৩৯/১. অধ্যায়ঃ

হাদিস ৪১৪৮

সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৪১৪৮

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ يَعْنِي ابْنَ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ عِكْرِمَةَ بْنِ خَالِدٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ أَوْسِ بْنِ الْحَدَثَانِ قَالَ: جَاءَ الْعَبَّاسُ وَعَلِيٌّ إِلَى عُمَرَ يَخْتَصِمَانِ فَقَالَ الْعَبَّاسُ: اقْضِ بَيْنِي وَبَيْنَ هَذَا، فَقَالَ النَّاسُ: افْصِلْ بَيْنَهُمَا، فَقَالَ عُمَرُ: لَا أَفْصِلُ بَيْنَهُمَا، قَدْ عَلِمَا أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «لَا نُورَثُ مَا تَرَكْنَا صَدَقَةٌ» قَالَ: فَقَالَ الزُّهْرِيُّ: " وَلِيَهَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخَذَ مِنْهَا قُوتَ أَهْلِهِ، وَجَعَلَ سَائِرَهُ سَبِيلَهُ سَبِيلَ الْمَالِ، ثُمَّ وَلِيَهَا أَبُو بَكْرٍ بَعْدَهُ، ثُمَّ وُلِّيتُهَا بَعْدَ أَبِي بَكْرٍ فَصَنَعْتَ فِيهَا الَّذِي كَانَ يَصْنَعُ، ثُمَّ أَتَيَانِي فَسَأَلَانِي أَنْ أَدْفَعَهَا إِلَيْهِمَا عَلَى أَنْ يَلِيَاهَا بِالَّذِي وَلِيَهَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالَّذِي وَلِيَهَا بِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَالَّذِي وُلِّيتُهَا بِهِ، فَدَفَعْتُهَا إِلَيْهِمَا وَأَخَذْتُ عَلَى ذَلِكَ عُهُودَهُمَا، ثُمَّ أَتَيَانِي يَقُولُ هَذَا: اقْسِمْ لِي بِنَصِيبِي مِنَ ابْنِ أَخِي، وَيَقُولُ هَذَا: اقْسِمْ لِي بِنَصِيبِي مِنَ امْرَأَتِي، وَإِنْ شَاءَا أَنْ أَدْفَعَهَا إِلَيْهِمَا عَلَى أَنْ يَلِيَاهَا بِالَّذِي وَلِيَهَا بِهِ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَالَّذِي وَلِيَهَا بِهِ أَبُو بَكْرٍ، وَالَّذِي وُلِّيتُهَا بِهِ دَفَعْتُهَا إِلَيْهِمَا، وَإِنْ أَبَيَا كُفِيَا ذَلِكَ "، ثُمَّ قَالَ: {وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ} [الأنفال: 41] هَذَا لِهَؤُلَاءِ، {إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ} [التوبة: 60] هَذِهِ لِهَؤُلَاءِ، {وَمَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْهُمْ فَمَا أَوْجَفْتُمْ عَلَيْهِ مِنْ خَيْلٍ وَلَا رِكَابٍ} [الحشر: 6]، قَالَ الزُّهْرِيُّ: «هَذِهِ لِرَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَاصَّةً قُرًى عَرَبِيَّةً فَدْكُ كَذَا وَكَذَا»، فَ {مَا أَفَاءَ اللَّهُ عَلَى رَسُولِهِ مِنْ أَهْلِ الْقُرَى فَلِلَّهِ، وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ} [الحشر: 7] وَ {لِلْفُقَرَاءِ الْمُهَاجِرِينَ الَّذِينَ أُخْرِجُوا مِنْ دِيَارِهِمْ وَأَمْوَالِهِمْ} [الحشر: 8] {وَالَّذِينَ تَبَوَّءُوا} الدَّارَ وَالْإِيمَانَ مِنْ قَبْلِهِمْ {وَالَّذِينَ جَاءُوا مِنْ بَعْدِهِمْ} " فَاسْتَوْعَبَتْ هَذِهِ الْآيَةُ النَّاسَ، فَلَمْ يَبْقَ أَحَدٌ مِنَ الْمُسْلِمِينَ إِلَّا لَهُ فِي هَذَا الْمَالِ حَقٌّ، أَوْ قَالَ: حَظٌّ، إِلَّا بَعْضَ مَنْ تَمْلِكُونَ مِنْ أَرِقَّائِكُمْ، وَلَئِنْ عِشْتُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ لَيَأْتِيَنَّ عَلَى كُلِّ مُسْلِمٍ حَقُّهُ، أَوْ قَالَ: حَظُّهُ "

মালিক ইব্ন আউস ইব্ন হাদাসান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আব্বাস এবং আলী (রাঃ) বিবদমান অবস্থায় উমর (রাঃ)-এর কাছে আসেন। এরপর আব্বাস (রাঃ) বলেন: আমার এবং এর মধ্যে ফায়সালা করে দিন। লোকেরাও বললেন: এদের মধ্যে বণ্টন করে দিন। তখন উমর (রাঃ) বললেন: আমি তাদের মধ্যে বণ্টন করব না। তারা নিশ্চয় অবগত আছেন যে, রসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: কেউ আমাদের ওয়ারিস হয় না। আমরা যা রেখে যাই, তা সদাকা।রাবী বলেন: এরপর যুহরী বলেন যে, উমর (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (ﷺ) সে সম্পদের মুতাওয়াল্লী ছিলেন। তিনি তা হতে তার পরিবারের খরচ পরিমাণমত গ্রহণ করতেন এবং অবশিষ্ট যা থাকতো তা আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করতেন। তাঁর পরে এই মালের মুতাওয়াল্লী ছিলেন আবু বাকর (রাঃ)। আবু বাকরের পর এখন আমি এর মুতাওয়াল্লী হয়েছি। আমিও ঐরূপই করেছি, যেরূপ তিনি করতেন। এরপর এরা দু’জন আমার নিকট এসে এই মাল তাদেরকে দেয়ার জন্য বললেন, যেন তাঁরা এর মুতাওয়াল্লী হতে পারেন, যেরূপ রসূলুল্লাহ (ﷺ) ও আবু বাকর (রাঃ) মুতাওয়াল্লী ছিলেন, তখন আমি এর মুতাওয়াল্লী হয়েছিলাম। অতএব তখন আমি ঐ মাল তাদেরকে দিয়ে দিলাম এবং তাদের হতে অঙ্গীকার গ্রহণ করলাম।পরে তারা উভয়ে আবার আসলো। একজন বললেন: আমার ভাতিজার থেকে আমার অংশ ভাগ করে দিন। অপরজন বললেন, আমার স্ত্রীর পক্ষ হতে আমার প্রাপ্য অংশ আমাকে ভাগ করে দিন। তিনি বললেন: যদি তারা সম্মত হয় তবে আমি এই মাল তাদেরকে দিয়ে দেব এই শর্তে যে, তারা সম্পদের ব্যাপারে ঐরূপ কাজ করবেন যেরূপ কাজ রসূলুল্লাহ (ﷺ) এবং আবু বাকর করেছেন ও তারপর আমি করেছি। যদি তারা দু’জন এতে সম্মত না হয় তবে এই সম্পদ আমি আমার তত্ত্বাবধানে রাখব।এরপর উমর (রাঃ) বললেন: জেনে রাখ, যুদ্ধে যা তোমার লাভ কর, তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ, রসূলের (ﷺ) এবং নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতিমদের, মিসকিনদের ও মুসাফিরদের।আল্লাহ আরো বলেন: “আর সদাকা ফকীর, মিসকিন, তৎসংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের এবং যাদের হৃদয় ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করা হয় তাদের জন্য, দাস মুক্তির জন্য, ঋণগ্রস্ত ও আল্লাহর পথে জিহাদকারীদের জন্য এবং মুসাফিরদের জন্য”- (সূরা আত-তাওবা ৯: ৬০)।আল্লাহ আরো বলেন : “যে মাল আল্লাহ তাঁর রসূলকে (ﷺ) দান করেছেন। তোমরা তাতে নিজেদের ঘোড়া বা উট হাঁকাওনি”- (সূরা আল-হাশর ৫৯: ৬)।যুহরী (রহঃ) বলেন: এই মাল রসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্য নির্দিষ্ট; আর তা হলো কয়েকটি আরব্য গ্রাম- যা ফাদাক নামে পরিচিত এবং অন্যান্য গ্রাম।এই মালের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন: “জনপদবাসীদের থেকে যে মাল আল্লাহ তাঁর রসূলকে (ﷺ) দান করলেন, তা আল্লাহ এবং তার রসূলের (ﷺ), রসূলের স্বজনদের, ইয়াতিম, মিসকিন, মুসাফিরদের”- (সূরা আল-হাশর ৫৯: ৭)।আল্লাহ আরো বলেন: "এ সম্পদ ঐ অভাবগ্রস্ত মুহাজিরদের জন্য, যাদেরকে তাদের ঘরবাড়ি ও সম্পত্তি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে” (সূরা আল-হাশর ৫৯: ৮)।মহান আল্লাহ আরো বলেন: “এই সম্পদে ঐ সকল লোকের হক রয়েছে, যারা মুহাজিরদের আগমনের পূর্বে এই নগরীতে এসে বসবাস করেছে এবং ঈমান এনেছে” (সূরা আল-হাশর ৫৯: ৯)। "আর ঐ সকল লোকেরও হক রয়েছে, যারা এদের পরে আগমন করেছে” (সূরা আল-হাশর ৫৯: ১০)। এই আয়াতে প্রত্যেক মুসলিম শামিল রয়েছে, কোন মুসলিমই বাদ যায়নি; বরং প্রত্যেকেরই এ মালে হক রয়েছে। তবে তোমাদের মাঝে কিছু গোলাম রয়েছে, যাদের এ মালে হক নেই। এরপর উমর (রাঃ) বলেন: যদি আমি জীবিত থাকি, তবে ইনশাআল্লাহ প্রত্যেক মুসলিমের কাছে তার হক পৌঁছে যাবে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন