১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭-[৯] - আমল কি আগে লেখা
তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন।পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।
মানুষের আমল ও পূর্বনির্ধারিত তাকদীর
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৮৭-[৯]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৮৭-[৯]
وَعَنْ عِمْرَانَ بْنِ الْحُصَيْنِ إِنَّ رَجُلَيْنِ مِنْ مُزَيْنَةَ قَالَا يَا رَسُولَ اللهِ أَرَأَيْتَ مَا يَعْمَلُ النَّاسُ الْيَوْمَ وَيَكْدَحُونَ فِيهِ أَشَيْءٌ قُضِيَ عَلَيْهِمْ وَمَضى فِيهِمْ مِنْ قَدَرٍ قَدْ سَبَقَ أَوْ فِيمَا يُسْتَقْبَلُونَ بِه مِمَّا أَتَاهُمْ بِه نَبِيُّهُمْ وَثَبَتَتْ الْحُجَّةُ عَلَيْهِمْ؟ فَقَالَ : لَا، بَلْ شَيْءٌ قُضِيَ عَلَيْهِمْ وَمَضى فِيهِمْ وَتَصْدِيقُ ذلِكَ فِي كِتَابِ اللهِ عَزَّ وَجَلَّ : ﴾وَنَفْسٍ وَمَا سَوَّاهَا فَأَلْهَمَهَا فُجُورَهَا وَتَقْوَاهَا﴿
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মুযায়নাহ গোত্রের দুই লোক রাসূল (ﷺ)-এর দরবারে উপস্থিত হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি কি মনে করেন, মানুষ এখন (দুনিয়াতে) যা আমল (ভাল-মন্দ) করছে এবং আমল করার চেষ্টায় রত আছে, তা আগেই তাদের জন্য তাকদীরে লিখে রাখা হয়েছিল? নাকি পরে যখন তাদের নিকট তাদের নবী শারী'আহ (দলীল-প্রমাণ) নিয়ে এসেছেন এবং তাদের নিকট তার দলীল-প্রমাণ প্রকটিত হয়েছে, তখন তারা তা করছে?উত্তরে রাসূল (ﷺ) বললেন: না, বরং পূর্বেই তাদের জন্য তাকদীরে এসব নির্দিষ্ট করা হয়েছে ও ঠিক হয়ে রয়েছে। এ কথার সমর্থনে তিনি (ﷺ) কোরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন (অনুবাদ): “প্রাণের কসম (মানুষের)! এবং যিনি তাকে সুন্দরভাবে গঠন করেছেন এবং তাকে (পূর্বেই) ভাল ও মন্দের জ্ঞান দিয়েছেন"- (সূরা আল লায়ল ৯২ঃ ৭-৮)।” [১]
[১] সহীহ : মুসলিম ২৬৫০, আহমাদ ১৯৯৩৬, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬১৮২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৮৭-[৯]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুযায়নাহ গোত্রের দুই ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে মানুষের আমল সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তারা জানতে চান, মানুষ এখন যে ভালো-মন্দ কাজ করছে, তা কি আগে থেকেই তাকদীরে নির্ধারিত ছিল, নাকি নবী শরীয়াহ ও দলীল নিয়ে আসার পর তারা নতুনভাবে তা করছে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জবাবে বলেন, বরং তা পূর্বেই নির্ধারিত এবং ঠিক হয়ে রয়েছে। এ কথার সমর্থনে তিনি কুরআনের আয়াত পাঠ করেন, যেখানে মানুষের প্রাণ, তার সুন্দর গঠন এবং তাকে ভালো-মন্দের জ্ঞান দেওয়ার কথা এসেছে। এই হাদিসে তাকদীরের প্রতি ঈমানের শিক্ষা রয়েছে। একই সঙ্গে বুঝা যায়, মানুষকে ভালো-মন্দের জ্ঞানও দেওয়া হয়েছে, তাই সে দায়িত্বহীন নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষের কাজ আল্লাহর পূর্বজ্ঞান ও তাকদীরের বাইরে নয়।
- ভালো ও মন্দের জ্ঞান মানুষকে দেওয়া হয়েছে।
- তাকদীরের বিশ্বাস শরীয়াহর দলীল মানার সঙ্গে বিরোধ করে না।
- প্রশ্নের জবাবে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কুরআনের আয়াত দিয়ে শিক্ষা দিয়েছেন।
