১/৩. অধ্যায়ঃ

তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ

ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন। পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।

মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৮৮-[১০]

وَعَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي رَجُلٌ شَابٌّ وَأَنَا أَخَافُ عَلى نَفْسِي الْعَنَتَ وَلَا أَجِدُ مَا أَتَزَوَّجُ بِهِ النِّسَاءَ كَأَنَّهٗ يَسْتَأْذِنُهٗ فِيْ الْإِخْتِصَاءِ قَالَ فَسَكَتَ عَنِّيْ ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذلِكَ فَسَكَتَ عَنِّيْ ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذلِكَ فَسَكَتَ عَنِّيْ ثُمَّ قُلْتُ مِثْلَ ذلِكَ فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ يَا أَبَا هُرَيْرَةَ! جَفَّ الْقَلَمُ بِمَا أَنْتَ لَاقٍ فَاخْتَصِ عَلى ذلِكَ أَوْ ذَرْ. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি একজন যুবক মানুষ। তাই আমি আমার সম্পর্কে ব্যভিচারের জড়িয়ে পড়ার আশংকা করছি। অথচ কোন নারীকে বিবাহ করার (আর্থিক) সঙ্গতিও আমার নেই। আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) যেন খাসী হবার অনুমতিই প্রার্থনা করছিলেন। আবূ হুরায়রাহ বলেন, এ কথা শুনে তিনি (ﷺ) প্রত্যুত্তর না দিয়ে নীরব থাকলেন। আমি আবারও অনুরূপ প্রশ্ন করলাম। এবারও তিনি নীরব থাকলেন। সুতরাং আমি ঐরূপ প্রশ্ন করলাম, এবারও তিনি নীরব থাকলেন। আমি চতুর্থবার সেরূপ প্রশ্ন করলে নবী (ﷺ) বললেন, হে আবূ হুরায়রাহ! তোমার জন্য যা ঘটবার আছে তা আগে থেকেই তোমার ভাগ্যে নির্ধারিত হওয়ার মাধ্যমে কলম শুকিয়ে গেছে। এখন তুমি এটা জেনে খাসীও হতে পার বা এমন ইচ্ছা পরিত্যাগও করতে পার। [১]

[১] সহীহ : বুখারী ৪৬৮৬ (সনদ ছাড়া বর্ণনা করেছেন), নাসায়ী ৩২১৫, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ১৩৪৬৫, সহীহ আল জামি‘ ৭৮৩২। اَلْعَنَتُ (আল ‘আনাত) এ হাদীসের দ্বারা যিনা, ব্যভিচার উদ্দেশ্য। ‘আল্লামা মুয্হির বলেন : যা কিছু ঘটেছে এবং যা কিছু ঘটছে বা ভবিষ্যতে ঘটবে সবকিছুই অনন্তকালে নির্ধারিত। অতএব, খাসীকরণ বা খোজাকরণে কোন উপকার নেই। চাইলে তুমি করতে পারো বা নাও করতে পারো। এ কথাটি খাসীকরণ বা খোজাকরণের ব্যাপারে অনুমতি নেই এবং অনর্থক একটি অঙ্গহানীর কারণে অনুমতি প্রার্থনায় এটি তিরস্কার বা ভৎর্সনা। (মিরকাত)

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন