৫০/১২. অধ্যায়ঃ

মহান ও মহীয়ান আল্লাহ বলেন: “...আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তদানুযায়ী যারা বিচার ফায়সালা করে না, তারাই কাফির।” (সূরাহ্ আল মায়িদাহ্ ৫:৪৪)

সুনানে নাসাঈহাদিস নম্বর ৫৪০০

أَخْبَرَنَا الْحُسَيْنُ بْنُ حُرَيْثٍ، قَالَ: أَنْبَأَنَا الْفَضْلُ بْنُ مُوسَى، عَنْ سُفْيَانَ بْنِ سَعِيدٍ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: " كَانَتْ مُلُوكٌ بَعْدَ عِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ عَلَيْهِ الصَّلَاة وَالسَّلَامُ بَدَّلُوا التَّوْرَاةَ وَالْإِنْجِيلَ، وَكَانَ فِيهِمْ مُؤْمِنُونَ يَقْرَءُونَ التَّوْرَاةَ قِيلَ لِمُلُوكِهِمْ: مَا نَجِدُ شَتْمًا أَشَدَّ مِنْ شَتْمٍ يَشْتِمُونَا هَؤُلَاءِ، إِنَّهُمْ يَقْرَءُونَ: {وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ} [المائدة: 44]، وَهَؤُلَاءِ الْآيَاتُ مَعَ مَا يَعِيبُونَا بِهِ فِي أَعْمَالِنَا فِي قِرَاءَتِهِمْ، فَادْعُهُمْ فَلْيَقْرَءُوا كَمَا نَقْرَأُ، وَلْيُؤْمِنُوا كَمَا آمَنَّا، فَدَعَاهُمْ، فَجَمَعَهُمْ، وَعَرَضَ عَلَيْهِمُ الْقَتْلَ أَوْ يَتْرُكُوا قِرَاءَةَ التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، إِلَّا مَا بَدَّلُوا مِنْهَا، فَقَالُوا: مَا تُرِيدُونَ إِلَى ذَلِكَ، دَعُونَا، فَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ: ابْنُوا لَنَا أُسْطُوَانَةً ثُمَّ ارْفَعُونَا إِلَيْهَا، ثُمَّ اعْطُونَا شَيْئًا نَرْفَعُ بِهِ طَعَامَنَا وَشَرَابَنَا، فَلَا نَرِدُ عَلَيْكُمْ. وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ: دَعُونَا نَسِيحُ فِي الْأَرْضِ، وَنَهِيمُ وَنَشْرَبُ كَمَا يَشْرَبُ الْوَحْشُ، فَإِنْ قَدَرْتُمْ عَلَيْنَا فِي أَرْضِكُمْ فَاقْتُلُونَا. وَقَالَتْ طَائِفَةٌ مِنْهُمْ: ابْنُوا لَنَا دُورًا فِي الْفَيَافِي، وَنَحْتَفِرُ الْآبَارَ، وَنَحْتَرِثُ الْبُقُولَ فَلَا نَرِدُ عَلَيْكُمْ، وَلَا نَمُرُّ بِكُمْ، وَلَيْسَ أَحَدٌ مِنَ الْقَبَائِلِ إِلَّا وَلَهُ حَمِيمٌ فِيهِمْ. قَالَ: فَفَعَلُوا ذَلِكَ، فَأَنْزَلَ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ: {وَرَهْبَانِيَّةً ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَاهَا عَلَيْهِمْ إِلَّا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا} [الحديد: 27] وَالْآخَرُونَ قَالُوا: نَتَعَبَّدُ كَمَا تَعَبَّدَ فُلَانٌ، وَنَسِيحُ كَمَا سَاحَ فُلَانٌ، وَنَتَّخِذُ دُورًا كَمَا اتَّخَذَ فُلَانٌ، وَهُمْ عَلَى شِرْكِهِمْ، لَا عِلْمَ لَهُمْ بِإِيمَانِ الَّذِينَ اقْتَدَوْا بِهِ، فَلَمَّا بَعَثَ اللَّهُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَلَمْ يَبْقَ مِنْهُمْ إِلَّا قَلِيلٌ، انْحَطَّ رَجُلٌ مِنْ صَوْمَعَتِهِ، وَجَاءَ سَائِحٌ مِنْ سِيَاحَتِهِ، وَصَاحِبُ الدَّيْرِ مِنْ دَيْرِهِ، فَآمَنُوا بِهِ، وَصَدَّقُوهُ، فَقَالَ اللَّهُ تَبَارَكَ وَتَعَالَى: {يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَآمِنُوا بِرَسُولِهِ يُؤْتِكُمْ كِفْلَيْنِ مِنْ رَحْمَتِهِ} [الحديد: 28] أَجْرَيْنِ بِإِيمَانِهِمْ بِعِيسَى وَبِالتَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ، وَبِإِيمَانِهِمْ بِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَتَصْدِيقِهِمْ. قَالَ: يَجْعَلْ لَكُمْ نُورًا تَمْشُونَ بِهِ الْقُرْآنَ، وَاتِّبَاعَهُمُ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: {لِئَلَّا يَعْلَمَ أَهْلُ الْكِتَابِ} [الحديد: 29] يَتَشَبَّهُونَ بِكُمْ {أَلَّا يَقْدِرُونَ عَلَى شَيْءٍ مِنْ فَضْلِ اللَّهِ} [الحديد: 29] الْآيَةَ "...[حكم الألباني] صحيح الإسناد موقوف

