২৯/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৭৫০-[১২] - উম্মতের বিস্তার ও ভেতরের সংঘাত
নবীকুল শিরোমণি (ﷺ)-র মর্যাদাসমূহ - প্রথম অনুচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মর্যাদা, তার উত্তম গুণাবলি, তার বদান্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিস্তারিত বিবরণ গণনা করা ও আয়ত্ব করা সম্ভব নয়, বরং তা গুণে শেষ করা যাবে না। তবে লেখক এখানে রাসূলের মর্যাদা অধ্যায় রচনার উদ্দেশ্য তাঁর মর্যাদা ও ফযীলতের কিছু দিক তুলে ধরেছেন যাতে এগুলোর মাধ্যমে অন্যগুলো উপলব্ধি করা যায়।
উম্মতের বিস্তার ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের সতর্কতা
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৭৫০-[১২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৭৫০-[১২]
وَعَنْ ثَوْبَانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: إِنَّ اللَّهَ زَوَى لِيَ الْأَرْضَ فَرَأَيْتُ مَشَارِقَهَا وَمَغَارِبَهَا وَإِنَّ أُمَّتِي سَيَبْلُغُ مُلْكُهَا مَا زُوِيَ لِي مِنْهَا وَأُعْطِيتُ الْكَنْزَيْنِ: الْأَحْمَرَ وَالْأَبْيَضَ وَإِنِّي سَأَلْتُ رَبِّي لِأُمَّتِي أَنْ لَا يُهْلِكَهَا بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وَأَنْ لَا يُسَلِّطَ عَلَيْهِمْ عَدُوًّا مِنْ سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وإنَّ ربِّي قَالَ: يَا محمَّدُ إِذَا قَضَيْتُ قَضَاءً فَإِنَّهُ لَا يُرَدُّ وَإِنِّي أَعْطَيْتُكَ لِأُمَّتِكَ أَنْ لَا أُهْلِكَهُمْ بِسَنَةٍ عَامَّةٍ وأنْ لَا أُسلطَ عَلَيْهِم عدُوّاً سِوَى أَنْفُسِهِمْ فَيَسْتَبِيحَ بَيْضَتَهُمْ وَلَوِ اجْتَمَعَ عَلَيْهِمْ مَنْ بِأَقْطَارِهَا حَتَّى يَكُونَ بَعْضُهُمْ يُهْلِكُ بَعْضًا وَيَسْبِي بَعضهم بَعْضًا. رَوَاهُ مُسلم رواہ مسلم (19 / 2889)، (7258) ۔ (صَحِيح)
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আল্লাহ তা'আলা সমগ্র জমিনকে আমার জন্য সংকুচিত করলেন, তখন আমি তার পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত পর্যন্ত দেখতে পেলাম। আমার উম্মাতের রাজত্ব অদূর ভবিষ্যতে সে পর্যন্ত পৌঁছে যাবে, যে পর্যন্ত জমিন আমার জন্য সংকুচিত করা হয়েছিল। আর আমাকে দু'টি ধনভাণ্ডার দেয়া হয়েছে, একটি লাল এবং অপরটি সাদা (অর্থাৎ ক্বায়সার ও কিসরার ধনভাণ্ডার)। আর আমি আমার প্রভুর কাছে আমার উম্মাতের জন্য এই আবেদন করি যেন তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করা হয়। আর তাদের ওপর যেন স্বজাতি ছাড়া অন্য শত্রুকে এমনভাবে চাপিয়ে দেয়া না হয় যে, তারা মুসলিমদের কেন্দ্রস্থলকে গ্রহণ করে নেয়।আমার প্রভু বললেন, হে মুহাম্মাদ! আমি যখন কোন ব্যাপারে ফায়সালা করে ফেলি, তখন তা পরিবর্তন হয় না। আমি তোমাকে তোমার উম্মাতের ব্যাপারে এ অঙ্গীকার দিচ্ছি যে, আমি তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের দ্বারা ধ্বংস করব না এবং তাদের স্বজাতি ছাড়া শত্রুতে তাদের ওপর এমনভাবে চাপিয়ে দেব না, যাতে তারা মুসলিমদের কেন্দ্রস্থল ধ্বংস করতে পারে। এমনকি দুনিয়ার সকল কাফির বিশ্বের সকল প্রান্ত হতেও একত্রিত হয়ে মুসলিমদের ওপর আক্রমণ চালায়। অবশ্য তারা (মুসলিমরা) একে অপরে লড়াই করবে। একে অন্যকে ধ্বংস করতে থাকবে এবং কয়েদ ও বন্দি করতে থাকবে।
সহীহঃ বুখারী ২৯৭৭, মুসলিম ৫-(৫২৩), নাসায়ী ৩০৮৭, মুসনাদে আহমাদ ৭৫৭৫, সহীহ ইবনু হিব্বান ৬৩৬৩, শু'আবুল ঈমান ১৩৯, আস্ সুনানুল কুবরা লিন্ নাসায়ী ৪২৯৫।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৭৫০-[১২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আল্লাহ তাঁর জন্য জমিন সংকুচিত করলেন, ফলে তিনি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্ত দেখতে পেলেন। তাঁর উম্মতের রাজত্ব সেই সীমা পর্যন্ত পৌঁছাবে বলে জানানো হয়েছে। তাঁকে দুটি ধনভাণ্ডার দেওয়া হয়েছে—লাল ও সাদা। তিনি তাঁর উম্মতের জন্য দোয়া করেছেন, যেন তাদেরকে ব্যাপক দুর্ভিক্ষে ধ্বংস না করা হয় এবং বাইরের শত্রু এমনভাবে তাদের ওপর চাপিয়ে না দেওয়া হয় যে তারা মুসলিমদের কেন্দ্রস্থল ধ্বংস করে ফেলে। আল্লাহ এই দুই বিষয়ে অঙ্গীকার দিয়েছেন। তবে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে, মুসলিমরা নিজেদের মধ্যে লড়াই করবে, একে অপরকে ক্ষতি করবে এবং বন্দি করবে। তাই এই হাদিস আশা ও সতর্কতা—দুটিই শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উম্মতের বিস্তার আল্লাহর ফায়সালার অংশ হিসেবে বর্ণিত হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর উম্মতের জন্য ধ্বংস থেকে রক্ষার দোয়া করেছেন।
- বাইরের শত্রুর পাশাপাশি ভেতরের সংঘাত বড় সতর্কতার বিষয়।
- মুসলিমদের পারস্পরিক লড়াই থেকে বাঁচার শিক্ষা এই হাদিসে আছে।
