১৯/৩. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩১-[৬] - আযানের শব্দ শুনলে আক্রমণ বন্ধ
কাফির রাষ্ট্রপ্রধানদের নিকট পত্র প্রেরণ ও ইসলামের প্রতি আহ্বান - প্রথম অনুচ্ছেদ
আযান শুনলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার শিক্ষা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৩৯৩১-[৬]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৩৯৩১-[৬]
وَعَنْ أَنَسٍ: أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ إِذَا غَزَا بِنَا قَوْمًا لَمْ يَكُنْ يَغْزُو بِنَا حَتَّى يُصْبِحَ وَيَنْظُرَ إِلَيْهِمْ فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا كَفَّ عَنْهُمْ وَإِنْ لَمْ يَسْمَعْ أَذَانًا أَغَارَ عَلَيْهِمْقَالَ: فَخَرَجْنَا إِلَى خَيْبَرَ فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهِمْ لَيْلًا فَلَمَّا أَصْبَحَ وَلَمْ يسمَعْ أذاناً رِكبَ ورَكِبْتُ خلفَ أبي طلحةَ وَإِنَّ قَدَمِي لَتَمَسُّ قَدِمَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: فَخَرَجُوا إِلَيْنَا بَمَكَاتِلِهِمْ ومساحيهم فَلَمَّا رأى النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالُوا: مُحَمَّدٌ واللَّهِ محمّدٌ والخميسُ فلَجؤوا إِلَى الْحِصْنِ فَلَمَّا رَآهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قومٍ فساءَ صباحُ المُنْذَرينَ»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যখন আমাদেরকে নিয়ে কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে জিহাদে যেতেন, তখন ভোর অবধি আক্রমণ করতেন না। আর ভোর হলে আযানের আওয়াজের অপেক্ষায় থাকতেন, আর যদি আযান শুনতে পেতেন, তখন আক্রমণ করা হতে বিরত থাকতেন। আর আযান না শুনলে আক্রমণ করতেন। রাবী বলেন, আমরা খায়বারের যুদ্ধের জন্য বের হলাম এবং রাতের বেলায় তথায় গিয়ে পৌঁছলাম। যখন ভোর হলো এবং আযান শোনা গেল না তখন আল্লাহর নবী (ﷺ) সওয়ার হলেন এবং আমি আবূ ত্বলহা (রাঃ)-এর পিছনে সওয়ার হলাম। আমার পায়ের সাথে নবী (ﷺ) এর পা মুবারক স্পর্শ করছিল।(আনাস (রাঃ) বলেন) এমন সময় খায়বারের অধিবাসীরা (ক্ষেত-খামারে কাজের উদ্দেশে) কাস্তে, কোদাল ও ঝুড়ি ইত্যাদি নিয়ে এগিয়ে এলো এবং রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দেখতে পেয়ে উচ্চৈঃস্বরে বলে উঠল, এই যে মুহাম্মাদ! আল্লাহর কসম! মুহাম্মাদ ও তাঁর পঞ্চবাহিনী (সম্পূর্ণ দল) নিয়ে এসে পড়েছে। অতঃপর দৌড়িয়ে দুর্গের ভিতরে আশ্রয় গ্রহণ করল।তিনি (আনাস (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন তাদের এরূপ অবস্থা প্রত্যক্ষ করলেন, তখন বলে উঠলেন- আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার, খায়বারের ধ্বংস নিশ্চিত। এভাবে আমরা যখন কোনো জাতির আঙিনায় অবতীর্ণ হই, তখন যেই জাতিকে পূর্বাহ্নে সতর্ক করা হয়েছে তাদের সকাল দুর্ভাগ্যজনকভাবে খারাপ হয়ে থাকে।
[১] সহীহ : বুখারী ৬১০, মুসলিম ১৩৬৫, আহমাদ ১২৬১৮।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৩৯৩১-[৬]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আনাস (রাঃ) নবী صلى الله عليه وسلم-এর একটি নিয়ম বর্ণনা করেছেন। তিনি যখন কোনো গোত্রের বিরুদ্ধে যেতেন, ভোর হওয়ার আগে আক্রমণ করতেন না। ভোর হলে আযানের শব্দ শোনার অপেক্ষা করতেন। যদি আযান শুনতেন, আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন; আর আযান না শুনলে অগ্রসর হতেন। এরপর খায়বারের ঘটনা এসেছে। মুসলিমরা রাতে পৌঁছায়। ভোরে আযান শোনা যায়নি, তখন নবী صلى الله عليه وسلم সওয়ার হন। খায়বারবাসীরা কাজের সরঞ্জাম নিয়ে বের হয়ে তাঁকে দেখে দুর্গে ফিরে যায়। তখন তিনি তাকবীর বলেন এবং খায়বার সম্পর্কে কথা বলেন। এই হাদিসে আযানকে মুসলিম পরিচয়ের একটি স্পষ্ট চিহ্ন হিসেবে দেখানো হয়েছে এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে যাচাই করার শিক্ষা পাওয়া যায়। তাই আযান ও মসজিদের মতো চিহ্নকে উপেক্ষা না করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার শিক্ষা এখানে পরিষ্কার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم ভোর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেন এবং আযানের শব্দ শুনতেন।
- আযান শোনা গেলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকার নিয়ম বর্ণিত হয়েছে।
- কোনো পদক্ষেপের আগে চিহ্ন ও অবস্থা যাচাই করার শিক্ষা আছে।
