২১/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৫৮ - কান্না, শাস্তি ও কুরআনের নীতিতে হাদিস যাচাই
মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কান্না করা
হাদিস যাচাই: কান্নার বর্ণনা ও কুরআনের স্পষ্ট নীতি
সুনানে আন-নাসায়ী : ১৮৫৮
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ১৮৫৮
أَخْبَرَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ مَنْصُورٍ الْبَلْخِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الْجَبَّارِ بْنُ الْوَرْدِ، سَمِعْتُ ابْنَ أَبِي مُلَيْكَةَ، يَقُولُ: لَمَّا هَلَكَتْ أُمُّ أَبَانَ حَضَرْتُ مَعَ النَّاسِ، فَجَلَسْتُ بَيْنَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ وَابْنِ عَبَّاسٍ فَبَكَيْنَ النِّسَاءُ، فَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: أَلَا تَنْهَى هَؤُلَاءِ عَنِ الْبُكَاءِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»، فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ، قَدْ كَانَ عُمَرُ، يَقُولُ بَعْضَ ذَلِكَ: خَرَجْتُ مَعَ عُمَرَ حَتَّى إِذَا كُنَّا بِالْبَيْدَاءِ رَأَى رَكْبًا تَحْتَ شَجَرَةٍ، فَقَالَ: انْظُرْ مَنِ الرَّكْبُ، فَذَهَبْتُ فَإِذَا صُهَيْبٌ وَأَهْلُهُ، فَرَجَعْتُ إِلَيْهِ، فَقُلْتُ: يَا أَمِيرَ الْمُؤْمِنِينَ، هَذَا صُهَيْبٌ وَأَهْلُهُ، فَقَالَ: عَلَيَّ بِصُهَيْبٍ، فَلَمَّا دَخَلْنَا الْمَدِينَةَ أُصِيبَ عُمَرُ، فَجَلَسَ صُهَيْبٌ يَبْكِي عِنْدَهُ يَقُولُ: وَا أُخَيَّاهُ وَا أُخَيَّاهُ، فَقَالَ عُمَرُ: يَا صُهَيْبُ لَا تَبْكِ، فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُولُ: «إِنَّ الْمَيِّتَ لَيُعَذَّبُ بِبَعْضِ بُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ» قَالَ: فَذَكَرْتُ ذَلِكَ لِعَائِشَةَ، فَقَالَتْ أَمَا وَاللَّهِ مَا تُحَدِّثُونَ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ كَاذِبَيْنِ مُكَذَّبَيْنِ، وَلَكِنَّ السَّمْعَ يُخْطِئُ، وَإِنَّ لَكُمْ فِي الْقُرْآنِ لَمَا يَشْفِيكُمْ {أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى} [النجم: 38] وَلَكِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ لَيَزِيدُ الْكَافِرَ عَذَابًا بِبُكَاءِ أَهْلِهِ عَلَيْهِ»
ইব্নু আবূ মুলাইকাহ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
'আবদুল জাব্বার ইবনু ওয়ার্দ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি ইবনু আবূ মুলায়কাহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন: যখন উম্মু আবান মৃত্যুবরণ করল, আমি লোকজনসহ সেখানে হাযির হয়ে 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমর (রাঃ) ও ইবনু 'আব্বাস (রাঃ)-এর সামনে বসলাম। তখন মহিলারা ক্রন্দন করলে ইবনু 'উমর (রাঃ) বললেন, এদের কান্না করা হতে কি নিষেধ করা হয়নি? কেননা, আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তির জন্যে তার আত্মীয়- স্বজনের কান্নার কারণে মৃত ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া হয়।তখন ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বললেন, 'উমর (রাঃ)-ও এরূপ বলেছিলেন। আমি 'উমর (রাঃ)-এর সঙ্গে বের হলাম। আমরা যখন "বায়দা” নামক প্রান্তরে পৌঁছলাম। তখন 'উমর (রাঃ) গাছের নীচে একদল আরোহীকে দেখে বললেন, দেখতো আরোহী কারা। আমি গিয়ে দেখলাম যে, সুহায়ব (রাঃ) এবং তাঁর পরিবারবর্গ। তখন আমি তাঁর কাছে এসে বললাম, হে আমীরুল মু'মিনীন! এরা সুহায়ব (রাঃ) এবং তাঁর পরিবারবর্গ। তখন তিনি বললেন, তুমি সুহায়বকে আমার সামনে হাযির কর।যখন আমরা মাদীনায় প্রবেশ করলাম এবং 'উমর (রাঃ) আঘাতপ্রাপ্ত হলেন, তখন সুহায়ব (রাঃ) তাঁর সামনে বসে এই বলে কান্না করছিলেন, হে আমার প্রিয় ভ্রাতা! হে আমার প্রিয় ভ্রাতা! তখন 'উমর (রাঃ) বললেন, হে সুহায়ব (রাঃ)! তুমি কান্না করো না, কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, মৃত ব্যক্তিকে তার জন্য তার কিছু আত্মীয়-স্বজনের কান্নার কারণে শাস্তি দেয়া হয়।ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলেন, আমি এ ঘটনা 'আয়িশাহ্ (রাঃ)-এর সামনে উল্লেখ করলে তিনি বললেন, আল্লাহর শপথ! তোমরা এমন কোন ব্যক্তি হতে হাদীস বর্ণনা করছ না যারা দু'জন মিথ্যাবাদী। তবে হ্যাঁ, কান কখনো কখনো ভুল করে বসে।নিশ্চয় তোমাদের জন্য কোরআনে এমন আয়াত আছে যা তোমাদের আশ্বস্ত করে দেবে: أَلَّا تَزِرُ وَازِرَةٌ وِزْرَ أُخْرَى “কোনো বহনকারী অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না”- [সূরা আন্ নাজম ৫৩: ৩৮]।হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: আল্লাহ কাফিরদের 'আযাবকে বৃদ্ধি করে থাকেন তার জন্য তার আত্মীয়-স্বজনের কান্না করার কারণে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ১৮৫৮-এর সারসংক্ষেপ
এই দীর্ঘ হাদিসে মৃতের জন্য আত্মীয়দের কান্না নিয়ে কয়েকজন সাহাবির বর্ণনা ও আলোচনা এসেছে। ইবন উমর (রাঃ) নারীদের কান্না থামাতে বলেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর একটি বাণী উল্লেখ করেন। ইবন আব্বাস (রাঃ) জানান, উমর (রাঃ)-ও একই ধরনের কথা বলতেন এবং সুহায়ব (রাঃ)-কে কান্না থেকে বিরত করেছিলেন। পরে আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে বিষয়টি বলা হলে তিনি উমর ও ইবন উমর (রাঃ)-কে মিথ্যাবাদী বলেননি; বরং বলেন, শ্রবণে ভুল হতে পারে। তিনি কুরআনের নীতি তুলে ধরেন—কেউ অন্যের পাপের বোঝা বহন করবে না। এরপর কাফিরের শাস্তি বৃদ্ধির নির্দিষ্ট বর্ণনা বলেন। হাদিস যাচাই এখানে মূল শিক্ষা। একই বিষয়ে একাধিক বর্ণনা, শব্দের পার্থক্য এবং কুরআনের নীতি মিলিয়ে বুঝতে হয়; তাড়াহুড়ো করে কাউকে দোষী করা যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- একই বিষয়ে একাধিক বর্ণনা একসঙ্গে দেখে বুঝতে হয়।
- শ্রবণ বা স্মৃতির ভুল মানেই ইচ্ছাকৃত মিথ্যা নয়।
- কুরআনের স্পষ্ট নীতি হাদিস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেয়।
- আয়িশা (রাঃ) সাধারণ বক্তব্যকে কাফিরের নির্দিষ্ট ঘটনার সঙ্গে ব্যাখ্যা করেছেন।
