৩৬/৪৭. অধ্যায়ঃ
শারীরিকভাবে বা কায়িক শ্রমে (ব্যবসায়ে) অংশীদার হওয়া
সুনানে নাসাঈ : ৩৯৩৮
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩৯৩৮
أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ يُونُسَ، عَنْ الزُّهْرِيِّ، فِي عَبْدَيْنِ مُتَفَاوِضَيْنِ كَاتَبَ أَحَدُهُمَا قَالَ: «جَائِزٌ إِذَا كَانَا مُتَفَاوِضَيْنِ يَقْضِي أَحَدُهُمَا عَنِ الْآخَرِ»
যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
যুহরী (রহঃ) বর্ণনা করেন, যখন দুই গোলাম যৌথ মূলধনী ব্যবসা করে, পরে একজন চুক্তিবদ্ধ দাস হয়ে যায়। এটা (যৌথ ব্যবসা) বৈধ হবে যখন একজন অপরজনের পক্ষ হতে (লেনদেন) আদায় করবে।অংশীদারদের অংশীদারিত্ব থেকে কোন একজনের অংশ অবসান করা এ চুক্তিপত্র অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি লিখেছে, এরা সকলে একজন আরেকজনের পক্ষে অঙ্গীকার করল, আপন অন্য সাথীদের জন্য যাদের নাম এই চুক্তিনামায় লেখা রয়েছে। আমরা সকলে স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় যে ব্যবসা, ক্রয়-বিক্রয়, শরীকী লেনদেন, ঋণ, আমানত, মুযারাবাত ধার, কৃষি এবং ভাড়া ইত্যাদি শরীকিভাবে শুরু করেছিলাম, এ সকল নিজের ইচ্ছায় ত্যাগ করলাম। আর যে শরীকী কারবারে এখন পর্যন্ত জড়িত আছি, তা অবসান ঘটালাম। মাল ও ব্যবসায়ের প্রত্যেক বিষয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে বর্ণনা করলাম। আর এর সীমা ও পরিমাণ আলাদা-আলাদাভাবে ঠিক করলাম। আমরা প্রত্যেকে নিজেদের পূর্ণ অংশ নিজের আয়ত্তে নিলাম। এখন আমাদের কারো অন্যের ওপর কোন দাবি-দাওয়া নেই। কেননা প্রত্যেকেই নিজের প্রাপ্য বুঝে পেয়েছে। এখন অমুক, অমুক, অমুক এবং অমুক ব্যক্তি (এ চুক্তিপত্র বাতিলে) অঙ্গীকার ও দস্তখত করল।স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্য সম্পর্ক ছিন্ন করার চুক্তিপত্র আল্লাহ বলেন: “তোমরা তোমাদের স্ত্রীদেরকে মোহর যা দিয়েছ, তার থেকে কোন কিছু গ্রহণ করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়; অবশ্য যদি তাদের উভয়ের এই ভয় হয় যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা ঠিক রাখতে পারবে না। আর তোমরা যদি ভয় কর যে, তারা আল্লাহর সীমারেখা ঠিক রাখতে পারবে না; তবে স্ত্রী যদি কোন কিছুর বিনিময়ে নিজেকে মুক্ত করে নিতে চায়, তাতে তাদের কারো কোন পাপ হবে না”- (সূরা আল বাক্বারাহ ২ : ২২৯)।