১৩/২০. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২১৮ - সালাতে কথা ও উত্তম শিক্ষা

সলাতে কথা বলা

সালাতে কথা বলা নিষেধ ও নবীজির কোমল শিক্ষা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১২১৮

أَخْبَرَنَا إِسْحَقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْأَوْزَاعِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ أَبِي كَثِيرٍ، عَنْ هِلَالِ بْنِ أَبِي مَيْمُونَةَ، قَالَ: حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَسَارٍ، عَنْ مُعَاوِيَةَ بْنِ الْحَكَمِ السَّلَمِيِّ، قَالَ: قُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّا حَدِيثُ عَهْدٍ بِجَاهِلِيَّةٍ فَجَاءَ اللَّهُ بِالْإِسْلَامِ، وَإِنَّ رِجَالًا مِنَّا يَتَطَيَّرُونَ، قَالَ: «ذَاكَ شَيْءٌ يَجِدُونَهُ فِي صُدُورِهِمْ، فَلَا يَصُدَّنَّهُمْ» وَرِجَالٌ مِنَّا يَأْتُونَ الْكُهَّانَ، قَالَ: «فَلَا تَأْتُوهُمْ»، قَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَرِجَالٌ مِنَّا يَخُطُّونَ، قَالَ: «كَانَ نَبِيٌّ مِنَ الْأَنْبِيَاءِ يَخُطُّ، فَمَنْ وَافَقَ خَطُّهُ، فَذَاكَ»قَالَ: وَبَيْنَا أَنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي الصَّلَاةِ إِذْ عَطَسَ رَجُلٌ مِنَ الْقَوْمِ، فَقُلْتُ: يَرْحَمُكَ اللَّهُ، فَحَدَّقَنِي الْقَوْمُ بِأَبْصَارِهِمْ، فَقُلْتُ: وَاثُكْلَ أُمِّيَاهُ، مَا لَكُمْ تَنْظُرُونَ إِلَيَّ؟ قَالَ: فَضَرَبَ الْقَوْمُ بِأَيْدِيهِمْ عَلَى أَفْخَاذِهِمْ، فَلَمَّا رَأَيْتُهُمْ يُسَكِّتُونِي لَكِنِّي سَكَتُّ، فَلَمَّا انْصَرَفَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَعَانِي بِأَبِي وَأُمِّي، هُوَ مَا ضَرَبَنِي، وَلَا كَهَرَنِي، وَلَا سَبَّنِي، مَا رَأَيْتُ مُعَلِّمًا قَبْلَهُ وَلَا بَعْدَهُ أَحْسَنَ تَعْلِيمًا مِنْهُ، قَالَ: «إِنَّ صَلَاتَنَا هَذِهِ لَا يَصْلُحُ فِيهَا شَيْءٌ مِنْ كَلَامِ النَّاسِ، إِنَّمَا هُوَ التَّسْبِيحُ وَالتَّكْبِيرُ، وَتِلَاوَةُ الْقُرْآنِ» قَالَ: ثُمَّ اطَّلَعْتُ إِلَى غُنَيْمَةٍ لِي تَرْعَاهَا جَارِيَةٌ لِي فِي قِبَلِ أُحُدٍ وَالْجَوَّانِيَّةِ، وَإِنِّي اطَّلَعْتُ فَوَجَدْتُ الذِّئْبَ قَدْ ذَهَبَ مِنْهَا بِشَاةٍ، وَأَنَا رَجُلٌ مِنْ بَنِي آدَمَ آسَفُ كَمَا يَأْسَفُونَ، فَصَكَكْتُهَا صَكَّةً، ثُمَّ انْصَرَفْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخْبَرْتُهُ، فَعَظَّمَ ذَلِكَ عَلَيَّ فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَفَلَا أَعْتِقُهَا؟ قَالَ: «ادْعُهَا»، فَقَالَ لَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَيْنَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ؟»، قَالَتْ: فِي السَّمَاءِ، قَالَ: «فَمَنْ أَنَا؟» قَالَتْ: أَنْتَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّهَا مُؤْمِنَةٌ فَاعْتِقْهَا»

মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম আস-সুলামী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা নিকট-অতীতে অন্ধকারে নিমজ্জিত ছিলাম, এরপর আল্লাহ তা'আলা ইসলাম পাঠালেন। আমাদের মধ্যে কিছু লোক ভালো-মন্দ লক্ষণ মানে। তিনি বললেন, তা এক প্রকার কুসংস্কার, যা তাদের মনে উদ্রেক হয়ে থাকে, এটা যেন তাদের কোন কাজ হতে বিরত না রাখে। আমি আরও বললাম, আমাদের মধ্যে কিছু লোক গণকদের কাছে যায়। তিনি বললেন, তোমরা গণকদের কাছে যেয়ো না। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কিছু লোক রেখা টেনে থাকে, তিনি বললেন, নবীদের মধ্যে একজন নবী রেখা টানতেন [ইদ্রীস (আঃ) অথবা দানিয়াল (আঃ)। অতএব, যার রেখা তাঁর রেখার সাথে মিলে যায় তা সঠিক বলে প্রতিপন্ন হবে।রাবী বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সঙ্গে সালাতে ছিলাম, এমন সময় এক ব্যক্তি হাঁচি দিলে আমি يَرْحَمُكَ اللَّهُ “ইয়ারহামুকাল্ল-হ” বললাম, তখন উপস্থিত লোকজন আমার দিকে তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে চেয়ে থাকলে আমি বললাম, তোমাদের মাতারা তোমাদের হারিয়ে ফেলুক! তোমাদের কি হলো তোমরা আমার দিকে এরূপ তীক্ষ্ণ দৃষ্টিতে তাকাচ্ছ কেন? তখন লোকজন (আশ্চর্যান্বিত হয়ে) তাদের উরুদেশে তাদের হাত মারতে শুরু করল, আমি যখন দেখলাম যে, তাঁরা আমাকে চুপ করাতে চাচ্ছে আমি (রাগান্বিত না হয়ে) চুপ হয়ে গেলাম।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন সালাত সমাপ্ত করলেন আমাকে ডাকলেন। তাঁর ওপর আমার মাতা-পিতা কুরবান হোক। তিনি আমাকে তিরস্কারও করলেন না এবং কটু কথাও বললেন না। আমি তাঁর পূর্বে বা পরে তাঁর চাইতে উত্তম কোন শিক্ষক দেখিনি। তিনি বললেন, আমাদের এ সালাতে কারও কথা বলা সমীচীন নয়। এতো হলো তাসবীহ, তাকবির এবং তিলাওয়াতে কোরআনের সমষ্টি।রাবী বলেন, এরপর আমার একটি বকরীর পাল দেখতে পেলাম যা আমার দাসী উহুদ এবং জাওয়ানিয়্যাহ্-এর নিকট চরাচ্ছিল। আমি দেখলাম যে, বাঘে পাল হতে একটি বকরী নিয়ে গেছে। আমিও তো এক আদাম সন্তান তাই আমি (দাসীর ওপর) রাগান্বিত হলাম, যেমন অন্যরাও রাগান্বিত হয়ে থাকে। অতএব, আমি দাসীকে একটা চড় মারলাম।এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁকে বিষয়টি অবহিত করলাম। তিনি চড় মারাকে খুবই অন্যায় কাজ মনে করলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি তাঁকে (এর প্রায়শ্চিত্ত স্বরূপ) আযাদ করে দিব? তিনি বললেন, তাকে ডাকো, তিনি দাসীকে প্রশ্ন করলেন, আল্লাহ কোথায়? সে বলল, আসমানে। তিনি তাকে আবার প্রশ্ন করলেন, আমি কে? সে বলল, আপনি আল্লাহর রাসূল (ﷺ)। এরপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, সে মু'মিন, অতএব তাকে আযাদ করে দাও।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১২১৮-এর সারসংক্ষেপ

এই দীর্ঘ হাদিসে কয়েকটি বিষয় এসেছে, তবে সালাতের অংশে মূল শিক্ষা খুব পরিষ্কার। মু‘আবিয়াহ ইবনুল হাকাম (রাঃ) সালাতে হাঁচির জবাব দিয়ে “ইয়ারহামুকাল্লাহ” বলেছিলেন। সাহাবীরা তাকে চুপ করান। সালাত শেষে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাকে মারেননি, অপমান করেননি বা কটু কথা বলেননি; বরং বুঝিয়েছেন যে সালাতে মানুষের সাধারণ কথা বলা চলে না। সালাত হলো তাসবিহ, তাকবির ও কুরআন তিলাওয়াতের স্থান। একই বর্ণনায় কুসংস্কার যেন কাজ থেকে বিরত না রাখে, গণকদের কাছে না যেতে বলা, দাসীকে চড় মারাকে গুরুতর মনে করা এবং তার ঈমানের সাক্ষ্যের পর মুক্ত করার কথাও আছে। তাই ব্যাখ্যায় সব অংশ আলাদা করে দেখা জরুরি। “সালাতে কথা বলা নিষেধ” এবং “নবীজির শিক্ষা পদ্ধতি” এই হাদিসের সবচেয়ে স্পষ্ট সার্চ-ইনটেন্ট।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সালাতে মানুষের সাধারণ কথাবার্তা বলা সমীচীন নয়।
  • ভুলকারীকে শেখাতে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) কোমল ও অপমানহীন পদ্ধতি গ্রহণ করেছেন।
  • কুসংস্কার যেন কাজ থামিয়ে না দেয় এবং গণকদের কাছে না যেতে বলা হয়েছে।
  • রাগের বশে দাসীকে চড় মারাকে গুরুতর অন্যায় হিসেবে দেখা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন