৩০/১২. অধ্যায়ঃ
সমষ্টিগতভাবে মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৬২২৫-[৩০]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৬২২৫-[৩০]
وَعَنْ عَلِيٍّ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ قَالَ: بَعَثَنِي رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنَا وَالزُّبَيْر والمقداد - وَفِي رِوَايَة: أَبَا مَرْثَدٍ بَدَلَ الْمِقْدَادِ - فَقَالَ: «انْطَلِقُوا حَتَّى تَأْتُوا رَوْضَةَ خَاخٍ فَإِنَّ بِهَا ظَعِينَةً مَعَهَا كِتَابٌ فَخُذُوا مِنْهَا» فَانْطَلَقْنَا تَتَعَادَى بِنَا خَيْلُنَا حَتَّى أَتَيْنَا الرَّوْضَة فَإِذا نَحن بِالظَّعِينَةِ قُلْنَا لَهَا: أَخْرِجِي الْكتاب قَالَت: مَا معي كِتَابٍ. فَقُلْنَا لَتُخْرِجِنَّ الْكِتَابَ أَوْ لَتُلْقِيَنَّ الثِّيَابَ فَأَخْرَجَتْهُ مِنْ عِقَاصِهَا فَأَتَيْنَا بِهِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِذَا فِيهِ: مِنْ حَاطِبِ بْنِ أَبِي بَلْتَعَةَ إِلَى نَاسٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ مِنْ أَهْلِ مَكَّةَ يُخْبِرُهُمْ بِبَعْضِ أَمَرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا حَاطِبُ مَا هَذَا؟» فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ لَا تَعْجَلْ عَلَيَّ إِنِّي كُنْتُ امْرَأً مُلْصَقًا فِي قُرَيْشٍ وَلَمْ أَكُنْ مِنْ أَنْفُسِهِمْ وَكَانَ مَنْ مَعَك من الْمُهَاجِرين من لَهُم قَرَابَات يحْمُونَ بهَا أَمْوَالهم وأهليهم بِمَكَّةَ فَأَحْبَبْتُ إِذْ فَاتَنِي ذَلِكَ مِنَ النَّسَبِ فِيهِمْ يَدًا يَحْمُونَ بِهَا قَرَابَتِي وَمَا فَعَلْتُ كفرا وَلَا ارْتِدَادًا عَن ديني وَلَا رضى بِالْكُفْرِ بَعْدَ الْإِسْلَامِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنَّهُ قَدْ صَدَقَكُمْ» فَقَالَ عُمَرُ: دَعْنِي يَا رَسُولَ اللَّهِ أَضْرِبْ عُنُقَ هَذَا الْمُنَافِقِ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّهُ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا وَمَا يُدْرِيكَ لَعَلَّ اللَّهَ اطَّلَعَ عَلَى أَهْلِ بَدْرٍ فَقَالَ: اعْمَلُوا مَا شِئْتُم فقد وَجَبت لكم الجنةُ « وَفِي رِوَايَة فقد غَفَرْتُ لَكُمْ» فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى [يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَتَّخِذُوا عَدُوِّي وَعَدُوَّكُمْ أَوْلِيَاءَ] . مُتَّفق عَلَيْهِ متفق علیہ ، رواہ البخاری (6259 و الروایۃ الثانیۃ : 4274) و مسلم (161 / 2494)، (6401) ۔ (مُتَّفق عَلَيْهِ)
আলী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এবং যুবায়র ও মিক্বদাদ-কে, অপর এক বর্ণনায় মিক্বদাদ-এর পরিবর্তে আছে, আবূ মারসাদ-কে পাঠিয়ে বললেন, তোমরা 'রওযাহ্ খাখ' নামক স্থানে যাও, সেখানে গিয়ে এক উষ্ট্রারোহী মহিলাকে পাবে। তার কাছে একটি পত্র আছে। অতএব তোমরা তার কাছ হতে উক্ত পত্রখানা নিয়ে আসবে।