২৪/৫৩. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৪৬ - হজ্জ-উমরা একসাথে আদায়ের আমল
‘উমরার ইহ্রাম করলে তার সাথে হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করা যাবে কি?
হজ্জ ও উমরা একসাথে: ইবনু উমর (রাঃ)-এর আমল
সুনানে আন-নাসায়ী : ২৭৪৬
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ২৭৪৬
أَخْبَرَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ: حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ ابْنَ عُمَرَ، أَرَادَ الْحَجَّ عَامَ نَزَلَ الْحَجَّاجُ، بَابْنِ الزُّبَيْرِ فَقِيلَ لَهُ: إِنَّهُ كَائِنٌ بَيْنَهُمْ قِتَالٌ، وَأَنَا أَخَافُ أَنْ يَصُدُّوكَ، قَالَ: «لَقَدْ كَانَ لَكُمْ فِي رَسُولِ اللَّهِ، أُسْوَةٌ حَسَنَةٌ، إِذًا أَصْنَعُ كَمَا صَنَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، إِنِّي أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ عُمْرَةً» ثُمَّ خَرَجَ حَتَّى إِذَا كَانَ بِظَاهِرِ الْبَيْدَاءِ، قَالَ: «مَا شَأْنُ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ إِلَّا وَاحِدٌ أُشْهِدُكُمْ أَنِّي قَدْ أَوْجَبْتُ حَجًّا مَعَ عُمْرَتِي» وَأَهْدَى هَدْيًا اشْتَرَاهُ بِقُدَيْدٍ، ثُمَّ انْطَلَقَ يُهِلُّ بِهِمَا جَمِيعًا حَتَّى قَدِمَ مَكَّةَ فَطَافَ بِالْبَيْتِ، وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ، وَلَمْ يَزِدْ عَلَى ذَلِكَ، وَلَمْ يَنْحَرْ، وَلَمْ يَحْلِقْ، وَلَمْ يُقَصِّرْ، وَلَمْ يَحِلَّ مِنْ شَيْءٍ حَرُمَ مِنْهُ حَتَّى كَانَ يَوْمُ النَّحْرِ فَنَحَرَ، وَحَلَقَ فَرَأَى أَنْ قَدْ قَضَى طَوَافَ الْحَجِّ وَالْعُمْرَةِ بِطَوَافِهِ الْأَوَّلِ، وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ: «كَذَلِكَ فَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ»
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নাফি' (রহঃ) হতে বর্ণিত। [একবার] ইবনু 'উমর (রাঃ) হজ্জের ইচ্ছা করলেন। যে বছর হজ্জাজ [বিন ইউসুফ] ইবনুয যুবায়র (রাঃ)-এর সাথে যুদ্ধ করার জন্য এসেছিল। তাঁকে বলা হলো যে, তাদের মধ্যে যুদ্ধ লেগে যাবে এবং আমার ভয় হচ্ছে, তারা আপনাকে হজ্জ করতে বাধা প্রদান করবে। তিনি বললেন : “তোমাদের জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মধ্যে উত্তম আদর্শ রয়েছে।" যদি অবস্থা এমন হয়, তবে আমি তা-ই করব যা রাসূলুল্লাহ (ﷺ) করেছিলেন। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি যে, আমি আমার ওপর 'উমরাহ্ ওয়াজিব করে নিয়েছি। এই বলে তিনি রওনা হলেন।পরে যখন 'বায়দা' নামক স্থানে হাযির হয়ে বললেন: হজ্জ এবং 'উমরার একই রকম। আমি তোমাদেরকে সাক্ষী করে বলছি, আমি আমার 'উমরার সাথে হজ্জও ওয়াজিব করে নিয়েছি। তিনি একটি 'হাদিয়' সাথে নিলেন, যা কুদায়দ নামক স্থান থেকে কিনেছিলেন। তিনি হজ্জ এবং 'উমরাহ্ উভয়ের তালবিয়াহ্ পড়তে পড়তে অগ্রসর হলেন। পরে মাক্কায় আগমন করে বায়তুল্লাহ্ ত্বওয়াফ এবং সফা ও মারওয়ার সা'ঈ করেন। এর অতিরিক্ত তিনি কিছু করেননি। হাদিয় যাবাহ করলেন না, মাথা মুণ্ডালেন না, চুলও কাটলেন না।যে সকল বস্তু হারাম ছিল, তার কোনোটি থেকে 'হালাল' হলেন না। এভাবে কুরবানীর দিন হাযির হলো। তারপর তিনি হাদিয় যাবাহ করলেন ও মাথা মুণ্ডন করলেন। তারপর তিনি মনে করলেন যে, প্রথম ত্বওয়াফ দ্বারাই হজ্জ ও 'উমরার ত্বওয়াফ পূর্ণ করেছেন। ইবনু 'উমর (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এরূপই করেছেন।
[১] নাদুহ এক প্রকার সুগন্ধি, যার সৌরভ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ২৭৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমর (রাঃ)-এর একটি বাস্তব সিদ্ধান্তের কথা এসেছে। যুদ্ধের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে উত্তম আদর্শ বলেন এবং প্রথমে উমরার ইহরাম করেন। পরে বায়দা নামক স্থানে এসে বলেন, হজ্জ ও উমরার বিষয় একই ধরনের, তাই তিনি উমরার সাথে হজ্জও নিজের ওপর ওয়াজিব করে নেন। তিনি কুদায়দ থেকে কেনা হাদী সাথে নেন এবং হজ্জ ও উমরা উভয়ের তালবিয়া পড়তে পড়তে মক্কায় যান। সেখানে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ ও সাফা-মারওয়ার সাঈ করেন। কুরবানির দিন পর্যন্ত হাদী যবেহ, মাথা মুণ্ডানো, চুল কাটা বা ইহরাম ভাঙা করেননি। পরে হাদী যবেহ ও মাথা মুণ্ডনের পর তিনি মনে করেন প্রথম তাওয়াফেই হজ্জ ও উমরার তাওয়াফ আদায় হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এভাবেই করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর আমলকে হজ্জের ক্ষেত্রে আদর্শ হিসেবে নেওয়া হয়েছে।
- হজ্জ ও উমরার ইহরাম একসাথে নেওয়ার বিষয় এই বর্ণনায় এসেছে।
- হাদী থাকলে কুরবানির দিন পর্যন্ত ইহরাম না ভাঙার আমল দেখা যায়।
- তাওয়াফ ও সাঈ হজ্জ-উমরার প্রধান কাজ হিসেবে এসেছে।
