১৭/১৮. অধ্যায়ঃ
বৃষ্টি বন্ধের দু'আর সময় ইমামের হাত উঠানো
সুনানে নাসাঈ : ১৫২৮
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ১৫২৮
أَخْبَرَنَا مَحْمُودُ بْنُ خَالِدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو عَمْرٍو الْأَوْزَاعِيُّ، عَنْ إِسْحَقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: أَصَابَ النَّاسُ سَنَةٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَبَيْنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَخْطُبُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، فَقَامَ أَعْرَابِيٌّ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلَكَ الْمَالُ، وَجَاعَ الْعِيَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا، فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ، وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ قَزَعَةً، وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ، مَا وَضَعَهَا حَتَّى ثَارَ سَحَابٌ أَمْثَالُ الْجِبَالِ، ثُمَّ لَمْ يَنْزِلْ عَنْ مِنْبَرِهِ حَتَّى رَأَيْتُ الْمَطَرَ يَتَحَادَرُ عَلَى لِحْيَتِهِ، فَمُطِرْنَا يَوْمَنَا ذَلِكَ وَمِنَ الْغَدِ، وَالَّذِي يَلِيهِ حَتَّى الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى، فَقَامَ ذَلِكَ الْأَعْرَابِيُّ أَوْ قَالَ غَيْرُهُ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، تَهَدَّمَ الْبِنَاءُ، وَغَرِقَ الْمَالُ، فَادْعُ اللَّهَ لَنَا، فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ فَقَالَ: «اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا»، فَمَا يُشِيرُ بِيَدِهِ إِلَى نَاحِيَةٍ مِنَ السَّحَابِ إِلَّا انْفَرَجَتْ حَتَّى صَارَتِ الْمَدِينَةُ مِثْلَ الْجَوْبَةِ، وَسَالَ الْوَادِي وَلَمْ يَجِئْ أَحَدٌ مِنْ نَاحِيَةٍ إِلَّا أَخْبَرَ بِالْجَوْدِ
আনাস ইব্ন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ (ﷺ) জুমু’আর দিন মিম্বারের উপর খুতবা দিচ্ছিলেন। এক গ্রাম্য লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (ঘাস বিচালির সংকট হেতু) গবাদি পশুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে, আর পরিবারবর্গ অনাহারে কষ্ট পাচ্ছে। অতএব আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই হাত উঠালেন। ঐ সময় আমরা আকাশে মেঘের কোন টুকরাও দেখছিলাম না। ঐ সত্তার কসম! যার হাতে আমার প্রাণ, তিনি দুই হাত নামাতেও পারলেন না, ইত্যবসরে মেঘমালা পাহাড়ের ন্যায় বিস্তৃত হয়ে গেল। তিনি মিম্বার থেকে না নামতেই, আমি দেখলাম, বৃষ্টি তাঁর দাড়ি বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় গড়িয়ে পড়ছে। সে দিন, পরবর্তী দিন এবং তার পরের দিন থেকে পরবর্তী জুমু’আ পর্যন্ত আমাদের ওপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো।রাবী বলেন, তখন উক্ত গ্রাম্য ব্যক্তি অথবা অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! (বৃষ্টির আধিক্য হেতু) ঘর বাড়ি তো ধীরে ধীরে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে এবং গবাদি পশুগুলো ডুবে যাচ্ছে। অতএব, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করুন।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর দুই হাত উঠালেন এবং বললেন, "আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়ালা আলাইনা” (হে আল্লাহ! তুমি আমাদের আশেপাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর, আমাদের ওপরে নয়)। তিনি তাঁর হাত দ্বারা মেঘমালার কোন খণ্ডের দিকে ইশারা করতে তা এমনিভাবে ছিন্নভিন্ন হয়ে গেল যাতে মদিনার আকাশ একটি বড় গর্তের মতো দেখাচ্ছিল (অর্থাৎ মদিনার আকাশের চতুষ্পার্শ্বের মেঘমালা এমনিভাবে বিস্তৃত হলো যে, মদিনা বরাবর আকাশ একটি গোলাকার গর্তের ন্যায় মেঘমুক্ত হলো) এবং মাঠে ময়দানে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। আর মদিনার আশেপাশ থেকে যারাই আসছিল, তারাই বৃষ্টির আধিক্যের সংবাদ দিচ্ছিল।
