২৫/৯. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮০২-[২০] - কথার কৌশল ও নিয়ত
বক্তৃতা ও কবিতা আবৃত্তি - দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
কথার কৌশল: নিয়ত খারাপ হলে বিপদ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৪৮০২-[২০]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৪৮০২-[২০]
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ تَعَلَّمَ صَرْفَ الْكَلَامِ لِيَسْبِيَ بِهِ قُلُوبَ الرِّجَالِ أَوِ النَّاسِ لَمْ يَقْبَلِ اللَّهُ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ صَرْفًا وَلَا عدلا». رَوَاهُ أَبُو دَاوُد
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি এমন কিছু কথা শিক্ষা করে, যাতে পুরুষদের বা লোকেদের অন্তরকে আকৃষ্ট এবং সম্মোহিত করা যায়, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার নফল ও ফরজ (ইবাদত) কোনটাই কবুল করবেন না।
[১] য‘ঈফ, আবূ দাঊদ ৫০০৬, য‘ঈফুল জামি‘ ৫৫২৯, য‘ঈফ আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব ৮৭, শু‘আবুল ঈমান ৪৯৭৪। হাদীসটি য‘ঈফ হওয়ার কারণ, এর সনদে আছে ‘‘যহ্হাক ইবনু শুরাহবীল’’ নামের একজন বর্ণনাকারী। ইনি একজন মিসরী। ইবনু ইউনুস তাকে মিসরীয়দের ইতিহাস নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। ইমাম বুখারী ও ইবনু আবী হাকিম (রহঃ)-ও তার আলোচনা করেছেন কিন্তু তারা কোন সাহাবী থেকে তার হাদীস বর্ণনার কথা উল্লেখ করেননি। তার বর্ণনা কেবলমাত্র তাবি‘ঈদের থেকে আর অত্র হাদীসটি তিনি আবূ হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন, এ কারণেই হাদীসটি মুনকত্বি‘ হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে গেছে। দেখুন- ‘আওনুল মা‘বূদ ১৩/২৩৮ পৃঃ, হাঃ ৫০০৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৪৮০২-[২০]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কথার কৌশল ও নিয়তের বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি এমন কথা শেখে যার মাধ্যমে মানুষের অন্তর আকৃষ্ট বা সম্মোহিত করা যায়, আল্লাহ কেয়ামতের দিন তার নফল ও ফরজ কোনোটাই কবুল করবেন না। এখানে কথার সৌন্দর্যকে সাধারণভাবে নিন্দা করা হয়নি; বরং এমন ভাষা শেখার নিন্দা এসেছে, যার উদ্দেশ্য মানুষকে প্রভাবিত করা, মুগ্ধ করা বা নিজের দিকে টেনে নেওয়া। তাই বক্তৃতা, লেখা, আলোচনা বা বিতর্কে মূল বিষয় হলো সত্য, সততা ও সঠিক নিয়ত। কথার শক্তি আছে, কিন্তু সেই শক্তি যদি অহংকার, ধোঁকা বা লোক দেখানোর জন্য ব্যবহার হয়, তাহলে তা আমলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কথার কৌশল শেখার উদ্দেশ্য ভালো ও সত্যভিত্তিক হওয়া দরকার।
- মানুষকে মুগ্ধ করার জন্য ভাষা ব্যবহার করা বিপদের কারণ হতে পারে।
- বক্তৃতা বা আলোচনা শুধু প্রভাব দেখানোর জন্য হওয়া উচিত নয়।
- নিয়ত খারাপ হলে আমলের গ্রহণযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
