১৬/৩. অধ্যায়ঃ
সম্মিলিত কসম - প্রথম অনুচ্ছেদ
الْقَسَامَةِকফ ও মীম বর্ণে যবর যোগে। এটা শপথ যা কোনো এলাকায় নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া গেলে এলাকার অধিবাসীদের কসম করা হয়।শাফি’ঈদের নিকট খুনী ব্যক্তি অজ্ঞাত থাকলে নিহত ব্যক্তির অভিযোগকারী ওয়ারিসরা নিহতের রক্তমূল্যের জন্য কসম করবে। এর কারণ হলো নিহত ব্যক্তিকে তাদের মহল্লায় পাওয়া অথবা এরূপ কোনো কারণ বা আলামত পাওয়া। তাদের কসমের মূল অংশ হলো-بِاللّٰهِ مَا قَتَلْنَاهُঅথবাلَا عَلِمْنَا لَه قَاتِلًকসমকারীর জন্য শর্ত হলো সে পুরুষ, স্বাধীন ও জ্ঞানসম্পন্ন হবে। ইমাম মালিক বলেনঃ ভুলক্রমে হত্যার ক্ষেত্রে মহিলাও কসামার অন্তর্ভুক্ত। ইচ্ছাকৃত হত্যার ক্ষেত্রে নয়।আর এর ফায়সালার বিধান হলো কসমের পর দিয়াত ওয়াজিব।شَرْحِ السُّنَّةِ -এ রয়েছে নিহত ব্যক্তির ওয়ালীগণ কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ করবে অথবা কোনো দলের ওপর অভিযোগ করবে আর তাদের নিকট স্পষ্ট যখম বা ক্ষতের চিহ্ন রয়েছে। আর তা হচ্ছে এমন বিষয় প্রাপ্তি যা অভিযোগকারীর সত্যতা প্রবলরূপে অনুমান করা যায়। যেমন তাদের অঞ্চলে নিহত ব্যক্তিকে পাওয়া অথবা নিহত ব্যক্তি ও তাদের মাঝে শত্রুতা বিদ্যমান থাকা ইত্যাদি। (মিরকাতুল মাফাতীহ)
মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৫৩১-[১]
মিশকাতুল মাসাবিহহাদিস নম্বর ৩৫৩১-[১]
عَنْ رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ وَسَهْلِ بْنِ أَبِي حَثْمة أَنَّهُمَا حَدَّثَا أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَهْلٍ وَمُحَيِّصَةَ بْنَ مَسْعُودٍ أَتَيَا خَيْبَرَ فَتَفَرَّقَا فِي النَّخْلِ فَقُتِلَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَهْلٍ فَجَاءَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ سَهْلٍ وَحُوَيِّصَةُ وَمُحَيِّصَةُ ابْنَا مَسْعُودٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَتَكَلَّمُوا فِي أَمْرِ صَاحِبِهِمْ فَبَدَأَ عَبْدُ الرَّحْمَنِ وَكَانَ أَصْغَر الْقَوْم فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: كبر الْكبر قَالَ يحيى بن سعد: يَعْنِي لِيَلِيَ الْكَلَامَ الْأَكْبَرُ فَتَكَلَّمُوا فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «اسْتَحِقُّوا قَتِيلَكُمْ أَوْ قَالَ صَاحِبَكُمْ بِأَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْكُمْ» . قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ أَمْرٌ لَمْ نَرَهُ قَالَ: فَتُبَرِّئُكُمْ يَهُودُ فِي أَيْمَانِ خَمْسِينَ مِنْهُمْ؟ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ قَوْمٌ كُفَّارٌ فَفَدَاهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ قِبَلِهِ. وَفِي رِوَايَةٍ: «تَحْلِفُونَ خَمْسِينَ يَمِينًا وَتَسْتَحِقُّونَ قَاتِلَكُمْ أَوْ صَاحِبَكُمْ» فَوَدَاهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ عِنْده بِمِائَة نَاقَة وَهَذَا الْبَاب خَال من الْفَصْل الثَّانِي
রাফি' ইবনু খদীজ এবং সাহল ইবনু হাসমাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তাঁরা উভয়ে বলেন, ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাল এবং মুহাইয়িসাহ্ ইবনু মাস'ঊদ খায়বারে এলেন। তারা খেজুর বাগানে প্রবেশ করে পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেন। অতঃপর (কেউ) ‘আব্দুল্লাহ ইবনু সাল-কে হত্যা করলো। এমতাবস্থায় ‘আব্দুর রহমান ইবনু সাল (‘আব্দুল্লাহ-এর ভাই) এবং মাস্'ঊদ-এর দু'পুত্র হুওয়াইয়িসাহ্ এবং মুহাইয়িসাহ্ (রাঃ) ('আব্দুল্লাহ-এর চাচাতো ভাই) নবী (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাদের ভাইয়ের ব্যাপারে অভিযোগ করেন।অতঃপর 'আব্দুর রহমান যখন কথা বলা শুরু করলেন, আর তিনি ছিলেন সকলের ছোট। তখন নবী (ﷺ) বললেন, বড়কে কথা বলতে দাও (সম্মান কর)। তিনি (ইয়াহিয়া ইবনু সা'ঈদ) বলেন, নবী (ﷺ) এর কথার উদ্দেশ্য হলো- যিনি বয়সের বড় সেই কথা শুরু করার অগ্রাধিকারযোগ্য। অতএব তারা তাদের ভাইয়ের হত্যার ব্যাপারে আলোচনা করল।অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন, তোমাদের মধ্যে পঞ্চাশজন কসম করলে তোমাদের নিহত ব্যক্তির; অথবা বলেছেন, তোমাদের ভাইয়ের দিয়াত (রক্তপণ) পাওয়ার হাক্বদার হতে পারবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! এটা (কম) এমন জিনিস যা আমরা প্রত্যক্ষ করিনি। অতঃপর নবী (ﷺ) বললেন, তাহলে ইয়াহূদীদের থেকে পঞ্চাশজন কসম করে অভিযোগ থেকে মুক্ত হয়ে যাবে। তারা বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! তারা তো কাফির। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে তাদের হত্যার দিয়াত প্রদান করলেন।অপর বর্ণনাতে আছে, তোমরা পঞ্চাশ জন কসম কর তোমাদের নিহত ব্যক্তির অথবা বলেছেন, তোমাদের সঙ্গীর দিয়াতের হাক্বদার হতে পারবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) নিজের পক্ষ থেকে তাদেরকে দিয়াতস্বরূপ একশত উট আদায় করে দিলেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৬১৪২-৪৩, মুসলিম ১৬৬৯, আবূ দাঊদ ৪৫২০, নাসায়ী ৪৭১৩, আহমাদ ১৭২৭৬, তিরমিযী ১৪২২। - বিঃ দ্রঃ (وَهٰذَا الْبَابُ خَالٍ عَنِ الْفَصْلُ الثَّانِىْ) এ অধ্যায়ে দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ নেই।
