৪/২. অধ্যায়ঃ

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮৭-[১] - ফরজ সালাতে নববী সময়পদ্ধতি

প্রথম ওয়াক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালাত আদায় - প্রথম অনুচ্ছেদ

এ অধ্যায়ে তাড়াতাড়ি সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়ের বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এখানে সালাত (সালাত/নামায/নামাজ) বলতে ফরয সালাতকে বুঝানো হয়েছে। কেননা মূলনীতি হলো ফরয সালাতকে প্রথম ওয়াক্তে তাড়াতাড়ি আদায় করে নেয়া। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা বলেন,وَسَارِعُوا إِلى مَغْفِرَةٍ مِّنْ رَّبِّكُمْ’‘তোমরা আল্লাহর মাগফিরাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও।’’ (সূরাহ্ আ-লি ‘ইমরান ৩: ১৩৩)অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ’‘তোমরা কল্যাণের কাজে তাড়াতাড়ি অগ্রসর হও।’’(সূরাহ্ আল্ বাক্বারাহ্ ২: ১৪৮)তবে বিশেষ কল্যাণের কারণে শারী‘আত প্রণেতা যে সালাতকে দেরী করে আদায় করতে নির্দেশ দিয়েছেন তা দেরী করে আদায় করাই উত্তম। যেমন, ‘ইশার সালাত এবং প্রচন্ড গরমের সময় যুহরের সালাত।

রাসূল صلى الله عليه وسلم কীভাবে ফরজ সালাত আদায় করতেন

মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৮৭-[১]

عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلَامَةَ قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي عَلى أَبِي بَرْزَةَ الْأَسْلَمِيِّ فَقَالَ لَه أَبِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْأُولى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ وَيُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلى رَحْلِه فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِ يثَ بَعْدَهَا وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلَاةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَه وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ-.وَفِىْ رِوَايَةٍ وَلَا يُبَالِي بِتَأْخِيرِ الْعِشَاءِ إِلى ثُلُثِ اللَّيْلِ وَلَا يُحِبُّ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيْثَ بَعْدَهَا. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ

আবূ বারযাহ আল-আসলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি ও আমার আব্বা আবূ বারযাহ্ আল আসলামী (রাঃ)- এর নিকট গেলাম। আমার আব্বা তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ফরজ সালাত কিভাবে আদায় করতেন? তিনি উত্তরে বললেন, যুহরের সালাত- যে সালাতকে তোমরা প্রথম সালাত বল, সূর্য ঢলে পড়লেই পড়তেন। আসরের সালাত আদায় করতেন এমন সময়, যার পর আমাদের কেউ মাদীনার শেষ প্রান্তে তার বাড়ীতে ফিরতে পারতেন, অথচ সূর্য তখনও পরিষ্কার থাকত।বর্ণনাকারী বলেন, মাগরিবের সালাত সম্পর্কে কী বলেছেন, আমি তা ভুলে গেছি। আর ইশার সালাত, যাকে তোমরা ‘আতামাহ্’ বল, তিনি (ﷺ) দেরী করে পড়তেই ভালবাসেন এবং ইশার সালাতের আগে ঘুম যাওয়া বা সালাতের পরে কথা বলাকে পছন্দ করতেন না। তিনি (ﷺ) ফজরের সালাত শেষ করতেন, যখন কেউ নিজের সঙ্গে বসা ব্যক্তিকে চিনতে পারত এবং এ সময় ষাট হতে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন।অপর এক বর্ণনায় রয়েছে, তিনি (ﷺ) ইশার সালাতকে রাতের এক-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত পিছিয়ে নিতেও দ্বিধা করতেন না এবং ইশার সালাতের আগে ঘুম যাওয়া ও পরে কথা বলাকে অপছন্দ করতেন। [২]

[১] সহীহ : বুখারী ৫৪৭, মুসলিম ৬৪৭।[২] সহীহ : বুখারী ৫৪১, নাসায়ী ৫৩০, আবূ দাঊদ ৩৯৮, আহমাদ ১৯৭৬৭, দারেমী ১৩৩৮।

অনুবাদের উৎস

প্রকাশক:
হাদিস একাডেমী
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৮৭-[১]-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আবূ বারযাহ আল-আসলামী রা.-এর কাছে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ফরজ সালাত কীভাবে আদায় করতেন তা জানতে চাওয়া হয়। তিনি বলেন, যুহর সূর্য ঢলে পড়লেই আদায় করতেন। আসর এমন সময়ে পড়তেন, যার পর মানুষ মাদীনার শেষ প্রান্তের ঘরে ফিরতে পারত, অথচ সূর্য তখনও পরিষ্কার থাকত। ইশার সালাত তিনি দেরি করে পড়তে ভালোবাসতেন। ইশার আগে ঘুমানো এবং ইশার পরে কথা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। ফাজর শেষ করতেন এমন সময়ে, যখন পাশে বসা ব্যক্তিকে চেনা যেত। এ সময় তিনি ষাট থেকে একশ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। এই হাদিস নববী সালাতের সময়পদ্ধতি বুঝতে সাহায্য করে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাসূল صلى الله عليه وسلم যুহর সূর্য ঢলার পর আদায় করতেন।
  • আসর এমন সময়ে পড়তেন, যখন সূর্য পরিষ্কার থাকত।
  • ইশার আগে ঘুমানো ও পরে কথা বলা অপছন্দনীয় বলা হয়েছে।
  • ফাজরে তিলাওয়াতের একটি দীর্ঘ পরিমাণের বর্ণনা এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন