২৯/৮. অধ্যায়ঃ
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৪৫-[২] - উহুদের আগে পিতার শেষ উপদেশ
কারামাত সম্পর্কে বর্ণনা - প্রথম অনুচ্ছেদ
কারামাতশব্দের অর্থ সম্মানিত হওয়া, মর্যাদাবান হওয়া, মহৎ হওয়া ও উদার হওয়া। পরিভাষায় ঐ অলৌকিক কর্মকে কারামাত বলা হয় যা নেককার মু‘মিনের মাধ্যমে প্রকাশিত হয়, কিন্তু তা নুবুওয়্যাতের দাবির সাথে হবে না এবং তার উদ্দেশ্য কাফির ও মুশরিকদের বিরোধিতা ও মোকাবেলায়ও হবে না। কেননা যে অলৌকিক কর্ম নুবুওয়্যাতের দাবীর সাথে হয় এবং তার উদ্দেশ্য কাফির ও মুশরিকদের বিরোধিতা ও মোকাবেলা হয়, তাকে মু‘জিযা বলা হয়।এর দ্বারা মু‘জিযাহ্ ও কারামাতের পার্থক্য গেল বুঝা গেল। ওয়ালীদের কারামাতসমূহ আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের নিকট প্রমাণিত। আহলুস্ সুন্নাহ ওয়াল জামা‘আতের ‘আক্বীদাহ হলো ওয়ালীদের কারামাতের প্রতি ঈমান রাখা। আর তা সত্য। এটা এমন একটা বিষয় যা আল্লাহ তার কোন কোন বান্দাকে যখন দরকার তখন অথবা তার শত্রুদেরকে দেখানোর জন্য ও তাঁর দীনকে বিজয়ী করার জন্য দিয়ে থাকেন।উদাহরণস্বরূপ, যখন তাদের খাদ্য দরকার তখন খাবার দান, পিপাসিত হলে পানি দান; তারা জানে না যে, তা কোথা থেকে আসলো অথবা অনেক দূর থেকে খাবার আসা, এ জাতীয় অনেক কিছু সংঘটিত হওয়া। অথবা খাবারে বরকত হওয়া। এটা প্রকাশ্য বা অপ্রকাশ্যভাবে হতে পারে। তবে সে আল্লাহর ওয়ালীকে অবশ্যই আল্লাহর ও তাঁর রাসূলের দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকতে হবে। আর যদি সে লোক ইসলামী শারী‘আতের পাবন্দি না করে, তবে তাঁর কর্ম কারামাত বলে পরিগণিত হবে না।এটা তখন শয়তানের কর্ম হিসেবে বিবেচিত হবে। আর তা শয়তানদের ফিতনাহ্। কারামাত প্রকাশিত হয় কেবল আল্লাহর মুমিন বান্দাদের নিকট থেকে। যারা আল্লাহর দীনের উপর প্রতিষ্ঠিত ও তাঁর শারী‘আতের অনুসারী বলে জানা যায়। এদের দ্বারা আল্লাহ যে বিশেষ কর্ম সম্পাদন করিয়ে নেন তাকে কারামাত বলে।(ইমাম ইবনু বায, নূরুন ‘আলাদ দারব, কওলু আহলিস্ সুন্নাতি ওয়াল জামা‘আতি ফিল কারামাত)
উহুদের শহীদের শেষ উপদেশ: ঋণ ও পরিবারের দায়িত্ব
মিশকাতুল মাসাবীহ : ৫৯৪৫-[২]
মিশকাতুল মাসাবীহহাদিস নম্বর ৫৯৪৫-[২]
وَعَن جَابر قَالَ: لَمَّا حَضَرَ أُحُدٌ دَعَانِي أَبِي مِنَ اللَّيْلِ فَقَالَ مَا أُرَانِي إِلَّا مَقْتُولًا فِي أَوَّلِ مَنْ يُقْتَلُ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَإِنِّي لَا أَتْرُكُ بَعْدِي أَعَزَّ عَلَيَّ مِنْكَ غَيْرَ نَفْسِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَإِنَّ عَلَيَّ دَيْنًا فَاقْضِ وَاسْتَوْصِ بِأَخَوَاتِكَ خَيْرًا فَأَصْبَحْنَا فَكَانَ أَوَّلَ قَتِيلٍ وَدَفَنْتُهُ مَعَ آخَرَ فِي قبر رَوَاهُ البُخَارِيّ رواہ البخاری (1351) ۔ (صَحِيح)
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহুদ যুদ্ধ সমাগত হলে আমার পিতা (আবদুল্লাহ) রাত্রের বেলায় আমাকে ডেকে বললেন, আমার মনে হয় নবী (ﷺ)-এর সাথিদের মধ্যে যাঁরা নিহত হবেন, আমিই হব তাঁদের মধ্যে প্রথম নিহত লোক এবং একমাত্র রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ছাড়া তোমার চেয়ে প্রিয় লোক আর কাউকেও আমি রেখে যাচ্ছি না; আর আমি ঋণগ্রস্ত। অতএব আমার ঋণগুলো পরিশোধ করে দেবে এবং তোমার বোনদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। জাবির (রাঃ) বলেন, পরের দিন সকাল হলে দেখলাম, তিনিই প্রথম শহীদ লোক এবং তাঁকে অন্য আরেক লোকের সাথে একই কবরে দাফন করলাম।
সহীহ: বুখারী ১৩৫১, আস সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী ১৩০৫৪, আল মুসতাদরাক লিল হাকিম ৪৯১৩।
অনুবাদের উৎস
- প্রকাশক:
- হাদিস একাডেমী
মিশকাতুল মাসাবীহ হাদিস ৫৯৪৫-[২]-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির রাঃ তাঁর পিতা আবদুল্লাহ রাঃ-এর একটি গভীর ঘটনার কথা বলেছেন। উহুদ যুদ্ধের আগের রাতে তাঁর পিতা তাঁকে ডাকলেন এবং জানালেন, তিনি মনে করছেন নবী صلى الله عليه وسلم-এর সাথিদের মধ্যে প্রথম নিহতদের একজন হবেন। তিনি জাবির রাঃ-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم ছাড়া তার কাছে জাবিরের চেয়ে প্রিয় আর কেউ নেই। এরপর তিনি নিজের ঋণের কথা বললেন এবং তা পরিশোধ করতে বললেন। একই সঙ্গে বোনদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করার উপদেশ দিলেন। পরদিন সকালেই তিনি শহীদ হন এবং অন্য একজনের সঙ্গে একই কবরে দাফন করা হয়। এই হাদিসে শাহাদাতের পাশাপাশি ঋণ, পরিবার ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মৃত্যুর আগে ঋণ ও মানুষের হক নিয়ে সচেতন থাকা উচিত।
- পরিবারের দুর্বল সদস্যদের যত্ন নেওয়া বড় দায়িত্ব।
- শাহাদাতের মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ববোধও গুরুত্বপূর্ণ।
- সন্তানকে ভালো উপদেশ দেওয়া পিতার সুন্দর আমল।
