২৭/৪১. অধ্যায়ঃ
লি'আন করানোর সময় স্বামী-স্ত্রীকে ইমামের নাসীহাত করা
সুনানে নাসাঈ : ৩৪৭৩
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩৪৭৩
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ عَلِيٍّ، وَمُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، قَالَا: حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْمَلِكِ بْنُ أَبِي سُلَيْمَانَ، قَالَ: سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، يَقُولُ: سُئِلْتُ عَنِ الْمُتَلَاعِنَيْنِ فِي إِمَارَةِ ابْنِ الزُّبَيْرِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا؟ فَمَا دَرَيْتُ مَا أَقُولُ، فَقُمْتُ مِنْ مَقَامِي إِلَى مَنْزِلِ ابْنِ عُمَرَ، فَقُلْتُ: يَا أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، الْمُتَلَاعِنَيْنِ أَيُفَرَّقُ بَيْنَهُمَا؟ قَالَ: نَعَمْ، سُبْحَانَ اللَّهِ إِنَّ أَوَّلَ مَنْ سَأَلَ عَنْ ذَلِكَ فُلَانُ بْنُ فُلَانٍ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَرَأَيْتَ - وَلَمْ يَقُلْ عَمْرٌو، أَرَأَيْتَ - الرَّجُلَ مِنَّا يَرَى عَلَى امْرَأَتِهِ فَاحِشَةً إِنْ تَكَلَّمَ فَأَمْرٌ عَظِيمٌ - وَقَالَ عَمْرٌو: أَتَى أَمْرًا عَظِيمًا - وَإِنْ سَكَتَ سَكَتَ عَلَى مِثْلِ ذَلِكَ، فَلَمْ يُجِبْهُ، فَلَمَّا كَانَ بَعْدَ ذَلِكَ أَتَاهُ فَقَالَ: إِنَّ الْأَمْرَ الَّذِي سَأَلْتُكَ ابْتُلِيتُ بِهِ، " فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ هَؤُلَاءِ الْآيَاتِ فِي سُورَةِ النُّورِ {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ} [النور: 6]- حَتَّى بَلَغَ - {وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ} [النور: 9] فَبَدَأَ بِالرَّجُلِ فَوَعَظَهُ وَذَكَّرَهُ وَأَخْبَرَهُ أَنَّ عَذَابَ الدُّنْيَا أَهْوَنُ مِنْ عَذَابِ الْآخِرَةِ "، فَقَالَ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا كَذَبْتُ، «ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَوَعَظَهَا وَذَكَّرَهَا»، فَقَالَتْ: وَالَّذِي بَعَثَكَ بِالْحَقِّ إِنَّهُ لَكَاذِبٌ، «فَبَدَأَ بِالرَّجُلِ فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ، وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ، ثُمَّ ثَنَّى بِالْمَرْأَةِ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ، وَالْخَامِسَةَ أَنَّ غَضَبَ اللَّهِ عَلَيْهَا إِنْ كَانَ مِنَ الصَّادِقِينَ، فَفَرَّقَ بَيْنَهُمَا»
সাঈদ ইবন যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাঈদ ইবনু জুবাইর (রহঃ) বলেন: ইবনু যুবাইর (রাঃ)-এর শাসনকালে আমাকে লি‘আনকারীদের সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলো, লি‘আনের পরে কি ঐ দুজনকে পৃথক করে দেয়া হবে? আমি কি উত্তর দেব বুঝতে পারলাম না। এরপর আমি ইবনু উমর (রাঃ)-এর বাড়িতে গিয়ে তাঁকে প্রশ্ন করলাম: হে আবু আবদুর রহমান! [লি‘আন করার পর] কি দুই লি‘আনকারী (স্বামী-স্ত্রী)-কে পৃথক করে দেয়া হবে?ইবনু উমর (রাঃ) বললেন: হ্যাঁ, সুবহানাল্লাহ! তারপর তিনি বললেন: সর্বপ্রথম এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছে অমুকের পুত্র অমুক। সে বলেছিল: হে আল্লাহর রসূল (ﷺ)! যদি আমাদের কোনো ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে (কাউকে) অশ্লীল কাজ করতে দেখে বলে, তবে তো তা বড় মারাত্মক বিষয়! আর যদি না বলে, তবে এমন গুরুতর বিষয়ে চুপ রইলো। তিনি তাকে কোনো জবাব দিলেন না। সে ব্যক্তি পুনরায় রসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: যে কথা আমি আপনার নিকট জিজ্ঞেস করেছিলাম, তাতে আমি আক্রান্ত হয়েছি।তখন আল্লাহ তা‘আলা সূরা নূরের এ আয়াতসমূহ নাজিল করেন:وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ‘‘আর যারা নিজেদের স্ত্রীদের ওপর অপবাদ দেয়, কিন্তু নিজেদের ছাড়া তাদের অন্য কোন সাক্ষী না থাকে, এ রকম প্রত্যেক লোকের সাক্ষ্য এভাবে হবে যে, সে চারবার আল্লাহর নামে শপথ করে বলবে যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। আর পঞ্চমবারে বলবে যে, সে যদি মিথ্যাবাদী হয় তবে তার ওপর আল্লাহর লা‘নাত পতিত হবে। আর স্ত্রীর শান্তি রহিত হবে যদি সে আল্লাহর নামে চারবার শপথ করে বলে যে, তার স্বামী অবশ্যই মিথ্যাবাদী এবং পঞ্চমবারে বলে যে, তার স্বামী সত্যবাদী হলে তার নিজের ওপর আল্লাহর গযব পতিত হবে’’- (সূরা নূর ২৪: ৬-৯)।বর্ণনাকারী বলেন: রসূলুল্লাহ (ﷺ) প্রথমে ঐ ব্যক্তিকে নাসীহত এবং উপদেশ প্রদান করে বলেন: পরকালের শাস্তি অপেক্ষা ইহকালের শাস্তি খুবই হালকা। সে বলতে লাগল: আল্লাহর কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, আমি মিথ্যা বলছি না। দ্বিতীয় পর্যায়ে তিনি স্ত্রীলোকটিকে নাসীহত করলেন এবং তাকেও স্মরণ করিয়ে দিলেন। স্ত্রীলোকটিও বলতে লাগল: আল্লাহর কসম! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন, এ ব্যক্তি মিথ্যাবাদী। তিনি (ﷺ) পুরুষকে দিয়ে লি‘আন আরম্ভ করলেন। সে আল্লাহর কসম করে চারবার সাক্ষ্য প্রদান করল যে, সে অবশ্যই সত্যবাদী। পঞ্চমবারে সে বলল: যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার ওপর আল্লাহর লা‘নাত। তারপর স্ত্রীলোকটিও আল্লাহর নামে চারবার সাক্ষ্য দিল, নিশ্চয় সে (পুরুষ) মিথ্যাবাদী। পঞ্চমবারে সে বলল: যদি সে (পুরুষ লোকটি) সত্যবাদী হয়, তবে তার স্ত্রীর ওপর আল্লাহর গযব। এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের দুজনকে পৃথক করে দিলেন।
