২৪/০. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬১৯-[১৪] - সোনার বালা ও দুই মিথ্যাবাদী
স্বপ্ন - প্রথম অনুচ্ছেদ
‘আল্লামা ত্বীবী (রহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ স্বপ্নের মূলতত্ত্ব হচ্ছে এই যে, আল্লাহ ঘুমন্ত ব্যক্তির অন্তরে ‘ইলমসমূহ এবং দৃষ্টিজ্ঞান সৃষ্টি করেন যেমন জাগ্রত অবস্থায় করে থাকেন। আর ঘুমন্ত ব্যক্তির মধ্যে এ ধরনের ‘ইলমসমূহের সৃষ্টি হচ্ছে অন্যান্য বিষয়াদির নিদর্শন, যা ভবিষ্যতে হবে। আর এটা কখনো স্পষ্ট হবে। আবার কখনো হবে ইঙ্গিতাকারে।
সোনার বালার স্বপ্ন ও দুই মিথ্যাবাদীর তাবীর
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৬১৯-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৬১৯-[১৪]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «بَيْنَا أَنَا نَائِمٌ بِخَزَائِنِ الْأَرْضِ فَوُضِعَ فِي كَفَّيَّ سِوَارَانِ مِنْ ذَهَبٍ فَكَبُرَا عَلَيَّ فَأُوحِيَ إِلَيَّ أَنِ انْفُخْهُمَا فَنَفَخْتُهُمَا فَذَهَبَا فَأَوَّلْتُهُمَا الْكَذَّابَيْنِ اللَّذَيْنِ أَنَا بَيْنَهُمَا صَاحِبَ صَنْعَاءَ وَصَاحِبَ الْيَمَامَةِ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ.وَفِي رِوَايَةٍ: «يُقَالُ لِأَحَدِهِمَا مُسَيْلِمَةُ صَاحِبُ الْيَمَامَةِ وَالْعَنْسِيُّ صَاحِبُ صَنْعَاءَ» لَمْ أَجِدْ هَذِهِ الرِّوَايَةَ فِي (الصَّحِيحَيْنِ) وَذكرهَا صَاحب الْجَامِع عَن التِّرْمِذِيّ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : একদিন আমি ঘুমিয়ে ছিলাম, (স্বপ্নে) পৃথিবীর ধনভাণ্ডার আমার সামনে উপস্থিত করা হলো। আর আমার হাতে দু'টি সোনার বালা রাখা হলো যাতে আমি বড়ই অস্বস্তিকর বোধ করলাম। এমতাবস্থায় আমাকে ওহীর মাধ্যমে জানানো হলো যেন আমি বালা দু'টিতে ফুঁক মারি। সুতরাং আমি ফুঁক দিলাম, সাথে সাথে উভয়টি উড়ে গেল। আমি দু'টি বালার তা'বীর করেছি দু'জন মিথ্যাবাদী দ্বারা, যে দু'জনের মাঝখানে আমি রয়েছি। তাদের একজন সন্‘আবাসী আর অপরজন ইয়ামামাবাসী। অন্য বর্ণনায় রয়েছে, এদের একজন মুসায়লামাহ্, সে ইয়ামামার অধিবাসী। অপরজন হলো (আসওয়াদ) আনাসী, সে হলো সন্'আ-এর অধিবাসী।মিশকাত গ্রন্থকার বলেন : এ হাদীস বুখারী ও মুসলিমে আমি পাইনি। তবে জামিউল উসূলের প্রণেতা এটা তিরমিযী হতে বর্ণনা করেছেন।
[১] সহীহ : বুখারী ৪৩৭৫, ৭০৩৭; মুসলিম (২২৭৪)-২২, আহমাদ ৮২৪৯, বায়হাক্বী ১৭১৭১, আল জামি‘উস্ সগীর ৫১৬৯, সহীহুল জামি‘ ২৮৫৮, তিরমিযী ২২৯২।
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৬১৯-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একটি স্বপ্নের কথা বলেছেন। তিনি দেখলেন, পৃথিবীর ধনভাণ্ডার তাঁর সামনে আনা হলো এবং তাঁর হাতে দুইটি সোনার বালা রাখা হলো। এতে তিনি অস্বস্তি বোধ করলেন। এরপর তাঁকে জানানো হলো, বালা দুটিতে ফুঁক দিতে। তিনি ফুঁক দিলেন, আর দুটিই উড়ে গেল। নবী (صلى الله عليه وسلم) এর তাবীর করলেন দুই মিথ্যাবাদী হিসেবে, যাদের একজন সন‘আবাসী এবং অন্যজন ইয়ামামাবাসী। অন্য বর্ণনায় মুসায়লামাহ ও আনাসীর নাম এসেছে। এই হাদিসে স্বপ্নের তাবীর, মিথ্যা দাবির বিপদ এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জানানো সতর্কতার দিক দেখা যায়। মিথ্যা দাবি যত বড়ই হোক, আল্লাহর সাহায্যে তা দূর হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মিথ্যা দাবি মানুষকে বড় বিভ্রান্তিতে ফেলতে পারে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) স্বপ্নের তাবীর করেছেন দুই মিথ্যাবাদীর ব্যাপারে।
- অস্বস্তিকর স্বপ্নেও কখনো সতর্কতার ইঙ্গিত থাকতে পারে।
- আল্লাহর সাহায্যে মিথ্যা দাবির প্রভাব দূর হতে পারে।