('আলী (রাঃ) বলেন,) আমরা সকলে খুব দ্রুত ঘোড়া দৌড়িয়ে যাত্রা করলাম। অবশেষে উক্ত রওযাহ্ নামক স্থানে পৌঁছে আমরা উষ্ট্রারোহী মহিলাকে পেলাম। অতঃপর আমরা বললাম, ‘পত্রটি বের কর'। সে বলল, আমার কাছে কোন পত্ৰ নেই। আমরা বললাম, স্বেচ্ছায় পত্রটি বের করে দাও, নতুবা আমরা তোমাকে উলঙ্গ করে সন্ধান চালাব। শেষ পর্যন্ত সে তার চুলের বেণির ভিতর হতে পত্রখানা বের করে দিল।অতঃপর আমরা তা নিয়ে নবী (ﷺ) এর কাছে এসে পৌছলাম। চিঠিখানা খুলতেই দেখা গেল, (উক্ত চিঠিখানা) মাক্কার মুশরিকদের কতিপয় লোকেদের প্রতি হাতিব ইবনু আবূ বালতা'আহ্-এর তরফ থেকে। এতে তিনি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কিছু সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদেরকে অবহিত করছেন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হাতিবকে (ডেকে) প্রশ্ন করলেন, হে হাজ্বিব! এটা কি ব্যাপার?তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বিরুদ্ধে ত্বরিৎ কোন সিদ্ধান্ত নেবেন না। প্রকৃত ব্যাপার হলো, আমি হলাম কুরায়শদের মধ্যে একজন বহিরাগত লোক। আমি তাদের বংশের অন্তর্ভুক্ত নই। আর আপনার সাথে যে সকল মুহাজির রয়েছেন, তাঁদের বংশীয় আত্মীয়স্বজন সেখানে (মাক্কায়) রয়েছেন, ফলে মাক্কার মুশরিকগণ উক্ত আত্মীয়তার প্রেক্ষিতে ঐ সমস্ত মুহাজিরদের ধন-সম্পদ এবং অবশিষ্ট আপনজনদের হিফাযাত করে থাকে। কুরায়শদের মাঝে যখন আমার কোন আত্মীয়-আপনজন নেই, তখন আমি এটাই চেয়েছি যে, মাক্কার শত্রু সম্প্রদায়ের প্রতি কিছু ইহসান করি, যাতে তারা আমার প্রতি সন্তুষ্ট হয় এবং তাদের অনিষ্ট হতে আমার আত্মীয়স্বজন নিরাপদে থাকে। আমি এ কাজটি এজন্য করিনি যে, আমি কাফির কিংবা দীন হতে মুরতাদ হয়ে গেছি। আর না ইসলাম গ্রহণ করার পর আমি কুফ্রীর দিকে আকৃষ্ট থেকে এরূপ করেছি।তাঁর বক্তব্য শুনে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, হাজ্বিব তোমাদের সামনে সত্য কথাই বলেছে। উমর (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিক্বের ঘাড় উড়িয়ে দেই।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, নিশ্চয় ইনি একজন বদ্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী। তুমি প্রকৃত বিষয়টি কি জান? সম্ভবত আল্লাহ তা'আলা বদ্র যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের প্রতি লক্ষ্য করেই বলেছেন, ‘তোমরা যা ইচ্ছা কর, তোমাদের জন্য জান্নাত অবধারিত।' অন্য বর্ণনায় আছে, আমি তোমাদেরকে মাফ করে দিলাম। এরপর হাতিব ও অন্যান্যদেরকে সতর্ক করার জন্য আল্লাহ তা'আলা অবতীর্ণ করলেন- “হে ঈমানদারগণ! আমার ও তোমাদের শত্রুদের (কাফির-মুশরিকদের) সাথে কোন প্রকারের বন্ধুত্ব স্থাপন করো না …” – (সূরাহ্ আল মুমতাহিনাহ্ ৬০ : ১)।
সহীহ: বুখারী ৩০০৭, মুসলিম ১৬১, আবূ দাউদ ২৬৫০, তিরমিযী ৩৩০৫, সহীহ আবূ দাউদ ২৩৮১, মা'রিফাতুস্ সুনান ওয়াল আসার লিল বায়হাকী ৫৭১৮, মুসনাদে আবd ইবনু হুমায়দ ৮৩, মুসনাদুশ শাফি'ঈ ১৪৮৫, মুসনাদুল হুমায়দী ৪৯, মুসনাদুল বাযযার ৫৩০, মুসনাদে আহমাদ ৬০০, মুসনাদে আবূ ইয়া'লা ৩৯৪, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৪৯৯, শু’আবূল ঈমান ৯৩৭১, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ১১৫৮৫, আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৮৯০০।
