২০/২. অধ্যায়ঃ

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬০১ - বিতর সালাত ও নবীজির রাতের আমল

বিতর এবং তাহাজ্জুদের সলাত

বিতর সালাতের নিয়ম ও নবীজির রাতের আমল

সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৬০১

خْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سَعِيدٍ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ زُرَارَةَ، عَنْ سَعْدِ بْنِ هِشَامٍ، أَنَّهُ لَقِيَ ابْنَ عَبَّاسٍ، فَسَأَلَهُ عَنِ الْوَتْرِ، فَقَالَ: أَلَا أُنَبِّئُكَ بِأَعْلَمِ أَهْلِ الْأَرْضِ بِوَتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: نَعَمْ، قَالَ: عَائِشَةُ، ائْتِهَا فَسَلْهَا، ثُمَّ ارْجِعْ إِلَيَّ فَأَخْبِرْنِي بِرَدِّهَا عَلَيْكَ،فَأَتَيْتُ عَلَى حَكِيمِ بْنِ أَفْلَحَ، فَاسْتَلْحَقْتُهُ إِلَيْهَا، فَقَالَ: مَا أَنَا بِقَارِبِهَا إِنِّي نَهَيْتُهَا أَنْ تَقُولَ فِي هَاتَيْنِ الشِّيعَتَيْنِ شَيْئًا، فَأَبَتْ فِيهَا إِلَّا مُضِيًّا، فَأَقْسَمْتُ عَلَيْهِ فَجَاءَ مَعِي فَدَخَلَ عَلَيْهَا، فَقَالَتْ لِحَكِيمٍ: مَنْ هَذَا مَعَكَ؟ قُلْتُ: سَعْدُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَتْ: مَنْ هِشَامٌ؟ قُلْتُ: ابْنُ عَامِرٍ، فَتَرَحَّمَتْ عَلَيْهِ، وَقَالَتْ: نِعْمَ الْمَرْءُ كَانَ عَامِرًا، قَالَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ خُلُقِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: أَلَيْسَ تَقْرَأُ الْقُرْآنَ؟ قَالَ: قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «فَإِنَّ خُلُقَ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْقُرْآنُ» فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ فَبَدَا لِي قِيَامُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ قِيَامِ نَبِيِّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: «أَلَيْسَ تَقْرَأُ هَذِهِ السُّورَةَ؟ يَا أَيُّهَا الْمُزَّمِّلُ» قُلْتُ: بَلَى، قَالَتْ: «فَإِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ افْتَرَضَ قِيَامَ اللَّيْلِ فِي أَوَّلِ هَذِهِ السُّورَةِ، فَقَامَ نَبِيُّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَصْحَابُهُ حَوْلًا حَتَّى انْتَفَخَتْ أَقْدَامُهُمْ، وَأَمْسَكَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ خَاتِمَتَهَا اثْنَيْ عَشَرَ شَهْرًا، ثُمَّ أَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ التَّخْفِيفَ فِي آخِرِ هَذِهِ السُّورَةِ فَصَارَ قِيَامُ اللَّيْلِ تَطَوُّعًا بَعْدَ أَنْ كَانَ فَرِيضَةً» فَهَمَمْتُ أَنْ أَقُومَ فَبَدَا لِي وَتْرُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: يَا أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ، أَنْبِئِينِي عَنْ وَتْرِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَتْ: «كُنَّا نُعِدُّ لَهُ سِوَاكَهُ، وَطَهُورَهُ، فَيَبْعَثُهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ لِمَا شَاءَ أَنْ يَبْعَثَهُ مِنَ اللَّيْلِ، فَيَتَسَوَّكُ، وَيَتَوَضَّأُ، وَيُصَلِّي ثَمَانِيَ رَكَعَاتٍ لَا يَجْلِسُ فِيهِنَّ إِلَّا عِنْدَ الثَّامِنَةِ، يَجْلِسُ فَيَذْكُرُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ، وَيَدْعُو ثُمَّ يُسَلِّمُ تَسْلِيمًا يُسْمِعُنَا، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا يُسَلِّمُ، ثُمَّ يُصَلِّي رَكْعَةً» فَتِلْكَ إِحْدَى عَشْرَةَ رَكْعَةً يَا بُنَيَّ، فَلَمَّا «أَسَنَّ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَأَخَذَ اللَّحْمَ أَوْتَرَ بِسَبْعٍ، وَصَلَّى رَكْعَتَيْنِ وَهُوَ جَالِسٌ بَعْدَ مَا سَلَّمَ» فَتِلْكَ تِسْعُ رَكَعَاتٍ يَا بُنَيَّ، «وَكَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا صَلَّى صَلَاةً أَحَبَّ أَنْ يَدُومَ عَلَيْهَا» وَكَانَ إِذَا شَغَلَهُ عَنْ قِيَامِ اللَّيْلِ نَوْمٌ أَوْ مَرَضٌ أَوْ وَجَعٌ صَلَّى مِنَ النَّهَارِ اثْنَتَيْ عَشْرَةَ رَكْعَةً «وَلَا أَعْلَمُ أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَرَأَ الْقُرْآنَ كُلَّهُ فِي لَيْلَةٍ، وَلَا قَامَ لَيْلَةً كَامِلَةً حَتَّى الصَّبَاحَ، وَلَا صَامَ شَهْرًا كَامِلًا غَيْرَ رَمَضَانَ» فَأَتَيْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ فَحَدَّثْتُهُ بِحَدِيثِهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ، أَمَا إِنِّي لَوْ كُنْتُ أَدْخُلُ عَلَيْهَا لَأَتَيْتُهَا حَتَّى تُشَافِهَنِي مُشَافَهَةً قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: «كَذَا وَقَعَ فِي كِتَابِي، وَلَا أَدْرِي مِمَّنِ الْخَطَأُ فِي مَوْضِعِ وَتْرِهِ عَلَيْهِ السَّلَامُ»

সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর সাথে দেখা করে তাঁকে বিত্র সালাত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বললেন, আমি কি তোমাকে বিশ্ববাসীর মধ্যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিত্র সালাত সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত ব্যক্তির সংবাদ বলব না? তিনি বললেন, হ্যাঁ। ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বললেন, তিনি হলেন 'আয়িশাহ্ (রাঃ)। তুমি তাঁর খিদমাতে হাজির হয়ে তাঁকেই প্রশ্ন করে দেখ এবং পরে আমার কাছে এসে তোমাকে দেয়া তাঁর জবাব সম্বন্ধে আমাকে জানাবে।আমি হাকীম ইবনু আফলাহ-এর নিকট এসে 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর নিকট যাওয়ার জন্যে তাঁকে সাথী বানাতে চাইলে তিনি বললেন, আমি তাঁর নিকটবর্তী হব না, কেননা আমি তাঁকে উষ্ট্র যুদ্ধ ও সিফফীন ইত্যকার যুদ্ধসমূহে অংশগ্রহণকারী উভয় পক্ষ সম্পর্কে কিছু বলতে নিষেধ করলেও তিনি তা মানেন নি বরং তাতে সম্পৃক্ত হয়ে গিয়েছিলেন। আমি হাকীম ইবনু আফলাহকে 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে যাওয়ার জন্যে কসম দিলে তিনি আমার সাথে 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর কাছে গেলেন।'আয়িশাহ্ (রাঃ) হাকীম-কে প্রশ্ন করলেন, তোমার সাথে এ কে? আমি বললাম, সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ)। তিনি প্রশ্ন করলেন, হিশাম কে? আমি বললাম 'আমির-এর পুত্র। তিনি তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে বললেন, 'আমির বড় ভালো মানুষ ছিলেন। সা'দ ইবনু হিশাম (রহঃ) বললেন, হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি কোরআন তিলাওয়াত করো না? সা'দ (রহঃ) বলেন, আমি বললাম, হ্যাঁ! নিশ্চয় পাঠ করি। 'আয়িশাহ্ (রাঃ) বললেন, নবী (ﷺ)-এর স্বভাব-চরিত্র ছিল কোরআন।আমি যখন দাঁড়াতে মনস্থ করলাম তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর দাঁড়ানোর (রাত্রে নফল সালাত আদায় করার) কথা আমার মনে এসে গেল। তিনি বললেন, হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর রাতে নফল সালাত আদায় করা সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, তুমি "ইয়া- আইয়্যুহাল মুয্যাম্মিল” এ সূরাটি পাঠ করো না? আমি বললাম, হ্যাঁ, নিশ্চয় পাঠ করি।তিনি বললেন, আল্লাহ তা'আলা তাহাজ্জুদকে এ সূরার প্রথমাংশে ফরজ করেছিলেন, তখন নবী (ﷺ) এবং তাঁর সহাবীগণ এক বৎসর পর্যন্ত তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করলেন, যাতে তাঁদের পা ফুলে গেল। এক বৎসর পরে আল্লাহ তা'আলা উক্ত সূরার শেষাংশে সহজীকৃত বিধান অবতীর্ণ করলেন। অতএব তাহাজ্জুদের সালাত ফরজ হিসেবে অবতীর্ণ হওয়ার পর নফল হিসেবে অবশিষ্ট রয়ে গেল।আমি 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-কে বললাম, হে উম্মুল মু'মিনীন! আপনি আমাকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিত্র সম্পর্কে বলুন। তিনি বললেন, আমরা তাঁর জন্যে মিসওয়াক ও উযূর পানি তৈরি করে রাখতাম। রাতে যখন আল্লাহ তা'আলা তাঁকে জাগানোর ইচ্ছা করতেন তাঁকে জাগ্রত করে দিতেন। তিনি উঠে মিসওয়াক এবং উযূ করতেন এবং আট রাক্'আত সালাত আদায় করতেন। তাতে সালাম ফিরানোর জন্যে শুধু অষ্টম রাক্'আতেই বসতেন। বসে আল্লাহ তা'আলার যিক্র এবং দোয়া করতেন। অতঃপর আমাদের শুনিয়ে সালাম ফিরাতেন। অতঃপর বসা অবস্থায় দু'রাক্'আত সালাত আদায় করতেন। এরপর আবার এক রাক্'আত সালাত আদায় করতেন। তাহলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট এগারো রাক্'আত।যখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বয়স বেড়ে গেল এবং শরীরের ওজন বৃদ্ধি পেয়ে গেল তিনি সাত রাক্'আত বিত্রের সালাত আদায় করতেন। আর সালামের পর বসে থেকে দু' রাক্'আত সালাত আদায় করতেন। তা হলে হে প্রিয় বৎস! সর্বমোট নয় রাক্'আত সালাত আদায় করা হত। আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন কোন সালাত আদায় করতেন, তা নিয়মিত আদায় করতে ভালোবাসতেন। আর যদি তাঁকে নিদ্রা অথবা কোন অসুখ বা ব্যথা বেদনা তাহাজ্জুদ হতে বিরত রাখত তাহলে তিনি দিনে বারো রাক্'আত সালাত আদায় করে নিতেন। আমি এটা জানি না যে, নবী (ﷺ) এক রাত্রে সম্পূর্ণ কোরআন মাজীদ পাঠ করেছেন। আর তিনি সকাল পর্যন্ত পুরো রাত্র তাহাজ্জুদের সালাতও আদায় করতেন না এবং রমাযান ছাড়া পুরা মাস সিয়ামও পালন করতেন না।আমি ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট এসে 'আয়িশাহ্ (রাঃ) এর হাদীস তাঁকে বর্ণনা করলে তিনি বললেন, 'আয়িশাহ্ (রাঃ) সত্যই বলেছেন। আমি যদি তাঁর নিকট কখনও যেতাম তাহলে এ হাদীসটা তাঁর মুখ হতে সরাসরি শুনতে পেতাম। আবূ 'আবদুর রহমান (নাসায়ী) বলেন, আমার কিতাবে এ রকমই রয়েছে কিন্তু আমি জানি না যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর বিত্রের ব্যাপারে ভুল বর্ণনা কার থেকে হয়েছে।

সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬০১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিতর সালাত, তাহাজ্জুদ এবং নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নিয়মিত আমল। আইশা (রাঃ) জানান, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর চরিত্র ছিল কুরআন। তিনি রাতে উঠলে মিসওয়াক করতেন, ওজু করতেন, তারপর রাতের সালাত আদায় করতেন। এখানে এগারো রাকাত ও পরে বয়স বাড়লে নয় রাকাতের কথা এসেছে। হাদিসে আরও দেখা যায়, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কোনো আমল করলে তা নিয়মিত রাখতে পছন্দ করতেন। ঘুম, অসুস্থতা বা ব্যথার কারণে রাতের সালাত ছুটে গেলে তিনি দিনে বারো রাকাত আদায় করতেন। এতে রাতের সালাতের গুরুত্ব ও ভারসাম্যপূর্ণ ইবাদতের শিক্ষা পাওয়া যায়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর চরিত্র কুরআনের শিক্ষার বাস্তব রূপ ছিল।
  • তাহাজ্জুদ ও বিতর সালাত নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর নিয়মিত রাতের আমলের অংশ ছিল।
  • কোনো ভালো আমল শুরু করলে তা নিয়মিত রাখা পছন্দনীয়।
  • অসুস্থতা বা ঘুমের কারণে রাতের আমল ছুটলে দিনে তা পূরণ করার দৃষ্টান্ত আছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন