২১/৬১. অধ্যায়ঃ
শাহীদের জানাযার সলাত প্রসঙ্গে
সুনানে নাসাঈ : ১৯৫৩
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১৯৫৩
أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عِكْرِمَةُ بْنُ خَالِدٍ، أَنَّ ابْنَ أَبِي عَمَّارٍ أَخْبَرَهُ، عَنْ شَدَّادِ بْنِ الْهَادِ، أَنَّ رَجُلًا مِنَ الْأَعْرَابِ جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَآمَنَ بِهِ وَاتَّبَعَهُ، ثُمَّ قَالَ: أُهَاجِرُ مَعَكَ، فَأَوْصَى بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَعْضَ أَصْحَابِهِ، فَلَمَّا كَانَتْ غَزْوَةٌ غَنِمَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ سَبْيًا، فَقَسَمَ وَقَسَمَ لَهُ، فَأَعْطَى أَصْحَابَهُ مَا قَسَمَ لَهُ، وَكَانَ يَرْعَى ظَهْرَهُمْ، فَلَمَّا جَاءَ دَفَعُوهُ إِلَيْهِ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟، قَالُوا: قِسْمٌ قَسَمَهُ لَكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَخَذَهُ فَجَاءَ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: مَا هَذَا؟ قَالَ: «قَسَمْتُهُ لَكَ»، قَالَ: مَا عَلَى هَذَا اتَّبَعْتُكَ، وَلَكِنِّي اتَّبَعْتُكَ عَلَى أَنْ أُرْمَى إِلَى هَاهُنَا، وَأَشَارَ إِلَى حَلْقِهِ بِسَهْمٍ، فَأَمُوتَ فَأَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَقَالَ: «إِنْ تَصْدُقِ اللَّهَ يَصْدُقْكَ»، فَلَبِثُوا قَلِيلًا ثُمَّ نَهَضُوا فِي قِتَالِ الْعَدُوِّ، فَأُتِيَ بِهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يُحْمَلُ قَدْ أَصَابَهُ سَهْمٌ حَيْثُ أَشَارَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَهُوَ هُوَ؟» قَالُوا: نَعَمْ، قَالَ: «صَدَقَ اللَّهَ فَصَدَقَهُ»، ثُمَّ كَفَّنَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي جُبَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، ثُمَّ قَدَّمَهُ فَصَلَّى عَلَيْهِ، فَكَانَ فِيمَا ظَهَرَ مِنْ صَلَاتِهِ: «اللَّهُمَّ هَذَا عَبْدُكَ خَرَجَ مُهَاجِرًا فِي سَبِيلِكَ فَقُتِلَ شَهِيدًا أَنَا شَهِيدٌ عَلَى ذَلِكَ»
শাদ্দাদ ইব্ন হাদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একজন গ্রাম্য ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে তাঁর প্রতি ঈমান আনলো এবং তাঁর অনুসরণ করল। অতঃপর সে বলল যে, আমি আপনার সাথে হিজরতকারী হিসেবে অবস্থান করব। তখন নবী (ﷺ) তাঁর সম্পর্কে কোনো সাহাবীকে ওয়াসিয়্যাত করলেন।এক যুদ্ধে গনীমত স্বরূপ কিছু বন্দি নবী (ﷺ)-এর হস্তগত হল। তিনি সেগুলো বণ্টন করে দিলেন এবং ঐ গ্রাম্য সাহাবীকেও দিলেন। তাঁর অংশ একজন সাহাবীর কাছে রেখে দিলেন। তিনি (ঐ গ্রাম্য ব্যক্তি) অন্যান্য সাহাবীদের উট চরাতেন। যখন ঐ গ্রাম্য ব্যক্তি আসলো, সেগুলো তাকে দিলে সে প্রশ্ন করল, এগুলো কি? তারা বলেন, তোমার অংশ যা তোমাকে নবী (ﷺ) দিয়েছেন। তিনি সেগুলো নিয়ে নবী (ﷺ)-এর কাছে এসে বললেন, এটা কি? তিনি (ﷺ) বললেন, এগুলো আমি তোমার জন্য নির্ধারণ করেছি।তখন তিনি বললেন, এ জন্য আমি আপনার অনুসরণ করিনি। বরং এজন্য অনুসরণ করেছি যেন এখানে আমি তীর (-এর আঘাতে শাহাদাত) বরণ করতে পারি। সে স্বীয় গলদেশের প্রতি ইশারা করল এবং শহীদ হতে পারি ও জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি। তিনি (ﷺ) বললেন, যদি তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখ, তবে আল্লাহ তোমার সে আশা অবশ্যই সত্য করে দেখাবেন।অল্প কিছুক্ষণ পরেই তিনি শত্রু নিধনের জন্য দৌড়ে গেলেন। অতঃপর তাঁকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সামনে আনা হলে দেখা গেল ঠিক ঐ জায়গাতেই তীর বিদ্ধ হয়েছে যেদিকে তিনি ইশারা করেছিলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, এ কি সেই ব্যক্তিই? সাহাবীগণ বললেন, হ্যাঁ। তিনি বললেন, সে আল্লাহকে সত্য বলে বিশ্বাস করেছিল, আল্লাহও তাকে সত্য সাব্যস্ত করে দেখিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) স্বীয় জুব্বা দ্বারা তার কাফন দিলেন এবং তাঁকে সম্মুখে রেখে জানাজার সালাত আদায় করলেন। তাঁর জানাজার সালাতে দোয়ার যে অংশ প্রকাশ পেয়েছিল তা হল, "হে আল্লাহ! এ ব্যক্তি তোমার বান্দা, সে তোমার রাস্তায় মুহাজির অবস্থায় বের হয়েছিল। এখন সে শাহাদাতপ্রাপ্ত হয়েছে, আমি তার জন্য সাক্ষী রইলাম।”
