১৩/১৫. অধ্যায়ঃ
ইদ্দত - প্রথম অনুচ্ছেদ
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৩২৪-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৩২৪-[১]
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ: أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيْلُهُ الشَّعِيرَ فَسَخِطَتْهُ فَقَالَ: وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَيْءٍ فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ: «لَيْسَ لَكِ نَفَقَةٌ» فَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ: «تِلْكِ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي عِنْدَ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ فَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي» . قَالَتْ: فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي فَقَالَ: «أَمَّا أَبُو الْجَهْمِ فَلَا يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لَا مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ» فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ: «انْكِحِي أُسَامَةَ» فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ فِيهِ خَيْرًا وَاغْتَبَطْتُ وَفِي رِوَايَةٍ عَنْهَا: «فَأَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَرَجُلٌ ضَرَّابٌ لِلنِّسَاءِ» . رَوَاهُ مُسْلِمٌ وَفِي رِوَايَةٍ: أَنَّ زَوْجَهَا طَلَّقَهَا ثَلَاثًا فَأَتَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ: «لَا نَفَقَةَ لَكِ إِلَّا أَنْ تَكُونِي حَامِلا»
ফাতিমা বিনতু কায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তার স্বামী আবূ ‘আমর ইবনু হাফস্ (রাঃ) তাকে চূড়ান্ত ত্বলাক্ব দেয়, ঐ সময়ে সে মাদীনায় উপস্থিত ছিল না। অতঃপর স্বামীর ওয়াকীল (প্রতিনিধি : আইয়্যাস ইবনু আবূ রবী' এবং হারিস ইবনু হিশাম) আমার নিকট কিছু যব নিয়ে আসে, যাতে আমি (অতি নগণ্য মনে করে) অসন্তোষ হই। ওয়াকীল বলল, আল্লাহর ক্বম! আমাদের নিকট তোমার আর কিছুই পাওনা নেই।.(কারণ, তুমি তুলাকে বায়িনপ্রাপ্তা অর্থ বাবদ যব ছাড়া আর কিছুই রেখে যায়নি) এতে ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট এসে অভিযোগ করলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমার কোনো খোরাকি খরচ নেই। তিনি (ﷺ) তাকে উম্মু শারীক-এর ঘরে ‘ইদ্দাত পালনের নির্দেশ দেন। কিন্তু পরক্ষণেই বললেন, ঐ রমণীর ঘরে তো লোকজনের চলাচল বেশি হয় (অত্যন্ত দানশীলা ও অতিথিপরায়ণতার জন্য)।বরং তুমি ইবনু উম্মি মাকতূম-এর ঘরে ‘ইদ্দাত পালন কর, সে অন্ধ ব্যক্তি বিধায় তুমি নির্দ্বিধায় গায়ের পোশাক ছাড়তে পারবে।অতঃপর যখন তোমার ‘ইদ্দাতকাল শেষ হবে, তখন আমাকে খবর দিবে।ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) বলেন, আমার ‘ইদ্দাতকাল শেষ হলে আমি তাঁকে জানালাম যে, মু'আবিয়াহ্ ইবনু আবূ সুইয়ান ও আবূ জা (রাঃ) উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব (‘ইদ্দাত শেষে) পাঠিয়েছে। তদুত্তরে তিনি (ﷺ) বললেন, আবূ জা তো তার কাঁধ হতে লাঠি নামিয়ে রাখে না (তথা সে স্ত্রীকে অত্যধিক মারধর করে অথবা অধিকাংশ সময় সফরে থাকে)। আর মু'আবিয়াহ্ তো দরিদ্র মানুষ, তার কোনো সহায়-সম্পত্তি নেই। তুমি উসামাহ্ ইবনু যায়দ-কে বিয়ে কর (দীনদারী ও স্বভাব-চরিত্রতায় উত্তমতায় প্রাধান্য দাও)। ফাত্বিমাহ্ (রাঃ) বলেন, আমি তাকে বিয়ে করব না (উসামাহ্ কৃষ্ণবর্ণ ক্রীতদাস পুত্র হওয়ার কারণে)। তিনি (ﷺ) পুনরায় উসামাকে বিবাহ করতে বললে তিনি তাকেই বিয়ে করলেন। আল্লাহ তা'আলা এ বিয়েতে এমন বারাকাত দিলেন যে, অন্য রমণীরা ঈর্ষা পোষণ করত। অপর বর্ণনায় আছে, আবূ জার (রাঃ) স্ত্রীকে অতিমাত্রায় মারধর করত।অপর বর্ণনায় আছে যে, তার স্বামী তাকে তিন ত্বলাক্ব দিলে, তিনি নবী (ﷺ) এর নিকট অভিযোগ করলেন। তিনি (ﷺ) বললেন, তোমার কোনো খোরাকী নেই, তবে তুমি গর্ভবতী হলে পেতে।
[১] সহীহ : মুসলিম ১৪৮০, আবূ দাঊদ ২২৮৪, নাসায়ী ৩২৪৫, আহমাদ ২৭৩২৭, সহীহ ইবনু হিব্বান ৪০৪৯।
