২০/৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬১৯ - তাহাজ্জুদের দোয়া ও আল্লাহর প্রশংসা
(নিদ্রা থেকে জাগ্রত হওয়ার পর) যে যিক্রের মাধ্যমে ক্বিয়ামুল লায়ল শুরু করা হবে
তাহাজ্জুদের দোয়া: আল্লাহর প্রশংসা ও ক্ষমা প্রার্থনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৬১৯
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৬১৯
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ الْأَحْوَلِ يَعْنِي سُلَيْمَانَ بْنَ أَبِي مُسْلِمٍ، عَنْ طَاوُسٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: كَانَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا قَامَ مِنَ اللَّيْلِ يَتَهَجَّدُ، قَالَ: «اللَّهُمَّ لَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ نُورُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ قَيَّامُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ مَلِكُ السَّمَوَاتِ وَالْأَرْضِ وَمَنْ فِيهِنَّ، وَلَكَ الْحَمْدُ أَنْتَ حَقٌّ، وَوَعْدُكَ حَقٌّ، وَالْجَنَّةُ حَقٌّ، وَالنَّارُ حَقٌّ، وَالسَّاعَةُ حَقٌّ، وَالنَّبِيُّونَ حَقٌّ، وَمُحَمَّدٌ حَقٌّ، لَكَ أَسْلَمْتُ، وَعَلَيْكَ تَوَكَّلْتُ، وَبِكَ آمَنْتُ، ـ ثُمَّ ذَكَرَ قُتَيْبَةُ كَلِمَةً مَعْنَاهَا ـ وَبِكَ خَاصَمْتُ، وَإِلَيْكَ حَاكَمْتُ، اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ وَمَا أَخَّرْتُ وَمَا أَعْلَنْتُ، أَنْتَ الْمُقَدِّمُ وَأَنْتَ الْمُؤَخِّرُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ»
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) যখন রাতে নিদ্রা থেকে জাগতেন, তাহাজ্জুদের সালাত আদায় করতেন। (আর) তিনি বলতেন- "আল্ল-হুম্মা লাকাল হামদু আনতা নূরুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ামান ফীহিন্না ওয়ালাকাল হামদু আনতা কুইয়্যামুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ামান ফীহিন্না ওয়ালাকাল হামদু আনতা মালিকুস্ সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরযি ওয়ামান ফীহিন্না ওয়ালাকাল হামদু আনতা হাক্কুন ওয়া ওয়া' দুকা হাক্কুন ওয়াল জান্নাতু হাক্কুন ওয়ান্না-রু হাক্কুন ওয়াস্সা-'আতু হাক্কুন ওয়ান্ নাবিয়্যূনা হাক্কুন ওয়া মুহাম্মাদুন হাক্কুন লাকা আসলামতু ওয়া 'আলায়কা তাওয়াক্কালতু ওয়াবিকা আ-মানতু।"(হে আল্লাহ! তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। আকাশমণ্ডলী, পৃথিবী এবং এ দু'য়ের মধ্যে যা কিছু আছে তুমি তার নূর [জ্যোতি]। তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। তুমি আকাশসমূহ, পৃথিবী এবং এ দু'য়ের মধ্যে যা কিছু আছে সব কিছুর স্রষ্টা সমস্ত প্রশংসা তোমার জন্যই। তুমি আকাশসমূহ পৃথিবী এবং এ দু'য়ের মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছুর মালিক। তোমার জন্যই সকল প্রশংসা। তুমিই সত্য। তোমার প্রতিশ্রুতি [ওয়া'দা] সত্য, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য, কেয়ামত সত্য, নবীগণ সত্য এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) সত্য। আমি তোমার প্রতি আত্মসমর্পণ করেছি। তোমার ওপর ভরসা করেছি এবং তোমার প্রতি ঈমান এনেছি।)অতঃপর কুতায়বাহ্ এমন শব্দ উল্লেখ করেছেন, যার অর্থ হলো- “ওয়াবিকা খা-সমতু, ওয়া ইলায়কা হা-কামতু, ইগফিরলী মা- কুদ্দামতু ওয়ামা- আখরতু ওয়ামা-আ'লানতু, আনতাল মুক্বদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু, লা- ইলা-হা ইল্লা আনতা, ওয়ালা- হাওলা ওয়ালা-ক্যুওয়াতা ইল্লা- বিল্লা-হ” (আর তোমার উদ্দেশ্য আমি ঝগড়া করি আর তোমার নিকট আমি বিচার চাই। তুমি আমাকে ক্ষমা কর যা আমি আগে [পাপ] করেছি, যা আমি পরে পাপ করব এবং যা আমি প্রকাশ্যে পাপ করেছি। তুমিই সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ। তুমি ছাড়া কেউ সত্য উপাস্য নেই। আর আল্লাহর তাওফীক্ব ছাড়া পাপ থেকে ফেরার ও সৎকাজ [নড়া-সরা] করার সাধ্য নেই।)।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৬১৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবীজি (صلى الله عليه وسلم) রাতে জেগে তাহাজ্জুদ শুরু করলে যে দোয়া পড়তেন, তার বর্ণনা এসেছে। দোয়ায় তিনি আল্লাহর প্রশংসা করেন, আল্লাহকে আকাশ-পৃথিবীর নূর, কিয়ামকারী ও মালিক হিসেবে স্বীকার করেন। এরপর আল্লাহর সত্য হওয়া, তাঁর ওয়াদা, জান্নাত, জাহান্নাম, কিয়ামত, নবীগণ ও মুহাম্মাদ (صلى الله عليه وسلم)-এর সত্য হওয়া উল্লেখ করেন। তিনি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ, ভরসা ও ঈমানের কথা বলেন। শেষে নিজের আগের-পরে, গোপন-প্রকাশ্য ভুলের জন্য ক্ষমা চান। হাদিসটি তাহাজ্জুদের দোয়ায় তাওহীদ, ঈমান, ভরসা ও ইস্তিগফারের গভীর শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- তাহাজ্জুদের দোয়া আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু হতে পারে।
- জান্নাত, জাহান্নাম, কিয়ামত ও নবীদের সত্য বলে বিশ্বাস করা ঈমানের অংশ।
- আল্লাহর ওপর ভরসা ও আত্মসমর্পণ দোয়ার বড় শিক্ষা।
- নিজের প্রকাশ্য ও গোপন ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত।
