১৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯২৬-[১] - হিরাকলের কাছে ইসলামের দাওয়াতের চিঠি
কাফির রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট পত্র প্রেরণ ও ইসলামের প্রতি আহ্বান - প্রথম অনুচ্ছেদ
হিরাকলের কাছে নবী صلى الله عليه وسلم-এর দাওয়াতের চিঠি
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯২৬-[১]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯২৬-[১]
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَتَبَ إِلَى قَيْصَرَ يَدْعُوهُ إِلَى الْإِسْلَامِ وَبَعَثَ بِكِتَابِهِ إِلَيْهِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيَّ وَأَمَرَهُ أَنْ يَدْفَعَهُ إِلَى عَظِيمِ بُصْرَى لِيَدْفَعَهُ إِلَى قَيْصَرَ فَإِذَا فِيهِ: بِسْمِ اللَّهِ الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ مِنْ مُحَمَّدٍ عَبْدِ اللَّهِ وَرَسُولِهِ إِلَى هِرَقْلَ عَظِيمِ الرُّومِ سَلَامٌ عَلَى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدَى أَمَّا بَعْدُ فَإِنِّي أدْعوكَ بداعيَةِ الْإِسْلَامِ أَسْلِمْ تَسْلَمْ وَأَسْلِمْ يُؤْتِكَ اللَّهُ أَجَرَكَ مَرَّتَيْنِ وَإِنْ تَوَلَّيْتَ فَعَلَيْكَ إِثْمُ الْأَرِيسِيِّينَ وَ ﴾يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ أَن لَا نَعْبُدَ إِلَّا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوْا فَقُولُوا: اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ﴿ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ. وَفِي رِوَايَةٍ لِمُسْلِمٍ قَالَ: مِنْ محمَّدٍ رسولِ اللَّهِ وَقَالَ: «إِثمُ اليريسيِّينَ» وَقَالَ: «بِدِعَايَةِ الْإِسْلَام»
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ইসলামের দিকে আহ্বান জানিয়ে দিহ্ইয়াতুল কালবী (রাঃ)-এর মাধ্যমে এ নির্দেশ দিয়ে (রোম সম্রাট) কায়সারের নামে পত্র প্রেরণ করেন, তা যেন অবশ্যই বাসরার (বর্তমানে ইরাকের) রাষ্ট্রপ্রধানের হাতে অর্পণ করেন। আর সে যেন তা কায়সারের নিকট পৌঁছে দেয়।পত্রে লিখেছিলেন, পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ) এর পক্ষ হতে রোমের রাষ্ট্রপ্রধান হিরাক্বল (হিরাক্লিয়াস - এর প্রতি। যারা হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়েছে, হিদায়াতের অনুসরণ করেছে তাদের ওপর শান্তি বর্ষণ হোক! আমি তোমার নিকট ইসলামের দাওয়াত পেশ করছি, ইসলামে প্রবেশ কর, শান্তিতে থাকবে। পুনরায় বলছি, ইসলাম কবুল কর, তবে আল্লাহ তোমাকে দ্বিগুণ পুরস্কার (সাওয়াব) দান করবেন। আর যদি ইসলাম হতে বিমুখ হও, তাহলে সমস্ত প্রজাবৃন্দের পাপের বোঝাও তোমার ওপর ন্যস্ত হবে।হে কিতাবধারীগণ! তোমরা এমন এক মৌলিক বাক্যের দিকে এসো, যাতে আমরা ও তোমরা সমবিশ্বাসী। আর তাই আমাদের সকলের ওপর কর্তব্য হলো এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো ইবাদত করব না এবং তাঁর সাথে অন্য কিছুকে শারীক স্থাপন করব না এবং আমরা পরস্পর একে অন্যকে আল্লাহ ছাড়া রব্ হিসেবে মেনে নিবো না।অতঃপর যদি তারা এ কথাগুলো মেনে না নেয়, তবে বলে দাও তোমরা সাক্ষী থাকো যে, আমরা মুসলিম। আর মুসলিম-এর এক বর্ণনার মধ্যে তিনটি বাক্যের পরিবর্তন হয়েছে। যেমন- আল্লাহর রাসূল মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পক্ষে হতে (অর্থাৎ- ‘আবদুল্লাহ' শব্দ নেই), ইয়ারীসাইয়িন ('হামযা'-এর স্থলে 'ইয়া') এবং (“দা- ‘ইয়াতিল ইসলাম”-এর স্থলে) “দি-আ-ইয়াতিল ইসলাম” রয়েছে (এছাড়া তেমন একটা পার্থক্য নেই)।
[১] সহীহ : বুখারী ৭, মুসলিম ১৭৭৩, তিরমিযী ২৭১৭, আহমাদ ২৩৭০।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯২৬-[১]-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم রোমের শাসক হিরাকলের কাছে ইসলামের দাওয়াত পাঠান। দিহ্ইয়াতুল কালবী (রাঃ)-এর মাধ্যমে পত্র পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। চিঠির শুরু হয় আল্লাহর নামে। এরপর নবী صلى الله عليه وسلم নিজেকে আল্লাহর বান্দা ও রাসূল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং হিদায়াতের অনুসরণকারীদের ওপর শান্তির দোয়া করেন। মূল দাওয়াত ছিল: ইসলাম গ্রহণ কর, নিরাপদ থাকবে; ইসলাম গ্রহণ করলে আল্লাহ দ্বিগুণ সাওয়াব দেবেন। আর বিমুখ হলে প্রজাদের পাপের দায়ও তার ওপর আসবে। চিঠিতে আহলে কিতাবকে এক আল্লাহর ইবাদত, শিরক বর্জন এবং মানুষকে রব না বানানোর আহ্বান করা হয়েছে। এই হাদিস দাওয়াতে ইসলামের ভাষা, তাওহীদের ডাক এবং শাসকের দায়িত্বকে স্পষ্ট করে। পত্রের ভাষা সংক্ষিপ্ত হলেও তাতে দাওয়াত, সতর্কতা এবং তাওহীদের মূল কথা একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইসলামের দাওয়াত সম্মানজনক ও স্পষ্ট ভাষায় দেওয়া যায়।
- তাওহীদের মূল কথা হলো এক আল্লাহর ইবাদত করা এবং শিরক না করা।
- ক্ষমতাধর ব্যক্তির সিদ্ধান্ত তার অধীন মানুষের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
- চিঠিতেও দাওয়াতের শুরুতে আল্লাহর নাম ও শান্তির বার্তা ছিল।