ইব্‌ন আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

ঈসা ইবনু মারয়াম (আঃ)-এর পর এমন কয়েকজন বাদশাহ ছিলেন, যারা তাওরাত এবং ইঞ্জিলে পরিবর্তন করেন। তাদের মধ্যে এমন কিছু ঈমানদার লোকও ছিলেন, যারা তাওরাত পাঠ করতেন। তখন তাদের বাদশাহদেরকে বলা হলো- এ সকল লোক আমাদেরকে যে গালি দিচ্ছে, এর চেয়ে অবমাননাকর গালি আর কি হতে পারে? এ সকল লোক পাঠ করে: “যারা আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান দ্বারা ফায়সালা প্রদান করে না, তারা কাফির” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫: ৪৪)।তাদের পঠিত আয়াত এবং ঐ সকল আয়াত, যাতে আমাদের কর্মকাণ্ডের দোষ প্রকাশ পায়। তাদেরকে বলুন, আমরা যেভাবে পাঠ করি, আর আমরা যেভাবে ঈমান এনেছি, তারাও যেন সেভাবে ঈমান আনে। বাদশাহ তাদের সকলকে একত্র ডেকে প্রস্তাব দিলেন যে, হয় তোমরা [মূল] তাওরাত ও ইঞ্জিল পাঠ করা ত্যাগ করা, নয়তো মৃত্যুদণ্ডকে গ্রহণ কর। তবে হ্যাঁ, তোমরা শুধুমাত্র আমাদের পরবর্তী কিতাবসমূহ পাঠ করতে পারবে। তারা বলল: তোমরা আমাদের যে প্রস্তাব দিচ্ছ, এর দ্বারা তোমাদের উদ্দেশ্য কী? আমাদেরকে আমাদের অবস্থায় ছেড়ে দাও। তাদের একদল বলল: আমাদের জন্য একটি স্তম্ভ তৈরি কর, এরপর আমাদেরকে তাতে তুলে দাও এবং খাদ্য ও পানীয় ব্যবস্থা করে দাও যাতে আমাদের আর তোমাদের কাছে আসতে না হয়।তাদের আর একদল বলল: আমাদেরকে ছেড়ে দাও, আমরা পৃথিবীতে ঘুরে বেড়াব এবং বন্য পশুর ন্যায় আহার ও পান করব। আর এরপর যদি আমাদেরকে তোমাদের দেশে পাও, তবে আমাদেরকে হত্যা করো।তাদের আর একদল বলল: মরুভূমিতে আমাদের জন্য এমন একটি স্থান নির্ধারণ করে দাও, যেখানে আমরা কূপ খনন করব এবং তরি-তরকারি চাষাবাদ করব, আমরা তোমাদের কাছেও আসব না এবং তোমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করব না। আর এমন কোন গোত্র ছিল না, যাতে তাদের আত্মীয়-স্বজন না ছিল। পরে তারা তাই করল। তখন আল্লাহ তা'আলা আয়াত নাযিল করেন : "...আর বৈরাগ্যবাদ- তা তারা নিজেরাই নতুনভাবে চালু করেছে আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আমি তাদের ওপর এ বিধান অপরিহার্য করিনি। আর সেটাও তারা লালন করতে পারেনি যেভাবে তা লালন করা প্রয়োজন ছিল..." (সূরা আল-হাদীদ ৫৭: ২৭)।অন্যান্য লোকেরা বলতে লাগল : আমরাও ইবাদত-বন্দেগী করব, যেমন অমুক লোকেরা করে থাকে। অথচ তারা শরীক ছিল, তারা যাদের অনুসরণ করছিল, তারা তাদের ঈমান সম্বন্ধেও অবগত ছিল না। যখন আল্লাহ তা'আলা নবী (ﷺ)-কে প্রেরণ করলেন, তখন তাদের মধ্যে কিছু লোক অবশিষ্ট ছিল। তাদের মধ্যে যে ইবাদতখানায় ছিল, সে ইবাদতখানা হতে বেরিয়ে আসলো, বৈরাগ্যবাদী তার বৈরাগ্যতা হতে ফিরে আসলো, গির্জাবাসী তার গির্জা হতে বেরিয়ে আসলো। তারা তাঁর প্রতি ঈমান আনল এবং তাঁকে সত্যায়িত করল। এ সম্পর্কে আল্লাহ তা'আলা বলেন, “হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর তাঁর রাসূলের প্রতি ঈমান আন, তিনি তাঁর অনুগ্রহে তোমাদেরকে দ্বিগুণ পুরস্কার দিবেন..." (সূরা আল-হাদীদ ৫৭: ২৮)।এটা এজন্য যে, ঈসা (আঃ) ও তাওরাত-ইঞ্জিলে বিশ্বাস স্থাপন করেছে। আর দ্বিতীয়ত মুহাম্মাদ (ﷺ) এর ওপর ঈমান আনা এবং তাঁকে সত্যবাদী জানার কারণে। তিনি তোমাদের জন্য আলোকস্বরূপ করেছেন যার দ্বারা তোমরা পথ চলতে পার অর্থাৎ কুরআনের দ্বারা। আর নবী (ﷺ)-কে তাদের অনুসরণ করার জন্য আল্লাহ বলেন, "...আর তিনি তোমাদের জন্য আলোর ব্যবস্থা করবেন যা দিয়ে তোমরা পথ চলবে, আর তিনি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিবেন। আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, অতি দয়ালু" (সূরা আল-হাদীদ ৫৭: ২৯)।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন