১৪/৪৫. অধ্যায়ঃ

ঐ মুহূর্তের বর্ণনা যে মুহূর্তে জুমু'আর দিনে দু'আ ক্ববূল করা হয়

সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১৪৩০

أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا بَكْرٌ يَعْنِي ابْنَ مُضَرَ، عَنْ ابْنِ الْهَادِ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: أَتَيْتُ الطُّورَ فَوَجَدْتُ ثَمَّ كَعْبًا، فَمَكَثْتُ أَنَا وَهُوَ يَوْمًا أُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَيُحَدِّثُنِي عَنِ التَّوْرَاةِ، فَقُلْتُ لَهُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ، فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُهْبِطَ، وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ تُصْبِحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُصِيخَةً، حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلَّا ابْنَ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ يَسْأَلُ اللَّهَ فِيهَا شَيْئًا إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ» فَقَالَ كَعْبٌ: ذَلِكَ يَوْمٌ فِي كُلِّ سَنَةٍ، فَقُلْتُ: بَلْ هِيَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ، فَقَرَأَ كَعْبٌ التَّوْرَاةَ، ثُمَّ قَالَ: صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هُوَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ. فَخَرَجْتُ فَلَقِيتُ بَصْرَةَ بْنَ أَبِي بَصْرَةَ الْغِفَارِيَّ، فَقَالَ: مِنْ أَيْنَ جِئْتَ؟ قُلْتُ: مِنَ الطُّورِ، قَالَ: لَوْ لَقِيتُكَ مِنْ قَبْلِ أَنْ تَأْتِيَهُ لَمْ تَأْتِهِ، قُلْتُ لَهُ: وَلِمَ؟ قَالَ: إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: " لَا تُعْمَلُ الْمَطِيُّ إِلَّا إِلَى ثَلَاثَةِ مَسَاجِدَ: الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ وَمَسْجِدِي وَمَسْجِدِ بَيْتِ الْمَقْدِسِ " فَلَقِيتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ سَلَامٍ، فَقُلْتُ: لَوْ رَأَيْتَنِي خَرَجْتُ إِلَى الطُّورِ فَلَقِيتُ كَعْبًا فَمَكَثْتُ أَنَا وَهُوَ يَوْمًا أُحَدِّثُهُ عَنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَيُحَدِّثُنِي عَنِ التَّوْرَاةِ، فَقُلْتُ لَهُ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيهِ خُلِقَ آدَمُ، وَفِيهِ أُهْبِطَ، وَفِيهِ تِيبَ عَلَيْهِ، وَفِيهِ قُبِضَ، وَفِيهِ تَقُومُ السَّاعَةُ، مَا عَلَى الْأَرْضِ مِنْ دَابَّةٍ إِلَّا وَهِيَ تُصْبِحُ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مُصِيخَةً حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلَّا ابْنَ آدَمَ، وَفِيهِ سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ يَسْأَلُ اللَّهَ شَيْئًا، إِلَّا أَعْطَاهُ إِيَّاهُ» قَالَ كَعْبٌ: ذَلِكَ يَوْمٌ فِي كُلِّ سَنَةٍ، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلَامٍ: كَذَبَ كَعْبٌ، قُلْتُ: ثُمَّ قَرَأَ كَعْبٌ، فَقَالَ: صَدَقَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «هُوَ فِي كُلِّ جُمُعَةٍ»، فَقَالَ عَبْدُ اللَّهِ: صَدَقَ كَعْبٌ إِنِّي لَأَعْلَمُ تِلْكَ السَّاعَةَ، فَقُلْتُ: يَا أَخِي، حَدِّثْنِي بِهَا، قَالَ: «هِيَ آخِرُ سَاعَةٍ مِنْ يَوْمِ الْجُمُعَةِ قَبْلَ أَنْ تَغِيبَ الشَّمْسُ» فَقُلْتُ: أَلَيْسَ قَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «لَا يُصَادِفُهَا مُؤْمِنٌ وَهُوَ فِي الصَّلَاةِ»، وَلَيْسَتْ تِلْكَ السَّاعَةَ صَلَاةٌ، قَالَ: أَلَيْسَ قَدْ سَمِعْتَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «مَنْ صَلَّى، وَجَلَسَ يَنْتَظِرُ الصَّلَاةَ لَمْ يَزَلْ فِي صَلَاتِهِ حَتَّى تَأْتِيَهُ الصَّلَاةُ الَّتِي تُلَاقِيهَا» قُلْتُ: بَلَى، قَالَ: فَهُوَ كَذَلِكَ

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আমি একবার 'তূর' নামক স্থানে আসলাম। সেখানে আমি কা‘ব-কে পেলাম, সেখানে আমি এবং তিনি একদিন অবস্থান করলাম। আমি তাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদিস বর্ণনা করতাম, আর তিনি আমাকে তাওরাত হতে বর্ণনা করতেন। আমি তাঁকে বললাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয়, তা হলো জুমুআর দিন। সে দিনে আদম (আঃ)-কে তৈরি করা হয়েছে, সে দিনেই তাঁকে জান্নাত হতে অবতরণ করানো হয়েছে, সে দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেই দিনেই কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূ-পৃষ্ঠে বনি আদম ছাড়া এমন কোন জীব-জন্তু নেই যা জুমুআর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে উৎকণ্ঠিত হয়ে না থাকে। সে দিনে এমন একটি মুহূর্ত রয়েছে যে কোন মুমিন সালাত রত থাকা অবস্থায় তা পেয়ে আল্লাহর কাছে যদি সে সময় কোন কিছু চায়, আল্লাহ তাকে নিশ্চয় তা দিবেন।অতঃপর কা‘ব বললেন, সে মুহূর্তটা প্রতি বছর একদিনই হয়। আমি বললাম, বরং তা প্রতি জুমুআর দিনেই হয়। তখন কা‘ব তাওরাত হতে পাঠ করলেন, এরপর বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সত্যই বলেছেন, তা প্রত্যেক জুমুআর দিনেই হয়।তখন আমি বের হলে বাসরাহ ইবনু আবু বাসরাহ আল গিফারী (রাঃ)-এর সাথে আমার দেখা হয়। তিনি বললেন, তুমি কোথা হতে এসেছো? আমি বললাম, ‘তূর’ হতে। তিনি বললেন, যদি তোমার সেখানে যাওয়ার পূর্বে তোমার সাথে আমার দেখা হত, তাহলে তুমি সেখানে যেতে না। আমি তাঁকে বললাম, তুমি এমন কথা কেন বলছো? তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনটি মসজিদ ছাড়া সফর করা যাবে না। মসজিদে হারাম, আমার মসজিদ (মসজিদে নববী) এবং মসজিদে বায়তুল মাকদিস।এরপর আমি আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে বললাম, যদি আপনি আমাকে দেখতেন যে, আমি ‘তূর’ নামক স্থানে গিয়েছি ও কা‘ব (রাঃ)-এর সাথে দেখা করেছি আর আমি এবং তিনি একদিন সেখানে অবস্থান করেছি। আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) হতে হাদিস বর্ণনা করে শুনাতাম আর তিনি আমাকে তাওরাত হতে বর্ণনা করে শুনাতেন। তখন আমি তাঁকে বললাম যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: সর্বোৎকৃষ্ট দিন যাতে সূর্য উদিত হয় জুমুআর দিন। সে দিন আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে, সে দিনেই তাঁকে জান্নাত হতে বের করে দেয়া হয়েছে, সে দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে, সে দিনেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে এবং সে দিনেই কেয়ামত অনুষ্ঠিত হবে। ভূ-পৃষ্ঠে বনি আদম ছাড়া এমন কোন জীব-জন্তু নেই, জুমুআর দিন সূর্যোদয় পর্যন্ত কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে চিৎকার করতে না থাকে। সে দিনে এমন একটি সময় আছে যে কোন মুমিন সালাতরত অবস্থায় তা পেয়ে আল্লাহর কাছে যদি সে সময় কোন কিছু চায় আল্লাহ তাঁকে তা নিশ্চয় দিবেন।কা‘ব (রাঃ) বলেছেন, সে দিনটি প্রতি বছর একদিনই হয়, তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, কা‘ব (রাঃ) মিথ্যা বলেছেন। আমি বললাম, অতঃপর কা‘ব তাওরাত পাঠ করলেন এবং বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) সত্যই বলেছেন। তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) বললেন, কা‘ব সত্যই বলেছেন, আমি সে সময়টি সম্পর্কে অবশ্যই জানি। আমি বললাম, হে আমার ভাই! আপনি আমাকে সে মুহূর্তটি সম্পর্কে বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, তা হলো জুমুআর দিনের সূর্য অস্ত যাওয়ার আগের শেষ সময়। তখন আমি বললাম, আপনি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেননি যে, কোন মুমিন ব্যক্তি সালাতরত অবস্থায় তা পায় অথচ সে সময় তো কোন সালাত নেই। তিনি বললেন, তুমি কি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুননি যে, যে ব্যক্তি সালাত আদায় করে এবং বসে বসে পরবর্তী সালাতের অপেক্ষায় থাকে, সে ব্যক্তি সালাতে থাকবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না তার কাছে পরবর্তী সালাত উপস্থিত হয়। আমি বললাম, কেন নয়? নিশ্চয়! তিনি বললেন, এ সে রকমই।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন