৪৮/৬. অধ্যায়ঃ
ঈমান ও ইসলামের বৈশিষ্ট্যাবলী
সুনানে নাসাঈ : ৪৯৯১
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৪৯৯১
أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، عَنْ جَرِيرٍ، عَنْ أَبِي فَرْوَةَ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، وَأَبِي ذَرٍّ، قَالَا: كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَجْلِسُ بَيْنَ ظَهْرَانَيْ أَصْحَابِهِ، فَيَجِيءُ الْغَرِيبُ فَلَا يَدْرِي أَيُّهُمْ هُوَ حَتَّى يَسْأَلَ، فَطَلَبْنَا إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَنْ نَجْعَلَ لَهُ مَجْلِسًا يَعْرِفُهُ الْغَرِيبُ إِذَا أَتَاهُ، فَبَنَيْنَا لَهُ دُكَّانًا مِنْ طِينٍ، كَانَ يَجْلِسُ عَلَيْهِ، وَإِنَّا لَجُلُوسٌ وَرَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي مَجْلِسِهِ، إِذْ أَقْبَلَ رَجُلٌ أَحْسَنُ النَّاسِ وَجْهًا، وَأَطْيَبُ النَّاسِ رِيحًا، كَأَنَّ ثِيَابَهُ لَمْ يَمَسَّهَا دَنَسٌ، حَتَّى سَلَّمَ فِي طَرَفِ الْبِسَاطِ فَقَالَ: السَّلَامُ عَلَيْكَ يَا مُحَمَّدُ، فَرَدَّ عَلَيْهِ السَّلَامُ، قَالَ: أَدْنُو يَا مُحَمَّدُ، قَالَ: «ادْنُهْ» فَمَا زَالَ يَقُولُ: أَدْنُو مِرَارًا، وَيَقُولُ لَهُ: «ادْنُ» حَتَّى وَضَعَ يَدَهُ عَلَى رُكْبَتَيْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَا الْإِسْلَامُ؟ قَالَ: «الْإِسْلَامُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ، وَلَا تُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا، وَتُقِيمَ الصَّلَاةَ، وَتُؤْتِيَ الزَّكَاةَ، وَتَحُجَّ الْبَيْتَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ» قَالَ: إِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ أَسْلَمْتُ؟ قَالَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. فَلَمَّا سَمِعْنَا قَوْلَ الرَّجُلِ صَدَقْتَ أَنْكَرْنَاهُ، قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَا الْإِيمَانُ؟ قَالَ: «الْإِيمَانُ بِاللَّهِ، وَمَلَائِكَتِهِ، وَالْكِتَابِ، وَالنَّبِيِّينَ، وَتُؤْمِنُ بِالْقَدَرِ» قَالَ: فَإِذَا فَعَلْتُ ذَلِكَ فَقَدْ آمَنْتُ؟ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «نَعَمْ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَا الْإِحْسَانُ؟ قَالَ: «أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ» قَالَ: صَدَقْتَ. قَالَ: يَا مُحَمَّدُ، أَخْبِرْنِي مَتَى السَّاعَةُ؟ قَالَ: فَنَكَسَ فَلَمْ يُجِبْهُ شَيْئًا، ثُمَّ أَعَادَ، فَلَمْ يُجِبْهُ شَيْئًا، ثُمَّ أَعَادَ فَلَمْ يُجِبْهُ شَيْئًا، وَرَفَعَ رَأْسَهُ فَقَالَ: " مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَلَكِنْ لَهَا عَلَامَاتٌ تُعْرَفُ بِهَا، إِذَا رَأَيْتَ الرِّعَاءَ الْبُهُمَ يَتَطَاوَلُونَ فِي الْبُنْيَانِ، وَرَأَيْتَ الْحُفَاةَ الْعُرَاةَ مُلُوكَ الْأَرْضِ، وَرَأَيْتَ الْمَرْأَةَ تَلِدُ رَبَّهَا، خَمْسٌ لَا يَعْلَمُهَا إِلَّا اللَّهُ، {إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ} [لقمان: 34] إِلَى قَوْلِهِ: {إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ} [لقمان: 34] ثُمَّ قَالَ: «لَا وَالَّذِي بَعَثَ مُحَمَّدًا بِالْحَقِّ هُدًى وَبَشِيرًا، مَا كُنْتُ بِأَعْلَمَ بِهِ مِنْ رَجُلٍ مِنْكُمْ، وَإِنَّهُ لَجِبْرِيلُ عَلَيْهِ السَّلَامُ نَزَلَ فِي صُورَةِ دِحْيَةَ الْكَلْبِيِّ»