লিখিত চুক্তিনামা। যা অমুকের কন্যা অমুক অমুকের ছেলে অমুককে স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় লিখে দিয়েছে যে, আমি তোমার স্ত্রী ছিলাম, তুমি আমার সাথে সহবাস করেছ এবং মিলিত হয়েছ। এখন তোমার সাথে আমার থাকা আমি অপছন্দ করি, বরং আমি তোমার থেকে পৃথক হওয়া আশা করি। তুমি আমার কোন ক্ষতি করনি এবং তোমার ওপর আমার যে অধিকার ছিল তা হতে আমাকে বঞ্চিত করনি। যখন আমি আল্লাহর সীমালঙ্ঘনের ভয় করেছি, তখন আমি তোমার নিকট চাচ্ছি যে, তুমি আমার সাথে খুলা‘ কর এবং আমাকে ত্বলাকে বায়িন দিয়ে দাও, আমার ঐ মোহরের বদলে যা তোমার নিকট রয়েছে। আর তা এত দীনার এত মিসক্বাল হবে। আর তা ছাড়া আমি তোমাকে যে এত দীনার দিয়েছি, তারও বিনিময়ে। অতএব তুমি আমার যে অনুরোধ রক্ষা করেছ ঐ মোহরের বদলে যা উপরে লিখিত হয়েছে, তা ছাড়া ঐ দীনারের বদলেও, যা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে; আর তুমি আমাকে এক ত্বলাকে বায়িন দিয়েছ, আর তোমার সামনে আমি তা গ্রহণ করেছি, যখন তুমি আমার সাথে কথা বলেছো আর আমি তোমার কথার প্রতিউত্তর দিয়েছি আমাদের কথা শেষ হওয়ার আগে। যে অর্থের বদলায় তুমি আমাকে খুলা‘ করলে, ঐ সকল অর্থ আমি তোমাকে দিয়ে দিলাম। এখন আমি তোমার থেকে মুক্ত হলাম। আমি এখন নিজের কাজের মালিক, ঐ খুলা‘র কারণে, যা উপরে বর্ণনা করা হলো। এখন আমার ওপর তোমার কোন কর্তৃত্ব নেই, আর কোন দাবিও না এবং তোমার আমাকে ফিরিয়ে নেয়ার ক্ষমতাও নেই। আর আমার মতো স্ত্রীর যা পাওনা থাকে, আমি সবই তোমার থেকে পেয়েছি। অর্থাৎ ভরণপোষণ এবং ‘ইদ্দত ইত্যাদি। এখন হতে আমাদের একজন আরেকজনের কোন অধিকার নেই, দাবিও নেই। যদি কেউ কোন দাবি করি, তবে তা বাতিল বলে পরিগণিত হবে এবং অপরপক্ষ সে দাবি-দাওয়া থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত থাকবে। আমরা উভয়ে গ্রহণ করলাম এবং স্বীকৃতি প্রদান করলাম যে, আমরা উভয়ে একে অন্য হতে দায়মুক্ত। যা চুক্তিপত্রে লেখা হয়েছে সরাসরি আলাপচারিতার মাধ্যমে, এই মাজলিস হতে উঠে যাওয়ার পূর্বেই, যে মাজলিসে আমাদের উভয়ের অঙ্গীকার হলো (তারপর উভয়পক্ষ এতে দস্তখত করবে)।দাসত্ব মুক্তির চুক্তিপত্র আল্লাহ বলেন: “আর তোমাদের মালিকানাধীন দাস-দাসীদের মধ্যে কেউ মুক্তির জন্য লিখিত চুক্তি করতে চাইলে, তাদের সাথে চুক্তিবদ্ধ হও, যদি তোমরা তাদের মধ্যে কল্যাণের সন্ধান পাও”- (সূরা আন নূর ২৪ : ৩৩)।এটা ঐ অঙ্গীকারনামা, যা অমুকের ছেলে অমুক স্বজ্ঞানে, স্বেচ্ছায় তার অমুক গোত্রীয় অমুক নামের দাসের জন্য লিপিবদ্ধ করেছে, যে আজ পর্যন্ত তার মালিকানাধীন ছিল। আমি তোমাকে পুরো তিন হাজার খাঁটি দিরহাম-এর বদলে মুকাতাব করলাম, যার প্রতি দশ দিরহামের ওজন সাত মিসকালের সমান; আর তা ছয় বছরে কিস্তিতে আদায়যোগ্য। প্রথম কিস্তি অমুক বছরের অমুক মাসের চাঁদ দেখার সাথে সাথে দিতে হবে। যদি উল্লেখিত অর্থ বরাবর কিস্তিতে আদায় করা হয়, তবে তুমি মুক্ত। আর তখন তোমার জন্য ঐ সব কথা বৈধ, যা একজন আযাদ ব্যক্তির জন্য বৈধ হয়ে থাকে। আর তোমার জন্যও তা প্রযোজ্য, যা তাদের জন্য প্রযোজ্য। যদি তুমি তা সময়মত আদায় করতে অপারগ হও, তবে এই চুক্তিনামা বাতিল হবে এবং তুমি পুনরায় দাস হিসেবে গণ্য হবে। আর আমি এই পত্রে ঐ সকল শর্তে তোমার সাথে চুক্তিবদ্ধ হলাম, আমার কথা শেষ হওয়ার পূর্বে এবং মাজলিস শেষ হওয়ার পূর্বে এই চুক্তিনামায় লেখা হয়েছে। সে মাজলিসে অমুক এবং অমুক স্বীকৃতি প্রদান করেছে।মুদ্দাব্বার তথা মুনীবের মৃত্যুর পর দাস মুক্তির চুক্তিপত্র এই চুক্তিপত্র অমুকের ছেলে অমুক নিজের অমুক নামের দাস সম্পর্কে লিখছে, যে রুটি বানাত ও রান্নার কাজ করত এবং চুক্তিকালে সে তার মালিকানাধীনে ছিল। আমি সাওয়াবের উদ্দেশে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাকে মুদাব্বার করলাম, এখন তুমি আমার মৃত্যুর পর মুক্ত হবে। তোমার ওপর কারো কোন অধিকার থাকবে না, কিন্তু ওয়ালা আমার এবং আমার ওয়ারিসদের জন্য থাকবে। অমুকের ছেলে অমুক এই চুক্তিপত্রে যা লেখা তা স্বীকার করেছে। চুক্তিপত্রে বর্ণিত বিষয় স্বেচ্ছায়-স্বজ্ঞানে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে তার সামনে পঠিত হওয়ার পর এবং তার পক্ষ হতে এর অনুমোদন স্বরূপ। সে তাদের সামনে স্বীকার করল যে, আমি এই পত্র শুনলাম, বুঝলাম, আর আমি এর উপর আল্লাহকে সাক্ষী রাখছি। আর আল্লাহই সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট। আর ঐ সকল সাক্ষী যারা এখানে উপস্থিত রয়েছে। অমুক বাবুর্চি দাস সুস্থ শরীরে স্বজ্ঞানে এই অঙ্গীকার করছে যে, এই চুক্তিপত্রে যা উল্লেখ করা হয়েছে, তা সবই সঠিক।দাসত্ব মুক্ত হওয়ার চুক্তিপত্র এটা এমন এক চুক্তিপত্র যা অমুকের ছেলে অমুক নিজের সুস্থাবস্থায় স্বজ্ঞানে অমুক বছরের, অমুক মাসে নিজের রুমী গোলামের জন্য লিখছে। যার নাম অমুক, আজ পর্যন্ত সে আমার কর্তৃত্ব ও মালিকানাধীন রয়েছে। আমি আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় এবং নিয়্যাতে তোমাকে নিঃশর্ত পরিপূর্ণভাবে মুক্তি দান করলাম। যা হতে পুনরায় ফিরিয়ে নেয়ার কোন সুযোগ নেই এবং তোমাকে আবার প্রত্যাহার করে নেয়ারও কোন হক আমার নেই। এখন হতে আল্লাহর জন্য এবং আখিরাতের সওয়াবের জন্য তুমি মুক্ত, স্বাধীন। তোমার ওপর আমার এবং অন্য কারো কোন কর্তৃত্ব নেই। কিন্তু ওয়ালা আমার এবং আমার মৃত্যুর পর আমার ওয়ারিসদের জন্য থাকবে।
