২২/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০২ - রমজানের রোজা, তারাবিহ ও কদরের রাতের ক্ষমা
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সাওয়াবের আশায় রমাযান মাসে রাতের সলাত আদায় করে এবং সওম পালন করে তার সাওয়াব - এ বিষয়ে যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) থেকে রিওয়ায়াত বর্ণনায় ইখতিলাফ
রমজানের রোজা ও লাইলাতুল কদরের ফজিলত: ক্ষমার তিন সুযোগ
সুনানে আন-নাসায়ী : ২২০২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২২০২
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، وَمُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «مَنْ صَامَ رَمَضَانَ - وَفِي حَدِيثِ قُتَيْبَةَ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ قَامَ شَهْرَ رَمَضَانَ - إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবু হুরায়রাহ্ (রাঃ) সূত্রে নাবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেন। তিনি (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি রমাযান মাসের সাওম পালন করে। আর কুতায়বাহ্ (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে আছে যে, নাবী (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় তারাবীহর সালাত আদায় করে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়। আর ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় কদরের রাত্রি জাগরণ করে। তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২২০২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমজানের তিনটি বড় আমল একসঙ্গে এসেছে: রমজানের সিয়াম, রমজানের রাতের সালাত এবং লাইলাতুল কদরের রাত জাগরণ। মূল শিক্ষা হলো, এসব আমল ঈমানের সঙ্গে ও আল্লাহর সওয়াবের আশায় করতে হবে। শুধু না খেয়ে থাকা, শুধু রাতে দাঁড়ানো বা বিশেষ রাতের আনুষ্ঠানিকতা পালন করাই উদ্দেশ্য নয়। বান্দা যখন আল্লাহর বাণী সত্য মেনে এবং তাঁর কাছ থেকে প্রতিদান চেয়ে ইবাদত করে, তখন আগের গুনাহ ক্ষমার সুসংবাদ রয়েছে। হাদিসের দুই বর্ণনায় শব্দের কিছু পার্থক্য থাকলেও কেন্দ্রীয় বার্তা পরিষ্কার: রমজান দিন ও রাত—দুই সময়েই ইবাদতের মাস। রোজা দিনের সাধনা, তারাবিহ রাতের সাধনা এবং কদরের রাত বিশেষ সুযোগ। তাই রমজানের পূর্ণ উপকার পেতে তিনটি দিকেই যত্নশীল হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমজানের সিয়াম ঈমান ও সওয়াবের আশায় পালন করতে হবে।
- রমজানের রাতের সালাত ক্ষমার কারণ হতে পারে।
- লাইলাতুল কদরে ইবাদত করার বড় ফজিলত রয়েছে।
- দিন ও রাত—দুই সময়ের ইবাদত মিলেই রমজানের পূর্ণ সাধনা গড়ে ওঠে।
