৪/১০. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭৯২-[৩] - রুকু সিজদার সুন্দর নিয়ম

সালাতের নিয়ম-কানুন - প্রথম অনুচ্ছেদ

صِفَةُ الصَّلَاةِএর অর্থ সালাতের গুণাগুন, বৈশিষ্ট্য, বিবরণ, বর্ণনা ইত্যাদি। এখানে উদ্দেশ্য হলো সালাতের যাবতীয় বিধি-বিধান। যেমন আরকাম, আহকাম, সুন্নাত, মুসতাহাব, ওয়াজিব ইত্যাদি। ইমাম ইবনু হুমাম এর মতেصِفَةٌওوَصْفٌএর মধ্যে অর্থের কোন ব্যবধান নেই। তবে এখানেوَصْفٌএর মর্মার্থ হলো সালাতের প্রকৃত কাজ-কর্ম যেমন ক্বিয়াম (কিয়াম), রুকূ‘, সিজদা্ (সিজদা/সেজদা) ইত্যাদি অধ্যায়ে আলোচিত হবে।

রুকু সিজদা ও বসার নববী পদ্ধতি

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৭৯২-[৩]

وَعَنْ أَبِيْ حُمَيْدٍ السَّاعِدِيُّ قَالَ فِيْ نَفَرٍ مِّنْ أَصْحَابِ رَسُوْل اللهِ ﷺ أَنَا أَحْفَظُكُمْ لِصَلَاةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ رَأَيْتُه إِذَا كَبَّرَ جَعَلَ يَدَيْهِ حِذَاءَ مَنْكِبَيْهِ وَإِذَا رَكَعَ أَمْكَنَ يَدَيْهِ مِنْ رُكْبَتَيْهِ ثُمَّ هَصَرَ ظَهْرَه فَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ اسْتَوى حَتّى يَعُودَ كُلُّ فَقَارٍ مَكَانَه فَإِذَا سَجَدَ وَضَعَ يَدَيْهِ غَيْرَ مُفْتَرِشٍ وَلَا قَابِضِهِمَا وَاسْتَقْبَلَ بِأَطْرَافِ أَصَابِعِ رِجْلَيْهِ الْقِبْلَةَ فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَتَيْنِ جَلَسَ عَلى رِجْلِهِ الْيُسْرى وَنَصَبَ الْيُمْنى فَإِذَا جَلَسَ فِي الرَّكْعَةِ الْآخِرَةِ قَدَّمَ رِجْلَهُ الْيُسْرى وَنَصَبَ الْأُخْرى وَقَعَدَ عَلى مَقْعَدَتِه. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

আবূ হুমায়দ আস্ সা'ইদী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর একদল সাহাবীর মধ্যে বললেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আপনাদের চেয়ে বেশি আমি মনে রেখেছি। আমি তাঁকে দেখেছি, তিনি তাকবিরে তাহরীমা বলার সময় দুই হাত দুই কাঁধ বরাবর উঠাতেন। রুকূ‘ করার সময় পিঠ নুইয়ে রেখে দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু শক্ত করে ধরতেন। আর মাথা উঠিয়ে ঠিক সোজা হয়ে দাঁড়াতেন। এতে প্রতিটি গ্রন্থি স্ব-স্ব স্থানে চলে যেত।তারপর তিনি সিজদা করতেন। এ সময় হাত দুইটি মাটির সাথে বিছিয়েও রাখতেন না, আবার পাঁজরের সাথে মিশাতেনও না এবং দুই পায়ের আঙ্গুলগুলোর মাথা কেবলামুখী করে রাখতেন। এরপর দুই রাক্‘আতের পরে যখন বসতেন বাম পায়ের উপরে বসতেন ডান পা খাড়া রাখতেন। সর্বশেষ রাক্‘আতে বাম পা বাড়িয়ে দিয়ে আর অপর পা খাড়া রেখে নিতম্বের উপর (ভর করে) বসতেন। (বুখারী)[১]

[১] সহীহ : বুখারী ৮২৮, ইরওয়া ৩৬৪।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৭৯২-[৩]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবু হুমাইদ সাঈদী রাঃ সাহাবীদের সামনে বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর সালাত বেশি মনে রেখেছেন। এরপর তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর সালাতের ধাপ বর্ণনা করেন। তাকবীরে তাহরীমার সময় নবী صلى الله عليه وسلم দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন। রুকুতে পিঠ নুইয়ে দুই হাত দিয়ে দুই হাঁটু শক্ত করে ধরতেন। রুকু থেকে উঠলে সোজা হয়ে দাঁড়াতেন, যাতে শরীরের প্রতিটি গ্রন্থি নিজ জায়গায় ফিরে আসে। সিজদায় হাত মাটিতে রাখতেন, তবে বিছিয়ে দিতেন না এবং শরীরের সাথে চেপেও ধরতেন না। পায়ের আঙুল কিবলামুখী থাকত। দুই রাকআতের পর বাম পায়ের ওপর বসতেন, ডান পা খাড়া রাখতেন। শেষ রাকআতে বাম পা এগিয়ে দিয়ে নিতম্বের ওপর বসতেন। এই হাদিস সালাতের ভঙ্গি শেখার জন্য খুব স্পষ্ট বর্ণনা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • তাকবীরে তাহরীমার সময় হাত কাঁধ বরাবর তোলার বর্ণনা এসেছে।
  • রুকুতে হাঁটু ধরা ও পিঠ নুইয়ে রাখা শেখানো হয়েছে।
  • সিজদায় হাত রাখা হবে, তবে বিছিয়ে দেওয়া বা চেপে ধরা নয়।
  • দুই রাকআতের পর ও শেষ বৈঠকের বসার ভঙ্গি আলাদা বর্ণিত হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন