২৫/২৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৫০ - নিজের অস্ত্রের আঘাতেও শহীদের মর্যাদা
যুদ্ধক্ষেত্রে ভুলবশত নিজের তলোয়ারের আঘাতে শাহীদ হলে
নিজের অস্ত্রের আঘাতে মৃত্যু ও শহীদের মর্যাদা
সুনানে আন-নাসায়ী : ৩১৫০
সুনানে আন-নাসায়ীহাদিস নম্বর ৩১৫০
أَخْبَرَنَا عَمْرُو بْنُ سَوَّادٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنْ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ: أَخْبَرَنِي عَبْدُ الرَّحْمَنِ، وَعَبْدُ اللَّهِ، ابْنَا كَعْبِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ سَلَمَةَ بْنَ الْأَكْوَعِ، قَالَ: لَمَّا كَانَ يَوْمُ خَيْبَرَ قَاتَلَ أَخِي قِتَالًا شَدِيدًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَارْتَدَّ عَلَيْهِ سَيْفُهُ فَقَتَلَهُ، فَقَالَ أَصْحَابُ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي ذَلِكَ وَشَكُّوا فِيهِ رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ، قَالَ سَلَمَةُ: فَقَفَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِنْ خَيْبَرَ، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَتَأْذَنُ لِي أَنْ أَرْتَجِزَ بِكَ، فَأَذِنَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ: اعْلَمْ مَا تَقُولُ، فَقُلْتُ:[البحر الرجز]وَاللَّهِ لَوْلَا اللَّهُ مَا اهْتَدَيْنَا ... وَلَا تَصَدَّقْنَا وَلَا صَلَّيْنَافَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «صَدَقْتَ»فَأَنْزِلَنْ سَكِينَةً عَلَيْنَا ... وَثَبِّتِ الْأَقْدَامَ إِنْ لَاقَيْنَاوَالْمُشْرِكُونَ قَدْ بَغَوْا عَلَيْنَافَلَمَّا قَضَيْتُ رَجَزِي، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَنْ قَالَ هَذَا؟» قُلْتُ: أَخِي، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَرْحَمُهُ اللَّهُ»، فَقُلْتُ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، وَاللَّهِ إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ يَقُولُونَ: رَجُلٌ مَاتَ بِسِلَاحِهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا» قَالَ ابْنُ شِهَابٍ: ثُمَّ سَأَلْتُ ابْنًا لِسَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ، فَحَدَّثَنِي، عَنْ أَبِيهِ، مِثْلَ ذَلِكَ، غَيْرَ أَنَّهُ قَالَ حِينَ قُلْتُ: إِنَّ نَاسًا لَيَهَابُونَ الصَّلَاةَ عَلَيْهِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «كَذَبُوا، مَاتَ جَاهِدًا مُجَاهِدًا، فَلَهُ أَجْرُهُ مَرَّتَيْنِ»، وَأَشَارَ بِأُصْبُعَيْهِ
সালামাহ ইবনুল আকওয়া‘ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
খায়বার যুদ্ধে আমার ভাই রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে [নেতৃত্বে] ভীষণ যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারি তাঁর ওপর এসে লাগে ফলে তিনি শহীদ হন। রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাহাবীগণ (রাঃ) এ সম্পর্কে মন্তব্য করতে এবং তাঁর সম্পর্কে সন্দেহ পোষণ করতে লাগলেন। তাঁরা বললেন, তিনি এমন এক ব্যক্তি, যার মৃত্যু হয়েছে তাঁর নিজেরই অস্ত্রে।সালামাহ্ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে খায়বার হতে ফেরার সময় আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! আপনার সামনে কবিতা আবৃত্তি করার অনুমতি দিবেন কি? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে অনুমতি দিলেন। তখন 'উমর ইবনুল খাত্ত্বাব (রাঃ) বললেন, তুমি যা বলবে বুঝে শুনে বলবে। আমি ('আল বাহ্' [সমুদ্র] নামক কবিতার একটি অংশ) বললাম, “আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি আমাদের হিদায়াত না করতেন, তাহলে না আমরা হিদায়াত পেতাম, না আমরা দান-সদাক্বাহ্ করতাম, আর না আমরা সালাত আদায় করতাম।" রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: 'তুমি সত্যই বলেছ'। "[হে আল্লাহ] আপনি আমাদের ওপর শান্তি অবতীর্ণ করুন, আর যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমাদের অটল রাখুন। মুশরিকরা আমাদের ওপর বিদ্রোহী হয়ে গেছে।"আমার কবিতা পাঠ শেষ হলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: এটা কে বলেছে? আমি বললাম: আমার ভাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: আল্লাহ তাঁর প্রতি অনুগ্রহ করুন। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)! লোকেরা তাঁর জন্য দোয়া করতে ভয় পায়। তাঁরা বলে: এ ব্যক্তি নিজের অস্ত্রে নিজেই মারা গেছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, সে জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়েছে।ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামাহ্ ইবনু আক্তয়া' (রাঃ)-এর এক ছেলেকে জিজ্ঞেস করলে, তিনি তাঁর পিতা হতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করলেন। উপরন্তু তিনি বললেন, যখন আমি বললাম, লোকেরা তাঁর জন্য দোয়া করতে দ্বিধাবোধ করছে। তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: তাঁরা মিথ্যা বলছে। সে মুজাহিদের ন্যায় যুদ্ধ করেছে, তাঁর জন্য দ্বিগুণ সাওয়াব রয়েছে। [এ সময়] তিনি তাঁর দু'টি আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করলেন।
[১] তুমি আগে যেমন ছিলে এখনও সেরূপ থাক। এর অর্থ তুমি এখনও বীরের ন্যায় থাক, ওদের সাথে তুমি এখন যুদ্ধ করো না, পরে দেখা যাবে।
সুনানে আন-নাসায়ী হাদিস ৩১৫০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: শহীদের মর্যাদা। এই হাদিসে সালামা ইবন আকওয়া (রাঃ)-এর ভাইয়ের ঘটনা এসেছে। খায়বার যুদ্ধে তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে কঠিন যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারি তাঁর ওপর ফিরে আসে এবং তিনি নিহত হন। কিছু সাহাবী বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ করেন, কারণ মৃত্যু নিজের অস্ত্রের আঘাতে হয়েছিল। পরে সালামা (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে কবিতার অংশ পড়েন, যেখানে আল্লাহর হিদায়াত, সালাত, দান এবং যুদ্ধক্ষেত্রে স্থির থাকার দোয়া ছিল। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তাঁর কথাকে সত্য বলেন। যখন সালামা (রাঃ) জানান, লোকেরা তাঁর ভাইয়ের জন্য দোয়া করতে ভয় পাচ্ছে, তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, সে জিহাদ করতে করতে শহীদ হয়েছে। আরেক বর্ণনায় এসেছে, সে মুজাহিদের মতো যুদ্ধ করেছে এবং তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে। এই হাদিস তাড়াহুড়া করে সন্দেহ না করা এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনাকে গুরুত্ব দেওয়ার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বাহ্যিক ঘটনার কারণে কারও মর্যাদা নিয়ে তাড়াহুড়া করে সন্দেহ করা ঠিক নয়।
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ওই সাহাবীর জিহাদ ও শহীদের মর্যাদা নিশ্চিত করেছেন।
- আল্লাহর হিদায়াত, সালাত ও স্থিরতার কথা কবিতায় সুন্দরভাবে এসেছে।