আবু হুরায়রা এবং আবু যর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর সাহাবি কিরামের মধ্যে বসতেন; ফলে নবাগত কোনো লোক এসে জিজ্ঞেস না করা পর্যন্ত তাঁকে চিনতে পারত না যে, তিনি (ﷺ) কোন ব্যক্তি। আমরা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর কাছে তাঁর জন্য একটি বসার স্থান বানানোর জন্য অনুমতি চাইলাম যাতে নবাগত লোক তাঁকে সহজে চিনে নিতে পারে। আমরা তাঁর বসার জন্য মাটির একটি উঁচু স্থান নির্মাণ করলাম। তিনি (ﷺ) তার উপর বসতেন। একদিন আমরা বসা ছিলাম, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর স্থানে বসা ছিলেন। এমন সময় এক নবাগত লোক আসল, যে ছিল সর্বোত্তম সুন্দর চেহারার অধিকারী এবং যার শরীরের সুগন্ধি ছিল মোহনীয়। তাঁর কাপড়ে ছিল পরিচ্ছন্ন-পরিপাটি। সে ব্যক্তি বিছানার কাছে এসে সালাম দিয়ে বলল: হে মুহাম্মাদ! আপনাকে সালাম। তিনি (ﷺ) তাঁর সালামের উত্তর দিলে তিনি বললেন: আমি কি কাছে আসব? তিনি (ﷺ) বললেন: আসো। এভাবে কয়েকবার বললেন, আমি কি কাছে আসব। তিনি (ﷺ)-ও কয়েকবার উত্তরে বললেন, হ্যাঁ, কাছে আসো। এমনকি তিনি নিকটে এসে নিজ হাত রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর হাঁটুর উপর রেখে বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইসলাম সম্পর্কে অবহিত করুন। তিনি (ﷺ) বললেন: ইসলাম হলো তুমি আল্লাহ তা’আলার ইবাদত করবে এবং তাঁর সাথে কাউকে শরীক করবে না, সালাত প্রতিষ্ঠা করবে এবং যাকাত আদায় করবে, কাবা ঘরের হজ্জ করবে এবং রমজানের সাওম পালন করবে। তিনি বললেন: আমি যদি এটা করি, তবে কি আমি মুসলিম হিসেবে গণ্য হব? তিনি (ﷺ) বললেন, হ্যাঁ। সে ব্যক্তি বলল, আপনি সত্যই বলেছেন। ঐ ব্যক্তি ‘আপনি সত্য বলেছেন’ বাক্য শুনে আমাদের বিস্ময় লাগল। এরপর বললেন: হে মুহাম্মাদ! আমাকে ঈমান সম্বন্ধে বলুন? তিনি (ﷺ) বললেন: আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতাগণ, নবীগণ ও কিতাবের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা এবং তাকদিরে বিশ্বাস করা। তিনি বললেন: আমি যদি এরূপ করি, তবে কি আমি মুমিন হিসেবে গণ্য হব? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: হ্যাঁ। সে বলল: আপনি সত্য বলেছেন। তখন সে ব্যক্তি বলল : হে মুহাম্মাদ! আমাকে ইহসান সম্পর্কে বলুন। তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছো। যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, (তবে জেনে রাখ) তিনি তো তোমাকে দেখছেন। তখন সে বলল : আপনি সত্যই বলেছেন। তিনি আবার বললেন: হে মুহাম্মাদ! কেয়ামত কখন সংঘটিত হবে? তিনি (ﷺ) কিছু না বলে বরং মাথা নিচু করে রাখলেন। লোকটি আবারও সেই প্রশ্ন করল কিন্তু তিনি (ﷺ) তাকে কোনো জবাব দিলেন না। আবারও প্রশ্ন করল কিন্তু এবারও তিনি (ﷺ) তাকে কোনো জবাব দিলেন না। আবারও প্রশ্ন করল কিন্তু এবারও তিনি (ﷺ) তাকে কোনো জবাব দিলেন না। অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে বললেন: যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারী হতে বেশি জানেন নন। কিন্তু এর অনেক নিদর্শন রয়েছে তা তুমি জানতে পার। যখন তুমি দেখবে পশুপালের রাখালরা সুউচ্চ অট্টালিকা তৈরি করবে, আর তখন তুমি দেখবে নগ্ন পদ ও নগ্ন দেহ লোকেরা দেশে কর্তৃত্ব করবে। আরো তুমি দেখবে যে, দাসী তার মালিককে জন্ম দেবে, তখন মনে করবে যে, কেয়ামত সন্নিকটবর্তী হয়ে গেছে। আর পাঁচটি বস্তু আল্লাহ ছাড়া কেউ অবগত নয়। এরপর তিনি (ﷺ) ( إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ... إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ) “কেয়ামতের জ্ঞান কেবল আল্লাহর নিকটই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, জরায়ুতে কী আছে তা তিনিই জানেন। কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করবে, কেউ জানে না কোন জায়গায় সে মরবে। আল্লাহ সর্বজ্ঞ, সর্বাধিক অবহিত"- (সূরা লুকমান ৩১ : ৩৪); পাঠ করলেন। এরপর তিনি বললেন: এ সত্তার শপথ! যিনি মুহাম্মাদ-কে সত্য সহকারে পথপ্রদর্শক ও সুসংবাদদাতারূপে প্রেরণ করেছেন, আমি তাঁকে তোমাদের চাইতে অধিক জানি না। তিনি ছিলেন জিবরীল (আঃ) যিনি দিহইয়া আল কালবীরূপে আগমন করেছিলেন।
[১] অর্থ: “নিশ্চয়ই আল্লাহ্, তাঁর কাছে রয়েছে কিয়ামতের জ্ঞান, তিনি নাযিল করেন বৃষ্টি এবং তিনি জানেন যা রয়েছে মাতৃগর্ভে, কেউ জানে না সে আগামীকাল কি কামাই করবে আর কেউ জানে না কোন্ মাটিতে সে মারা যাবে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ সর্বজ্ঞানী ও সর্ব বিষয়ে অবহিত” (লুকমান : ৩৪)।
