২৭/৩৮. অধ্যায়ঃ
লি'আনের নিয়ম
সুনানে নাসাঈ : ৩৪৬৯
সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৩৪৬৯
أَخْبَرَنَا عِمْرَانُ بْنُ يَزِيدَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ حُسَيْنٍ الْأَزْدِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ حَسَّانَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ سِيرِينَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: إِنَّ أَوَّلَ لِعَانٍ كَانَ فِي الْإِسْلَامِ أَنَّ هِلَالَ بْنَ أُمَيَّةَ قَذَفَ شَرِيكَ بْنَ السَّحْمَاءِ بِامْرَأَتِهِ، فَأَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَأَخْبَرَهُ بِذَلِكَ، فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرْبَعَةَ شُهَدَاءَ وَإِلَّا فَحَدٌّ فِي ظَهْرِكَ» يُرَدِّدُ ذَلِكَ عَلَيْهِ مِرَارًا، فَقَالَ لَهُ هِلَالٌ: وَاللَّهِ يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ لَيَعْلَمُ أَنِّي صَادِقٌ، وَلَيُنْزِلَنَّ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ عَلَيْكَ مَا يُبَرِّئُ ظَهْرِي مِنَ الْجَلْدِ، فَبَيْنَمَا هُمْ كَذَلِكَ إِذْ نَزَلَتْ عَلَيْهِ آيَةُ اللِّعَانِ {وَالَّذِينَ يَرْمُونَ أَزْوَاجَهُمْ} [النور: 6] إِلَى آخِرِ الْآيَةِ، فَدَعَا هِلَالًا فَشَهِدَ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الصَّادِقِينَ، وَالْخَامِسَةُ أَنَّ لَعْنَةَ اللَّهِ عَلَيْهِ إِنْ كَانَ مِنَ الْكَاذِبِينَ، ثُمَّ دُعِيَتِ الْمَرْأَةُ فَشَهِدَتْ أَرْبَعَ شَهَادَاتٍ بِاللَّهِ إِنَّهُ لَمِنَ الْكَاذِبِينَ، فَلَمَّا أَنْ كَانَ فِي الرَّابِعَةِ أَوِ الْخَامِسَةِ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «وَقِّفُوهَا فَإِنَّهَا مُوجِبَةٌ»، فَتَلَكَّأَتْ حَتَّى مَا شَكَكْنَا أَنَّهَا سَتَعْتَرِفُ، ثُمَّ قَالَتْ: لَا أَفْضَحُ قَوْمِي سَائِرَ الْيَوْمِ، فَمَضَتْ عَلَى الْيَمِينِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «انْظُرُوهَا، فَإِنْ جَاءَتْ بِهِ أَبْيَضَ سَبِطًا قَضِيءَ الْعَيْنَيْنِ فَهُوَ لِهِلَالِ بْنِ أُمَيَّةَ، وَإِنْ جَاءَتْ بِهِ آدَمَ جَعْدًا رَبْعًا حَمْشَ السَّاقَيْنِ فَهُوَ لِشَرِيكِ بْنِ السَّحْمَاءِ»، فَجَاءَتْ بِهِ آدَمَ جَعْدًا رَبْعًا حَمْشَ السَّاقَيْنِ، فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَوْلَا مَا سَبَقَ فِيهَا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ لَكَانَ لِي وَلَهَا شَأْنٌ» قَالَ الشَّيْخُ " وَالْقَضِئُ طَوِيلُ شَعْرِ الْعَيْنَيْنِ، لَيْسَ بِمَفْتُوحِ الْعَيْنِ وَلَا جَاحِظِهِمَا، وَاللَّهُ سُبْحَانَهُ وَتَعَالَى أَعْلَمُ
