৩৯/১. অধ্যায়ঃ
হাদিস ৪১৪৭
সুনানে নাসাঈ : ৪১৪৭
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৪১৪৭
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى بْنِ الْحَارِثِ قَالَ: أَنْبَأَنَا مَحْبُوبٌ قَالَ: أَنْبَأَنَا أَبُو إِسْحَاقَ، عَنْ شَرِيكٍ، عَنْ خُصَيْفٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ قَالَ: الْخُمُسُ الَّذِي لِلَّهِ وَلِلرَّسُولِ كَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَرَابَتِهِ، لَا يَأْكُلُونَ مِنَ الصَّدَقَةِ شَيْئًا، «فَكَانَ لِلنَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خُمُسُ الْخُمُسِ، وَلِذِي قَرَابَتِهِ خُمُسُ الْخُمُسِ، وَلِلْيَتَامَى مِثْلُ ذَلِكَ، وَلِلْمَسَاكِينِ مِثْلُ ذَلِكَ، وَلِابْنِ السَّبِيلِ مِثْلُ ذَلِكَ» قَالَ أَبُو عَبْدِ الرَّحْمَنِ: " قَالَ اللَّهُ جَلَّ ثَنَاؤُهُ: وَاعْلَمُوا أَنَّمَا غَنِمْتُمْ مِنْ شَيْءٍ فَأَنَّ لِلَّهِ خُمُسَهُ وَلِلرَّسُولِ وَلِذِي الْقُرْبَى وَالْيَتَامَى وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ وَقَوْلُهُ عَزَّ وَجَلَّ: {لِلَّهِ} [الأنفال: 41] ابْتِدَاءُ كَلَامٍ لِأَنَّ الْأَشْيَاءَ كُلَّهَا لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَلَعَلَّهُ إِنَّمَا اسْتَفْتَحَ الْكَلَامَ فِي الْفَيْءِ وَالْخُمُسِ بِذِكْرِ نَفْسِهِ لِأَنَّهَا أَشْرَفُ الْكَسْبِ، وَلَمْ يَنْسِبِ الصَّدَقَةَ إِلَى نَفْسِهِ عَزَّ وَجَلَّ لِأَنَّهَا أَوْسَاخُ النَّاسِ وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ، وَقَدْ قِيلَ يُؤْخَذُ مِنَ الْغَنِيمَةِ شَيْءٌ فَيُجْعَلُ فِي الْكَعْبَةِ وَهُوَ السَّهْمُ الَّذِي لِلَّهِ عَزَّ وَجَلَّ، وَسَهْمُ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى الْإِمَامِ يَشْتَرِي الْكُرَاعَ مِنْهُ وَالسِّلَاحَ، وَيُعْطِي مِنْهُ مَنْ رَأَى مِمَّنْ رَأَى فِيهِ غَنَاءً وَمَنْفَعَةً لِأَهْلِ الْإِسْلَامِ، وَمِنْ أَهْلِ الْحَدِيثِ وَالْعِلْمِ وَالْفِقْهِ وَالْقُرْآنِ، وَسَهْمٌ لِذِي الْقُرْبَى وَهُمْ بَنُو هَاشِمٍ وَبَنُو الْمُطَّلِبِ بَيْنَهُمُ الْغَنِيُّ مِنْهُمْ وَالْفَقِيرُ، وَقَدْ قِيلَ إِنَّهُ لِلْفَقِيرِ مِنْهُمْ دُونَ الْغَنِيِّ كَالْيَتَامَى وَابْنِ السَّبِيلِ وَهُوَ أَشْبَهُ الْقَوْلَيْنِ بِالصَّوَابِ عِنْدِي وَاللَّهُ تَعَالَى أَعْلَمُ، وَالصَّغِيرُ وَالْكَبِيرُ وَالذَّكَرُ وَالْأُنْثَى سَوَاءٌ، لِأَنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ جَعَلَ ذَلِكَ لَهُمْ، وَقَسَّمَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيهِمْ، وَلَيْسَ فِي الْحَدِيثِ أَنَّهُ فَضَّلَ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ، وَلَا خِلَافَ نَعْلَمُهُ بَيْنَ الْعُلَمَاءِ فِي رَجُلٍ لَوْ أَوْصَى بِثُلُثِهِ لِبَنِي فُلَانٍ أَنَّهُ بَيْنَهُمْ وَأَنَّ الذَّكَرَ وَالْأُنْثَى فِيهِ سَوَاءٌ إِذَا كَانُوا يُحْصَوْنَ، فَهَكَذَا كُلُّ شَيْءٍ صُيِّرَ لِبَنِي فُلَانٍ أَنَّهُ بَيْنَهُمْ بِالسَّوِيَّةِ إِلَّا أَنْ يُبَيِّنَ ذَلِكَ الْآمِرُ بِهِ وَاللَّهُ وَلِيُّ التَّوْفِيقِ، وَسَهْمٌ لِلْيَتَامَى مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَسَهْمٌ لِلْمَسَاكِينِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَسَهْمٌ لِابْنِ السَّبِيلِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ، وَلَا يُعْطَى أَحَدٌ مِنْهُمْ سَهْمُ مِسْكِينٍ وَسَهْمُ ابْنِ السَّبِيلِ، وَقِيلَ لَهُ: خُذْ أَيَّهُمَا شِئْتَ، وَالْأَرْبَعَةُ أَخْمَاسٍ يَقْسِمُهَا الْإِمَامُ بَيْنَ مَنْ حَضَرَ الْقِتَالَ مِنَ الْمُسْلِمِينَ الْبَالِغِينَ "---[حكم الألباني] ضعيف الإسناد مرسل
মুজাহিদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খুমুস বা এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের জন্য, তা নবী (ﷺ) এবং তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য, কারণ তাঁদের জন্য সদকা বৈধ ছিল না। নবী (ﷺ) ঐ খুমুসের এক-পঞ্চমাংশ গ্রহণ করতেন আর তাঁর নিকটাত্মীয়দের জন্য ছিল খুমুসের এক-পঞ্চমাংশ। আর ইয়াতিমদের জন্যও অনুরূপ ছিল। মিসকীনদের জন্যও অনুরূপ ছিল। আর মুসাফিরদের জন্য অনুরূপ অংশ ছিল। আবু আবদুর রহমান [ইমাম নাসাঈ (রহঃ)] বলেন, সুউচ্চ প্রশংসার অধিকারী আল্লাহ বলেন : "তোমরা জেনে রাখো যে, যুদ্ধে তোমরা যা লাভ করো তার এক-পঞ্চমাংশ আল্লাহর, রাসূলের, নিকটাত্মীয়দের, ইয়াতিমদের, মিসকীনদের এবং মুসাফিরদের...।" (সূরা আল আনফাল ৮ : ৪১) ‘আল্লাহর জন্য’ এটা বাক্যের সূচনাবিশেষ। কারণ সবকিছুই আল্লাহর জন্য। এবং ‘ফাই’ ও ‘খুমুস’-এর ক্ষেত্রে তিনি (আল্লাহ) প্রথমে নিজের নাম নিয়ে শুরু করেছেন। এর কারণ এই যে, এ দুটো উত্তম অর্জন। আর সদকার ক্ষেত্রে নিজের নাম নিয়ে আরম্ভ করেননি। কেননা সদকা মানুষের মালের ময়লাস্বরূপ।কেউ কেউ বলেছেন: গনীমাতের মালের কিছু অংশ নিয়ে কা‘বার মধ্যে রেখে দেয়া হবে আর সেটাই হবে আল্লাহর অংশ। নবী (ﷺ) এর অংশ হবে ইমাম বা শাসকের জন্য। তিনি তা দিয়ে ঘোড়া, অস্ত্র-শস্ত্র ক্রয় করবেন, যা ইচ্ছা করবেন, দেবেন ও খরচ করবেন মুসলিমদের উপকারার্থে। আর আহলে হাদিস, আহলে ইলম এবং ফিকহবিদ ও কুরআন চর্চাকারীদের জন্য। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর আত্মীয়দের অংশ বনি হাশিম ও বনি মুত্তালিব পাবেন; চাই তাঁরা ধনী বা গরিব হোক। কেউ কেউ বলেন: তাদের মধ্যে যারা গরিব তারাই পাবে, ধনীরা পাবে না। যেমন ইয়াতিম ও মুসাফিরদের মধ্যে যারা দরিদ্র তারাই পাবে। এ মতই আমার কাছে অধিক সঠিক বলে মনে হয়। আল্লাহ তাআলাই সর্বজ্ঞ। কিন্তু পাওয়ার ক্ষেত্রে ছোট-বড়, নারী-পুরুষ সবাই সমান। কেননা আল্লাহ তা'আলা এই সম্পদ তাদের দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি (ﷺ) তাদের মধ্যে বণ্টন করেছেন। আর হাদিসে উল্লেখ নেই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কাউকে বেশি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন এবং কাউকে কম। এই মাসআলায় ইমামদের কোন মতভেদ আছে বলে আমাদের জানা নেই যে, যদি কেউ কারো সন্তানদের জন্য নিজের এক-তৃতীয়াংশ মাল প্রদানের ওয়াসিয়্যাত করে, তাহলে সকল সন্তানই সমান হারে পাবে; চাই তারা ছেলে হোক বা মেয়ে- যদি তাদের পরিসংখ্যান জানা থাকে। এমনিভাবে কোন জিনিস যদি কারো সন্তানদের দেয়ার কথা বলা হয় তবে ঐ জিনিস সকল সন্তানই সমান হারে পাবে; চাই তারা ছেলে হোক বা মেয়ে-যদি তাদের পরিসংখ্যান জানা থাকে। অবশ্য যে ব্যক্তি দেয়ার নির্দেশ দেয়, সে যদি পরিষ্কার বলে দেয় যে, অমুক এতটুকু তাহলে তার কথানুযায়ী দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে। আর আল্লাহ হলেন তাওফিক দানকারী।আর এক অংশ মুসলিমদের মাঝে যারা ইয়াতিম তারা পাবে। এক অংশ মুসলিম মিসকীনগণ এবং এক অংশ মুসাফিরগণ পাবে। আর কাউকে মিসকীনের অংশ ও মুসাফিরের অংশ-এই দুই অংশ একত্রে দেয়া হবে না; বরং তাকে বলা হবে তুমি হয় মিসকীনের অংশ নাও অথবা মুসাফিরের অংশ নাও। গনীমাতের মালের অবশিষ্ট চারভাগ ইমাম ঐ মুসলিমদের দেবেন, যারা বালেগ এবং যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।
