১৯/২২. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৭৮ - নবীজির খুতবার মূল বার্তা

খুত্ববাহ্ কিরূপ?

নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর খুতবা: কিতাবুল্লাহ, সুন্নাহ ও সতর্কতার বার্তা

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৫৭৮

أَخْبَرَنَا عُتْبَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سُفْيَانَ، عَنْ جَعْفَرِ بْنِ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ فِي خُطْبَتِهِ: يَحْمَدُ اللَّهَ وَيُثْنِي عَلَيْهِ بِمَا هُوَ أَهْلُهُ، ثُمَّ يَقُولُ: «مَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلَا مُضِلَّ لَهُ، وَمَنْ يُضْلِلْهُ فَلَا هَادِيَ لَهُ، إِنَّ أَصْدَقَ الْحَدِيثِ كِتَابُ اللَّهِ، وَأَحْسَنَ الْهَدْيِ هَدْيُ مُحَمَّدٍ، وَشَرُّ الْأُمُورِ مُحْدَثَاتُهَا، وَكُلُّ مُحْدَثَةٍ بِدْعَةٌ وَكُلُّ بِدْعَةٍ ضَلَالَةٌ، وَكُلُّ ضَلَالَةٍ فِي النَّارِ»، ثُمَّ يَقُولُ: «بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ»، وَكَانَ إِذَا ذَكَرَ السَّاعَةَ احْمَرَّتْ وَجْنَتَاهُ، وَعَلَا صَوْتُهُ، وَاشْتَدَّ غَضَبُهُ كَأَنَّهُ نَذِيرُ جَيْشٍ يَقُولُ: صَبَّحَكُمْ مَسَّاكُمْ، ثُمَّ قَالَ: «مَنْ تَرَكَ مَالًا فَلِأَهْلِهِ، وَمَنْ تَرَكَ دَيْنًا أَوْ ضَيَاعًا فَإِلَيَّ أَوْ عَلَيَّ، وَأَنَا أَوْلَى بِالْمُؤْمِنِينَ»

জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর খুতবায় বলতেন। তিনি আল্লাহ তা'আলার যথাযোগ্য প্রশংসা এবং গুণ বর্ণনা করতেন। অতঃপর বলতেন- “মাই ইয়াহদিহিল্লা-হু ফালা- মুযিল্লা লাহ্ ওয়ামাই ইউযলিলহু ফালা- হা-দিয়া লাহ্ ইন্না আসদাকুল হাদীসি কিতা-বুল্ল-হি ওয়া আহসানাল হাদয় হাদয় মুহাম্মাদিওঁ ওয়া শাররিল উমুরি মুহদাসা-তুহা- ওয়া কুল্লা মুহদাসাতিন বিদ' আতুন ওয়া কুল্লা বিদআতিন যলা-লাতুন ওয়া কুল্লা যলা-লাতিন ফিন্না-র” (আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন তাকে ভ্রষ্টকারী কেউ নেই। আর তিনি যাকে ভ্রষ্ট করেন তার কোন হিদায়াতকারী নেই। সবচাইতে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব। সর্বোত্তম পথ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর দেখানো পথ। নিকৃষ্ট কাজ নতুন আবিষ্কার আর কর্মের মধ্যে সকল নতুন আবিষ্কার বিদআত আর সকল বিদআতের পরিণতি জাহান্নাম।)।অতঃপর বলতেন- بُعِثْتُ أَنَا وَالسَّاعَةُ كَهَاتَيْنِ "আমি প্রেরিত হয়েছি এমন অবস্থায় যে, আমি ও কিয়ামত- এ দু'টি আঙ্গুল তর্জনী ও মধ্যমার মতো।” (অর্থাৎ, আমার পরে প্রেরিতরূপে আর কোন নবী আসবে না, এভাবে আমি কিয়ামতের নিকটবর্তী নবীরূপে প্রেরিত হয়েছি।) আর যখন তিনি কিয়ামতের উল্লেখ করতেন, তাঁর গণ্ডদ্বয়ের উপরিভাগ লাল হয়ে যেত এবং আওয়াজ উচ্চ হয়ে যেত, তাঁর রাগ বেড়ে যেত যেন তিনি কোন সৈন্য বাহিনীকে সাবধান করে দিতেছেন। তিনি বলতেন, শত্রুবাহিনী তোমাদের ওপর সকাল অথবা সন্ধ্যায় আক্রমণ করতে পারে।অতঃপর বলতেন, যে ব্যক্তি কোন সম্পত্তি ছেড়ে মারা যাবে তা তার পরিবারবর্গের জন্যে, আর যে ব্যক্তি কোন ঋণ অথবা নিঃসম্বল সন্তান-সন্ততি রেখে মারা যাবে তার সমুদয় দায়-দায়িত্ব আমার ওপর বর্তাবে। আর আমি মুমিনদের জন্যে উত্তম অভিভাবক।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৫৭৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর খুতবার একটি বড় অংশ এসেছে। তিনি খুতবায় প্রথমে আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা করতেন। তারপর বলতেন, আল্লাহ যাকে হিদায়াত দেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না, আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তার কোনো হিদায়াতকারী নেই। তিনি বলতেন, সবচেয়ে সত্য কথা আল্লাহর কিতাব এবং উত্তম পথ মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর পথ। নতুন আবিষ্কৃত কাজ ও বিদআত সম্পর্কে তিনি সতর্ক করতেন। কিয়ামতের কথা বললে তাঁর কণ্ঠ উঁচু হতো, মুখমণ্ডল লাল হয়ে যেত এবং তিনি মানুষকে সতর্ক করতেন। শেষে তিনি সম্পদ, ঋণ ও অসহায় পরিবারের দায়িত্ব সম্পর্কেও কথা বলেছেন। এই হাদিসে খুতবার মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনা ও সতর্ক করা।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • খুতবায় আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করা নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর আমল।
  • আল্লাহর কিতাব ও নবীজি صلى الله عليه وسلم-এর পথকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
  • নতুন আবিষ্কৃত বিদআত সম্পর্কে সতর্ক করা হয়েছে।
  • মুমিনদের দায়িত্ব ও অভিভাবকত্বের বিষয়ও খুতবায় এসেছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন