২৪/৫২. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৪২ - ইহরাম, তামাত্তু ও হাদীর শিক্ষা
মুহরিম ব্যক্তির সুনির্দিষ্ট নিয়্যাত ব্যতীত হাজ্জ আদায় করা
ইহরাম ও হাদী: আবূ মূসা (রাঃ)-এর হজ্জের বর্ণনা
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৭৪২
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৭৪২
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْأَعْلَى، قَالَ: حَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ: حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ: أَخْبَرَنِي قَيْسُ بْنُ مُسْلِمٍ، قَالَ: سَمِعْتُ طَارِقَ بْنَ شِهَابٍ، قَالَ: قَالَ أَبُو مُوسَى: أَقْبَلْتُ مِنَ الْيَمَنِ وَالنَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مُنِيخٌ بِالْبَطْحَاءِ حَيْثُ حَجَّ، فَقَالَ: «أَحَجَجْتَ؟» قُلْتُ: نَعَمْ، قَالَ: «كَيْفَ قُلْتَ؟» قَالَ: قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلَالٍ كَإِهْلَالِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «فَطُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، وَأَحِلَّ»فَفَعَلْتُ ثُمَّ أَتَيْتُ امْرَأَةً فَفَلَتْ رَأْسِي، فَجَعَلْتُ أُفْتِي النَّاسَ بِذَلِكَ، حَتَّى كَانَ فِي خِلَافَةِ عُمَرَ، فَقَالَ لَهُ رَجُلٌ: يَا أَبَا مُوسَى رُوَيْدَكَ بَعْضَ فُتْيَاكَ فَإِنَّكَ لَا تَدْرِي مَا أَحْدَثَ أَمِيرُ الْمُؤْمِنِينَ فِي النُّسُكِ بَعْدَكَ، قَالَ أَبُو مُوسَى: يَا أَيُّهَا النَّاسُ مَنْ كُنَّا أَفْتَيْنَاهُ فَلْيَتَّئِدْ، فَإِنَّ أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ قَادِمٌ عَلَيْكُمْ، فَأْتَمُّوا بِهِ، وَقَالَ عُمَرُ: «إِنْ نَأْخُذْ بِكِتَابِ اللَّهِ فَإِنَّهُ يَأْمُرُنَا بِالتَّمَامِ، وَإِنْ نَأْخُذْ بِسُنَّةِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَإِنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، لَمْ يَحِلَّ حَتَّى بَلَغَ الْهَدْيُ مَحِلَّهُ»
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ত্বারিক্ব ইবনু শিহাব (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবূ মূসা (রাঃ) বলেছেন: আমি ইয়ামান থেকে আসলাম। তখন নাবী (ﷺ) বাত্বহায় ছিলেন। যখন তিনি (ﷺ) হজ আদায় করেন তখন আমাকে বলেন: তুমি কি হজ [-এর ইহ্রাম] করেছ? আমি বললাম: হ্যাঁ। তিনি বললেন: তুমি কিরূপ বলেছ [নিয়্যাত করেছ? তিনি বলেন, আমি বললাম : “আমি নাবী (ﷺ)-এর ইহ্রামের ন্যায় ইহ্রাম করলাম। তিনি বললেন: তাহলে বায়তুল্লাহ্ তাওয়াফ কর এবং সফা মারওয়ার সা'ঈ করে [ইহ্রাম ভঙ্গ করে] হালাল হয়ে যাও। আমি তা-ই করলাম। তারপর আমি এক মহিলার নিকট এলাম, সে আমার মাথা বেছে দিল [উকুন বের করল]।এরপর আমি লোকেদের এরূপ ফাতাওয়া দিতে লাগলাম। এমনকি 'উমর (রাঃ)-এর খিলাফাতকালেও। তখন তাঁকে জনৈক ব্যক্তি বলল: হে আবূ মূসা! এরূপ ফাতাওয়া দেয়া থেকে আপনি বিরত থাকুন। কেননা আপনি জানেন না আপনার পরে আমীরুল মু'মিনীন হজের আত্কামে কি নতুন বিধান দিয়েছেন। আবূ মূসা (রাঃ) বললেন: হে লোকসকল! আমি যাকে ফাতাওয়া দিয়েছি, সে যেন অপেক্ষা করে। কেননা আমীরুল মু'মিনীন তোমাদের কাছে আসছেন। তোমরা তাঁর অনুসরণ করবে।'উমর (রাঃ) বললেন: আমরা যদি আল্লাহর কিতাব অনুসারে কাজ করতে চাই তবে তিনি তো আমাদেরকে হজ ও 'উমরাহ্ স্বতন্ত্ররূপে পূর্ণ করতে আদেশ দিয়েছেন। যদি আমরা নাবী (ﷺ)-এর সুন্নাত অনুযায়ী কাজ করি তাহলে নাবী (ﷺ) ইহ্রাম ভঙ্গ করেননি, যতক্ষণ না কুরবানীর পশু যাবাহের স্থানে পৌঁছে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৪২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ মূসা (রাঃ)-এর ইয়ামান থেকে আসা, নবী صلى الله عليه وسلم-এর কাছে হজ্জের ইহরাম সম্পর্কে জবাব দেওয়া এবং তারপর তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করার নির্দেশ এসেছে। তিনি বলেছিলেন, তিনি নবী صلى الله عليه وسلم-এর ইহরামের মতো ইহরাম করেছেন। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁকে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া সাঈ এবং পরে হালাল হওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি লোকদের এভাবে ফাতওয়া দিতেন। উমর (রাঃ)-এর সময় তাঁকে সতর্ক করা হলে তিনি মানুষকে থামতে বলেন এবং আমীরুল মুমিনীনের অনুসরণ করতে বলেন। উমর (রাঃ) আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী হজ্জ-উমরা পূর্ণ করার কথা এবং নবী صلى الله عليه وسلم-এর সুন্নাহ অনুযায়ী হাদী যবেহের স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত ইহরাম না খোলার বিষয় উল্লেখ করেন। হজ্জের ইহরাম, তামাত্তু হজ্জ ও হাদী সম্পর্কে এই হাদিস তাই গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইহরামের নিয়ত স্পষ্ট করে জানা দরকার।
- তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ হজ্জ-উমরার গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
- ফাতওয়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন তথ্য এলে সতর্ক হওয়া দরকার।
- নেতৃত্বের অধীনে শরিয়তের বিষয়ে শৃঙ্খলা রাখা জরুরি।
