২৫/১. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩০৯১ - যাকাত মালের হক
জিহাদ ওয়াজিব হওয়া
যাকাত মালের হক: আবু বকর (রাঃ)-এর দৃঢ় অবস্থান
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩০৯১
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩০৯১
أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ الزُّبَيْدِيِّ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: لَمَّا تُوُفِّيَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَاسْتُخْلِفَ أَبُو بَكْرٍ، وَكَفَرَ مَنْ كَفَرَ مِنَ الْعَرَبِ، قَالَ عُمَرُ: يَا أَبَا بَكْرٍ، كَيْفَ تُقَاتِلُ النَّاسَ، وَقَدْ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: " أُمِرْتُ أَنْ أُقَاتِلَ النَّاسَ حَتَّى يَقُولُوا: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، فَمَنْ قَالَ: لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ، عَصَمَ مِنِّي نَفْسَهُ وَمَالَهُ، إِلَّا بِحَقِّهِ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللَّهِ " قَالَ أَبُو بَكْرٍ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: وَاللَّهِ لَأُقَاتِلَنَّ مَنْ فَرَّقَ بَيْنَ الصَّلَاةِ وَالزَّكَاةِ، فَإِنَّ الزَّكَاةَ حَقُّ الْمَالِ، وَاللَّهِ لَوْ مَنَعُونِي عَنَاقًا كَانُوا يُؤَدُّونَهَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَقَاتَلْتُهُمْ عَلَى مَنْعِهَا «فَوَاللَّهِ مَا هُوَ إِلَّا أَنْ رَأَيْتُ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ قَدْ شَرَحَ صَدْرَ أَبِي بَكْرٍ، لِلْقِتَالِ وَعَرَفْتُ أَنَّهُ الْحَقُّ»
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মৃত্যুর পর আবূ বাক্ (রাঃ)-কে খলীফাহ্ নিযুক্ত করা হলে 'আরবের কিছু লোক কাফির হয়ে গেল। তখন 'উমর (রাঃ) তাঁকে বললেন: হে আবূ বাক্স। আপনি এমন লোকেদের বিরুদ্ধে কিভাবে যুদ্ধ করবেন অথচ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: লোকেরা 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' [আল্লাহ ছাড়া প্রকৃত সত্য কোনো ইলাহ নেই] যতক্ষণ না বলবে, ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদিষ্ট হয়েছি। ফলে যে ব্যক্তি 'লা- ইলা-হা ইল্লাল্ল-হ' বলবে, সে আমার পক্ষ হতে তার জান-মালের নিরাপত্তা লাভ করবে। তবে ইসলামী হক ছাড়া। আর তার হিসাব আল্লাহর কাছেই।আবূ বাক্স (রাঃ) বললেন: আল্লাহর কসম! আমি সে ব্যক্তির সাথে জিহাদ করব, যে ব্যক্তি সালাত এবং যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করবে। কেননা, যাকাত মালের হক। আল্লাহর কসম! যদি তারা আমাকে একটি ছাগল ছানাও দিতে অস্বীকার করে, যা তারা রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে দিত, তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করব। আল্লাহর কসম! এতে আমি বুঝলাম যে, আল্লাহ তা'আলা আবূ বাক্-এর অন্তর জিহাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। আরো অনুধাবন করলাম যে, তাঁর ফায়সালাই যথার্থ।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩০৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো যাকাতের হক এবং সালাত-যাকাতের সম্পর্ক। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর মৃত্যুর পর আবু বকর (রাঃ) খলীফা হন। তখন আরবের কিছু লোক কুফরী অবস্থায় ফিরে যায়। উমর (রাঃ) প্রশ্ন করেন, আপনি কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, অথচ নবী (صلى الله عليه وسلم) ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলার পর জান-মালের নিরাপত্তার কথা বলেছেন? আবু বকর (রাঃ) জবাবে বলেন, তিনি অবশ্যই সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবেন, যে সালাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করে। কারণ যাকাত মালের হক। তিনি এমনকি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে যে ছোট ছাগলছানাও দেওয়া হতো, তা অস্বীকার করলে তার বিরুদ্ধেও অবস্থান নেবেন বলে বলেন। পরে উমর (রাঃ) বুঝলেন, আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তই যথার্থ। এই হাদিস যাকাতকে শুধু দান নয়, ইসলামের একটি দাবি হিসেবে তুলে ধরে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সালাত ও যাকাতকে আলাদা করে দেখা ঠিক নয়—এ কথা আবু বকর (রাঃ) বলেছেন।
- যাকাতকে হাদিসে মালের হক বলা হয়েছে।
- খলীফার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাহাবীদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।
- উমর (রাঃ) পরে আবু বকর (রাঃ)-এর সিদ্ধান্তকে যথার্থ বুঝেছেন।
