২৯/১. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৭৫২-[১৪] - তাওরাতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর গুণাবলি
নবীকুল শিরোমণি (ﷺ)-র মর্যাদাসমূহ - প্রথম অনুচ্ছেদ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মর্যাদা, তার উত্তম গুণাবলি, তার বদান্যতা ও শ্রেষ্ঠত্বের বিস্তারিত বিবরণ গণনা করা ও আয়ত্ব করা সম্ভব নয়, বরং তা গুণে শেষ করা যাবে না। তবে লেখক এখানে রাসূলের মর্যাদা অধ্যায় রচনার উদ্দেশ্য তাঁর মর্যাদা ও ফযীলতের কিছু দিক তুলে ধরেছেন যাতে এগুলোর মাধ্যমে অন্যগুলো উপলব্ধি করা যায়।
তাওরাতে নবী صلى الله عليه وسلم-এর কোমল ও ক্ষমাশীল গুণ
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৭৫২-[১৪]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৭৫২-[১৪]
وَعَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ قَالَ: لَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ قُلْتُ: أَخْبِرْنِي عَنْ صِفَةُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي التَّوْرَاةِ قَالَ: أَجَلْ وَاللَّهِ إِنَّهُ لموصوف بِبَعْض صفتِه فِي القرآنِ: ﴾يَا أيُّها النبيُّ إِنَّا أرسلناكَ شَاهدا ومُبشِّراً وَنَذِيرا﴿ وحِرْزا للاُمِّيّينَ أَنْت بعدِي وَرَسُولِي سَمَّيْتُكَ الْمُتَوَكِّلَ لَيْسَ بِفَظٍّ وَلَا غَلِيظٍ وَلَا سَخَّابٍ فِي الْأَسْوَاقِ وَلَا يَدْفَعُ بِالسَّيِّئَةِ السَّيِّئَةَ وَلَكِنْ يَعْفُو وَيَغْفِرُ وَلَنْ يَقْبِضَهُ اللَّهُ حَتَّى يُقِيمَ بِهِ الْمِلَّةَ الْعَوْجَاءَ بِأَنْ يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَيَفْتَحُ بِهَا أَعْيُنًا عُمْيًا وَآذَانًا صُمًّا وَقُلُوبًا غُلْفًا. رَوَاهُ الْبُخَارِيُّ رواہ البخاری (2125) ۔ (صَحِيح)
আতা ইবনু ইয়াসার (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
একদিন আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আম্র ইবনুল ‘আস (রাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাঁকে বললাম, তাওরাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর যে গুণ বর্ণিত আছে, সে সম্পর্কে আমাকে অবহিত করুন। তিনি বললেন : হ্যাঁ, আল্লাহর শপথ! কোরআনে বর্ণিত তাঁর কিছু গুণাবলিসহ তাওরাতে তাঁর গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে— “হে নবী! আমি তোমাকে সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা, সতর্ককারী হিসেবে এবং উম্মাতের রক্ষাকারী হিসেবে প্রেরণ করেছি। তুমি আমার বান্দা ও রাসূল। আমি তোমার নাম দিয়েছি মুতাওয়াক্কিল বা ভরসাকারী, তুমি রূঢ় বা কঠোর হৃদয় এবং বাজারে তর্ককারী ও হৈ-হুল্লোড়কারী নও।তিনি কোন মন্দ দ্বারা মন্দকে প্রতিহত করবেন না, বরং তিনি এদেরকে মার্জনা করে দেবেন এবং মাফ করে দেবেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে ততদিন পর্যন্ত দুনিয়া হতে উঠিয়ে নেবেন না, বক্রপথে চালিত জাতিকে যতদিন সৎপথের উপর প্রতিষ্ঠিত করবেন না তাঁর দ্বারা। অর্থাৎ যতক্ষণ লোকজন ‘লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ-এর উপর বিশ্বাসী না হয় এবং তাঁর দ্বারা অন্ধ চোখ, বধির কান এবং বদ্ধ অন্তর উন্মুক্ত না হয়ে যায়। "
সহীহ বুখারী ২১২৫, মুসনাদে আহমাদ ৬৬২২, সহীহ আল আদাবুল মুফরাদ ১৮৫, দারিমী ৬, আল মু'জামুল কাবীর লিত্ব তবারানী ১৬৩, আস্ সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৩৬৮১, আল আদাবুল মুফরাদ ২৪৬।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৭৫২-[১৪]-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনুল আস (রাঃ)-এর কাছে তাওরাতে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর গুণ সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, সেখানে তাঁর কিছু গুণ বর্ণিত হয়েছে, যা কুরআনেও আছে। তিনি সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী। তাঁকে মুতাওয়াক্কিল বলা হয়েছে, অর্থাৎ আল্লাহর ওপর ভরসাকারী। তিনি রূঢ় নন, কঠোর হৃদয় নন এবং বাজারে হৈ-হুল্লোড়কারী নন। তিনি মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে দেন না; বরং ক্ষমা করেন ও মার্জনা করেন। এই হাদিস নবী صلى الله عليه وسلم-এর চরিত্রের কোমলতা, দয়া, ক্ষমা এবং মানুষকে তাওহীদের দিকে ডাকার বিষয়টি তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী صلى الله عليه وسلم সাক্ষ্যদাতা, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরিত।
- তাঁর চরিত্র কোমল, ক্ষমাশীল ও আল্লাহভরসায় পূর্ণ।
- তিনি মন্দের জবাব মন্দ দিয়ে দিতেন না।
- মানুষকে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহর দিকে ডাকা তাঁর মিশনের মূল অংশ।
