُفْشِيَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سِرَّهُ فَلَمَّا تُوُفِّيَ قُلْتُ: عَزَمْتُ عَلَيْكِ بِمَا لي عَلَيْك مِنَ الْحَقِّ لِمَا أَخْبَرْتِنِي. قَالَتْ: أَمَّا الْآنَ فَنَعَمْ أَمَّا حِينَ سَارَّ بِي فِي الْأَمْرِ الأوَّل فإِنه أَخْبرنِي: «إِنَّ جِبْرِيل كَانَ يُعَارضهُ بِالْقُرْآنِ كل سنة مرّة وَإنَّهُ قد عَارَضَنِي بِهِ الْعَامَ مَرَّتَيْنِ وَلَا أَرَى الْأَجَلَ إِلَّا قَدِ اقْتَرَبَ فَاتَّقِي اللَّهَ وَاصْبِرِي فَإِنِّي نعم السّلف أَنا لَك» فَلَمَّا رَأَى جَزَعِي سَارَّنِيَ الثَّانِيَةَ قَالَ: «يَا فَاطِمَةُ أَلَا تَرْضِينَ أَنْ تَكُونِي سَيِّدَةَ نِسَاءِ أَهْلِ الْجَنَّةِ أَوْ نِسَاءِ الْمُؤْمِنِينَ؟» وَفِي رِوَايَةٍ: فَسَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنَّهُ يُقْبَضُ فِي وَجَعِهِ فَبَكَيْتُ ثُمَّ سَارَّنِي فَأَخْبَرَنِي أَنِّي أَوَّلُ أَهْلِ بَيْتِهِ أتبعه فَضَحكت. مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (6285 ۔ 6286 و الروایۃ الثانیۃ : 3626) و مسلم (98 / 2450 و الروایۃ الثانیۃ : 97 / 2450)، (6313) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা নবী (ﷺ) এর স্ত্রীগণ তাঁর কাছে বসা ছিলাম। এমন সময় ফাতিমা (রাঃ) আসলেন। তাঁর চলার ভঙ্গি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর চলার ভঙ্গির সাথে পরিষ্কার মিল ছিল। তিনি (ﷺ) তাঁকে দেখে বললেন, হে আমার কন্যা! তোমার আগমন মুবারক হোক। অতঃপর তিনি (ﷺ) তাঁকে নিজের কাছে বসালেন, তারপর চুপে চুপে তাঁকে কিছু বললেন। এতে ফাতিমা (রাঃ) ভীষণভাবে কাঁদতে লাগলেন। অতঃপর যখন তাঁর অস্থিরতা দেখলেন, তখন তিনি (ﷺ) আবার তাঁর কানে চুপে চুপে কিছু বললেন, এবার তিনি হাসতে লাগলেন।অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সেখান থেকে উঠে গেলেন, তখন আমি ফাতিমাকে প্রশ্ন করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) চুপে চুপে তোমার সাথে কি কথা বলেছেন? উত্তরে ফাতিমা (রাঃ) বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর গোপনীয়তা ফাঁস করতে চাই না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর ওফাতের পর আমি ফাতিমাকে বললাম, তোমার ওপর আমার যে অধিকার রয়েছে, তার প্রেক্ষিতে আমি তোমাকে ক্বম দিয়ে বলছি, সে রহস্য সম্পর্কে তুমি আমাকে অবশ্যই অবহিত করবে। ফাতিমা (রাঃ) বললেন, এখন সে কথাটি প্রকাশ করতে কোন আপত্তি নেই।প্রথমবার যখন তিনি চুপি চুপি আমাকে কিছু কথা বললেন, তখন তিনি আমাকে বলেছিলেন, জিবরীল (আঃ) প্রতি বছর (রমাযানে) একবার পুরো কুরআন মাজীদকে আমার কাছ থেকে শুনতেন, আমাকে শুনাতেন, কিন্তু এ বছর তিনি তা দু'বার দাওর করেছেন। তাতে আমি ধারণা করি যে, আমার ওফাতের সময় নিকটবর্তী হয়ে গেছে। অতএব আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্যধারণ কর। আমি তোমার জন্য শ্রেয় অগ্রযাত্রী। এ কথা শুনে আমি কাঁদতে লাগলাম। অতঃপর যখন তিনি ((ﷺ)) আমাকে অস্থিরতা দেখলেন তখন চুপে চুপে বললেন, হে ফাত্বিমাহ্! তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তুমি হবে জান্নাতের নারীকুলের নেতা অথবা মুমিন নারীদের নেত্রী? অপর এক বর্ণনাতে আছে, তিনি (ﷺ) চুপে চুপে আমাকে এ খবরটি দিয়েছেন যে, এই অসুখেই তিনি মৃত্যুবরণ করবেন। তখন আমি কাঁদতে লাগলাম। তারপর (দ্বিতীয়বার) তিনি চুপে চুপে আমাকে এ সংবাদটি দিলেন যে, তাঁর পরিজনদের মধ্যে আমিই সর্বপ্রথম তাঁর পশ্চাদগামী হব, তখন আমি হেসে ফেললাম।
সহীহ: বুখারী ৩৬২৩, মুসলিম ৯৮-(২৪৫০), ইবনু মাজাহ ১৬২১, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ৭৮৯, সিলসিলাতুস্ সহীহাহ্ ২৯৪৮, মুসনাদে আহমাদ ২৬৪৫৬, আবূ ইয়া'লা ৬৭৪৫, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৮৩৬৮, হিলইয়াতুল আওলিয়া ২৪০, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৮৪৬৫, আল আদাবুল মুফরাদ ১০৩০।