আনাস ইবন মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইসলামে সর্বপ্রথম লি‘আন এরূপ ছিল, হিলাল ইবন উমাইয়া (রাঃ) এ পদ্ধতিতে তাঁর স্ত্রীর ব্যাপারে শরীক ইবন সহমা’র ওপর ব্যভিচারের অপবাদ দেন এবং নবী (ﷺ)-এর নিকট এসে তা জানান। তিনি তাকে বলেন: “চারজন সাক্ষী আনো, তা না হলে তোমার পিঠে হাদ্দ প্রয়োগ করা হবে।” তিনি তাকে কয়েকবার এ কথা বললেন। তখন হিলাল (রাঃ) বললেন: “হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম, মহান ও মহীয়ান আল্লাহ জানেন, আমি সত্য বলছি এবং আল্লাহ তা’আলা আপনার ওপর এমন কিছু নাজিল করবেন যা আমার পিঠকে চাবুক হতে নিরাপদ রাখবে।” এভাবে কথা চলছিল, এমন সময় লি‘আনের আয়াত নাজিল হলো:"যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি যিনার অপবাদ দেয়, অথচ নিজেরা ছাড়া কোনো সাক্ষী তাদের নেই, তাদের প্রত্যেকে আল্লাহর নামে চারবার কসম করে বলবে, সে অবশ্যই সত্যবাদী এবং পঞ্চমবার বলবে: যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার ওপর আল্লাহর লা‘নাত বর্ষিত হোক। আর স্ত্রীর ওপর হতে শাস্তি এভাবে রহিত হবে, সে আল্লাহর নামে কসম করে চারবার এভাবে সাক্ষ্য দিবে যে, তার স্বামীই মিথ্যা বলছে। পঞ্চমবারে বলবে: তার ওপর আল্লাহর গজব, যদি সে (তার স্বামী) সত্যবাদী হয়"- (সূরা আন-নূর ২৪: ৬)।এরপর রসূলুল্লাহ (ﷺ) হিলাল (রাঃ)-কে ডাকলেন, সে আল্লাহর নামে চারবার কসম করে বলল, সে অবশ্যই সত্যবাদী। আর পঞ্চমবারে বলল: যদি সে মিথ্যাবাদী হয়, তবে তার ওপর আল্লাহর লা‘নাত বর্ষিত হোক। এরপর তার স্ত্রীকে ডাকা হলো। সেও চারবার আল্লাহর নামে কসম করে বলল, অবশ্যই ঐ ব্যক্তি নিশ্চিত মিথ্যাবাদী। বর্ণনাকারী বলেন, চতুর্থ অথবা পঞ্চমবার সাক্ষ্য দেয়ার সময় রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “তোমরা এই মহিলাকে বিরত রাখ। কেননা এ সাক্ষ্য অতি শীঘ্রই কার্যকর হবে।”বর্ণনাকারী বলেন: তখন ঐ মহিলা থমকে গেল এবং আমরা সন্দিহান হলাম। হয়তো সে এখন দোষ স্বীকার করবে। কিন্তু সে বলল: “আমি আমার সম্প্রদায়কে সারা দিনের জন্য কলঙ্কিত করবো না।” এই কথা বলে সে কসম সম্পন্ন করল।তখন রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “এর প্রতি নজর রাখ, যদি সে ফর্সা, সিদ্বা চোখের সন্তান প্রসব করে, তবে সে হবে হিলাল ইবন উমাইয়ার সন্তান। আর যদি সে কালো, কোঁকড়ানো চুল, হালকা গড়নের এবং পাতলা পা বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করে, তবে সেটা হবে শরীক ইবন সহমা’র সন্তান।”রাবী বলেন: সে কালো, কোঁকড়ানো চুল, হালকা গড়ন, পাতলা পা-বিশিষ্ট সন্তান প্রসব করল। সন্তান প্রসবের পর রসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন: “যদি তার সম্পর্কে আল্লাহর কিতাবের আদেশ পূর্বেই প্রদত্ত না হতো, তাহলে তার সাথে আমার একটি সমঝোতা হত।”
