১/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৩-[১৫] - মুশরিকদের শিশুদের পরিণতি
তাকদীরের প্রতি ঈমান - প্রথম অনুচ্ছেদ
ক্বদর (কদর) বা তাক্বদীর তাই, যা আল্লাহ ফায়সালা করেছেন এবং কোন বিষয়ে নির্দেশ জারী করেছেন।তাক্বদীরের প্রতি ঈমান আনার অর্থঃ এ বিশ্বাস রাখা যে, পৃথিবীতে যা কিছু ঘটে তা ভালো হোক আর মন্দ হোক, ক্ষতিকর হোক বা উপকারী হোক তা’ নির্ধারিত। এমনকি বান্দার কর্মকান্ড যার মধ্যে ঈমান আনা, কুফরী করা, আনুগত্য করা, অবাধ্য হওয়া, পথভ্রষ্ট হওয়া ও সৎ পথে চলা- সব কিছুই আল্লাহর ফায়সালা। এসব তাঁরই নির্ধারণ, ইচ্ছা, সৃষ্টি ও প্রভাবের ফল। তবে তিনি ঈমান আনয়নে ও তাঁর আনুগত্যে সন্তুষ্ট হন এবং এজন্য তিনি প্রতিদানের অঙ্গীকারও করেছেন।পক্ষান্তরে কুফরী ও অবাধ্যতায় সন্তুষ্ট হন না বরং এজন্য তিনি শাস্তির ভয়প্রদর্শন করেছেন। আল্লাহ তা‘আলা সবকিছু নির্ধারণ করেছেন। অর্থাৎ- তিনি কোন কিছু অস্তিত্বে আনার আগেই তার পরিমাণ, অবস্থা ও তার অস্তিত্বে আসার কাল বা সময় সম্পর্কে অবহিত। অতঃপর তিনি তা অস্তিত্বে এনেছেন। অতএব উর্ধ্বজগতে বা অধঃজগতে আল্লাহ ব্যতীত কোন স্রষ্টা ও নির্ধারণকারী নেই। সবকিছুই তাঁর জ্ঞান, ক্ষমতা ও ইচ্ছানুযায়ী হয়। এতে সৃষ্টি জগতের কারো ইচ্ছা বা প্রভাব নেই।
মুশরিকদের শিশুদের ব্যাপারে আল্লাহই ভালো জানেন
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৯৩-[১৫]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৯৩-[১৫]
وَعَنْهُ قَالَ سُئِلَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ عَنْ ذَرَارِيِّ الْمُشْرِكِيْنَ قَالَ : اللّهُ أَعْلَمُ بِمَا كَانُوْا عَامِلِيْنَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে কাফির-মুশরিকদের শিশু-সন্তানদের সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল (মৃত্যুর পর তাদের স্থান কোথায় জান্নাতে, না জাহান্নামে)? জবাবে রাসূল (ﷺ) বললেন, আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন, তারা (জীবিত থাকলে) কি আমল করত। [১]
[১] সহীহ : বুখারী ১৩৮৪, মুসলিম ২৬৫৯, সহীহ ইবনু হিব্বান ১৩১, নাসায়ী ১৯৫২, আহমাদ ১৮৪৫; তবে নাসায়ী ও আহমাদ-এর বর্ণনাটি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৯৩-[১৫]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে কাফির-মুশরিকদের শিশুদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়। প্রশ্নটি ছিল, মৃত্যুর পর তাদের স্থান কোথায়—জান্নাতে না জাহান্নামে? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জবাবে বলেন, আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন, তারা জীবিত থাকলে কী আমল করত। এই সংক্ষিপ্ত উত্তর মানুষকে অদৃশ্য বিষয় নিয়ে সাবধানী হতে শেখায়। এমন বিষয়ে নিজের অনুমানকে চূড়ান্ত কথা বানানো উচিত নয়। আল্লাহ মানুষের ভেতর-বাহির, বর্তমান-ভবিষ্যৎ এবং যা ঘটেনি, তা ঘটলে কী হতো—সব জানেন। তাই এই হাদিসে তাকদীর, আল্লাহর জ্ঞান এবং শিশুদের পরিণতি নিয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে বিনয়ের শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অদৃশ্য বিষয় নিয়ে নিশ্চিত দাবি করা থেকে বাঁচা দরকার।
- আল্লাহ জানেন, কেউ জীবিত থাকলে কী আমল করত।
- শিশুদের পরিণতি নিয়ে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর জ্ঞানকে সামনে এনেছেন।
- মানুষের জ্ঞান সীমিত, তাই বিনয়ী উত্তর দেওয়া উত্তম।
