৪/১১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৪-[৩] - সালাতে বরকতময় প্রশংসার বাক্য
তাকবীরে তাহরিমার পর যা পড়তে হয় - প্রথম অনুচ্ছেদ
এ অধ্যায়ে তাকবীরের পর সানা পড়ার বর্ণনা এসেছে। যাকে দু‘আয়ে ইফতিতাহ্ বা ইস্তিফতাহ্ বলা হয়। তাকবীরের পর বলতে তাকবীরে তাহরীমা অর্থাৎ- সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) শুরুর তাকবীরকে বুঝানো হয়েছে।
সালাতে ‘হামদান কাসীরান’ বলার ফজিলত
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮১৪-[৩]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮১৪-[৩]
وَعَنْ أَنَسٍ أَنَّ رَجُلًا جَاءَ فَدَخَلَ الصَّفَّ وَقَدْ حَفَزَهُ النَّفَسُ فَقَالَ اللهُ اَكْبَرُ الْحَمْدُ لِلّهِ حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ فَلَمَّا قَضى رَسُولُ اللهِ ﷺ صَلَاتَه قَالَ أَيُّكُمْ الْمُتَكَلِّمُ بِالْكَلِمَاتِ فَأَرَمَّ الْقَوْمُ فَقَالَ أَيُّكُمْ الْمُتَكَلِّمُ بِهَا فَإِنَّه لَمْ يَقُلْ بَأْسًا فَقَالَ رَجُلٌ وَقَدْ حَفَزَنِي النَّفَسُ فَقُلْتُهَا فَقَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ اثْنَيْ عَشَرَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا أَيُّهُمْ يَرْفَعُهَا.رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক লোক (তাড়াহুড়া করে) এসে সালাতের কাতারে শামিল হয়ে গেল। তার শ্বাস উঠানামা করছিল। সে বলল, “আল্লা-হু আকবার, আলহাম্দু লিল্লা-হি হামদান কাসীরান তাইয়্যিবাম্ মুবা-রাকান ফিহী ”, অর্থাৎ - “ আল্লাহ মহান। সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অনেক বেশী পাক-পবিত্র ও বরকতময়।”সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এ কথা বলেছে? সকলে চুপ হয়ে বসে আছে। তিনি আবার বললেন, তোমাদের মধ্যে কে এ কথাগুলো বলেছে? এবারও কেউ উত্তর দিল না। তিনি তৃতীয়বার জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কে বাক্যগুলো উচ্চারণ করেছে? যে ব্যক্তি এ কথাগুলো বলেছে সে আপত্তিকর কিছু বলেনি। এক ব্যক্তি আরয করল, আমি যখন এসেছি, আমার শ্বাস উঠানামা করছিল। আমিই একথা বলেছি। এবার নবী (ﷺ) বললেন, আমি দেখলাম বারজন মালাক কার আগে কে আল্লাহর কাছে এই কথাগুলো নিয়ে যাবে এ প্রতিযোগিতা করছে। [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ৬০০, নাসায়ী ৯০১, আবূ দাঊদ ৭৬৩, আহমাদ ১২৭১৩, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৭৬১, নাসায়ী ৯০১।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮১৪-[৩]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) বলেন, এক ব্যক্তি তাড়াহুড়া করে এসে সালাতের কাতারে দাঁড়াল। তার শ্বাস উঠানামা করছিল। সে বলল, ‘আল্লাহু আকবার, আলহামদু লিল্লাহি হামদান কাসীরান তাইয়্যিবাম মুবা-রাকান ফীহী’—অর্থাৎ আল্লাহ মহান, সব প্রশংসা আল্লাহর জন্য, এমন প্রশংসা যা অনেক, পবিত্র ও বরকতময়। সালাত শেষে নবী (صلى الله عليه وسلم) জিজ্ঞেস করলেন, কে এই কথাগুলো বলেছে। প্রথমে সবাই চুপ ছিল। এরপর তিনি জানান, যে ব্যক্তি বলেছে সে খারাপ কিছু বলেনি। লোকটি নিজে জানালে নবীজি বলেন, তিনি বারজন মালাককে দেখেছেন, কার আগে কে এই কথাগুলো আল্লাহর কাছে উঠাবে তা নিয়ে তারা প্রতিযোগিতা করছে। এই হাদিস সালাতে আল্লাহর হামদ, পবিত্র প্রশংসা ও সুন্দর যিকরের মর্যাদা বুঝায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাতে আল্লাহর প্রশংসা সুন্দর ও পবিত্র বাক্যে করা বর্ণিত হয়েছে।
- ভালো কথা বললে তা আপত্তিকর নয়—এ কথা নবীজি স্পষ্ট করেছেন।
- এই বাক্য নিয়ে মালাকদের আগ্রহের কথা হাদিসে এসেছে।
- সালাতে যিকর বলার সময় আদব ও অর্থের দিকে খেয়াল রাখা উচিত।
